Life style লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
Life style লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ২৭ জুন, ২০২০

ঈশতি'র গল্প - "অপেক্ষার প্রহর"

রাত যখন ১২টা তখন তুরাজ বারান্দায় বসে হুমায়ুন আহমেদ স্যারের অপেক্ষা বইটি পড়ছিল, হঠাৎ বইটি পড়া শেষ হলে সে এক পলকে চাঁদের দিকে তাকিয়ে রইলো। আর নিজেই নিজেকে বলল, অপেক্ষা আসলে যে কতটা কষ্টের তা আমার থেকে ভালো কে ই বা বুঝবে। এরপর সে তার রুমে ঢুকে টেবিল থেকে একটি ডায়েরি এবং একটি ছবি বের করে  (ছবিটিতে তার সাথে একটি মেয়ে ছিল) কান্না করতে করতে লিখে  "I am a  failure".  

লেখকের সব লেখা এখানে

এর পর সে শুয়ে শুয়ে চিন্তা করে তার অপেক্ষা কি কোন দিনও শেষ হবে না। পর দিন সকালে সে নামাজ পড়ে তার অফিসে চলে যায়। এর কিছু দিন পর তাকে বদলি করে দেওয়া হয় আমেরিকার নিউইয়র্ক শহর এ। সে তা জানার পর থেকেই তার মধ্যে একটি অদৃশ্য অনুভূতি কাজ করছিল। কারণ সেই  শহরের সাথে তার ছিল অনেক গভীর সম্পর্ক।কিন্তু তুরাজের বাবা মা তাকে সেখানে যেতে দিবে না, তাও সে অনেক কষ্টে তাদের বুঝিয়ে তাদেরকে. নিয়েই সেখানে যায়।
সে সিদ্ধান্ত নেয় যে সে মেয়েটিকে খুঁজে বের করবেই কিন্তু তার ভয়ে ছিল যে সে কি পারবে নাকি, কারণ তার কাছে সেই ছবি আর মেয়েটির নাম ছাড়া কিছুই ছিল না। সে অনেক কষ্ট করে খোঁজার জন্য,পারে না। প্রায় এক মাস পর,,,
সেদিন বাসায় তুরাজের বাবা মা ছিল না, সে তার বাবা মার রুমে ঢুকে আলমারিতে অনেক খোঁজাখুঁজির পর একটা কাগজ খুঁজে পায় আর সেই কাগজ থেকে এমন একটা জায়গার নাম পায় , যেটা তার আশা বাড়িয়ে দেয়, আসলে সেটা ছিল একটি এতিমখানার ঠিকানা। সে যায় ওই এতিমখানায় এবং তাহা নামের মেয়েটির কথা জিজ্ঞেস করে কিন্তু সেখানে কর্মীরা কিছু বলে নাই। সে অনেক চেষ্টা করে কিন্তু কিছুই হয় না। এরপর সে তার পরিচয় তা দেয় যে সেও এইখানেরই একটা বাচ্চা ছিল তাও কিছু হয় না। পরে সে হতাশ হয়ে চলে আসে। এরপর থেকে সে সবসময়ই সেখানে যেতো।

লেখকের সব লেখা এখানে

একদিন তুরাজ আবারও সেখানের  অন্য একজনের সাথে কথা বলতে গেলেই সে দেখে একটি মেয়ে ওই মানুষটিকে জিজ্ঞেস করছে, "আপনি কি আহান নামের ছেলেটি সম্পর্কে কিছু বলতে পারবেন" কিন্তু মেয়েটি ও কিছু জানতে পারল না এবং সেখান থেকে চলে যায় আর তুরাজ অপলক দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে থাকে। এর পর মুহূর্তেই তুরাজ মেয়েটির পিছনে দৌড়ে যায় এবং জিজ্ঞেস করে  ( বাংলাতে) "ছেলেটি আপনার কে হয় ?" মেয়ে তাকে ইংরেজিতে বলে." Who are you? " তখন তুরাজ  তাকে তাহা বলে ডাকে এবং পকেট থেকে সেই ছবিটি বের করে তাকে দেখায়
আর মেয়েটি কান্না কান্না গলায় ভাইয়া বলে ডেকে তুরাজকে জড়িয়ে ধরে..
এভাবেই  দুই ভাইবোন দুইজনকে খুঁজে পেতে সফল হয়।

লেখকের সব লেখা এখানে 

 আহান (তুরাজ)  তাহা আর তাদের বাবা মা বাংলাদেশী ছিল কিন্তু তারা চার জনই ছিল আমেরিকার নাগরিকত্ব প্রাপ্ত।  তাদের বয়স যখন ৫ কিংবা ৭ তখন তাদের বাবা মা মারা যায় এবং আমেরিকার সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তাদের দাদা দাদী রা থাকা সত্ত্বেও তাদের কে এতিমখানায় নিয়ে যাওয়া হয়। আর দুজনকে আলাদা পরিবারে দিয়ে দেওয়া হয়।
কিন্তু খুব ছোট বেলায় তাদের কে এইটা সম্পর্কে বলে তাদের বাবা মা এবং এও বলে যে যদি এমন হয় তাহলে যেনো তারা তাদের দুই জনকে খুঁজে বের করে......
এইভাবেই প্রায় ২৫বছর পর তারা আবার একসাথে হয়....

লেখকের সব লিখা এখানে
- Esrat Jahan Eiste 
-12 th grade student 
- Bangladesh Navy College Chattogram


রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

রুমমেটের কলমের আঘাতে রক্তাক্ত আসমা-




ঠুনকো বিষয় নিয়ে কথা কাটা কাটির এক পর্যায়ে মেজাজ নিয়ন্ত্রনের বাহিরে চলে গেলে নিজ রুমমেটকে আঘাতে জর্জরিত করে অপর রুমমেট। ভুক্তভোগীর মাথায় তেমন বড় কোন আঘাত না লাগলেও মনে খুব ব্যথা পেয়েছে - তাকে নিকটস্হ মনো-চিকিৎসালয়ে ভর্তি করানো হয়েছে। 

আজ বৃহস্পতিবার বিকেল চারটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় কাজ সেরে হলে ফিরলে নিজ রুমমেট আকলিমা আক্তার(২২) এর সাথে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত করে আসমা খানম(২৩)। আকলিমা আক্তারের চিৎকার শুনে পাশের রুম থেকে বিবি কুলসুম এসে দেখে আকলিমার মাথা থেকে ফোটা ফোটা রক্ত বের হচ্ছে আর সে চিৎকারে কাতরাচ্ছে। এসময় বিবি কুলসুম তাদের দুজন সম্পর্কে বলেন, "তারা প্রায়ই সামান্য বিষয় নিয়ে ঝগড়া করে থাকে, এটা তাদের নিত্য কাজে পরিণত হয়ে গেছে। " 

বিবি কুলসুমের সহযোগিতায় পুলিশ ঘটনাস্হলে পৌছলে সেখান থেকে একটি রক্তাক্ত কলম  উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারনা করছে এ কলম দিয়েই হয়ত তাকে আঘাত করা হয়েছে৷ ঘটনাস্হল থেকে তিন হাত দুর থেকে আকলিমাকে উদ্ধার করে পুলিশ তাকে নিজের খাটে বসিয়ে রেখেছে 😊।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসমা বলে, "আমি যখন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে খারাপ পরীক্ষা দিয়ে রুমে পৌছাই তখন এসেই দেখি সে আমার আগের বয় ফ্রেন্ডের দেয়া সুন্দর কলমটি দিয়ে সে তার বয়ফ্রেন্ডের কাছে চিঠি লিখছে "। তাকে আঘাত করার কারণ হিসেবে আসমা বলেন, " সে এমনই, এর আগেও আমার অনেক কিছু ঠিক জায়গা থেকে সরিয়ে নিজেরটা ঐ জায়গায় রেখেছে, আমার সব জিনিস সে ব্যবহার করে নষ্ট করে ফেলে"। "এমনিতেই খারাপ পরীক্ষা দিয়ে বাসায় ফিরেছি তার উপর এমন অবস্হা দেখলে কার মন ঠিক থাকে বলেন- "যোগ করেন আসমা। 

এটা সাধারণের চোখে সামান্য সমস্যা হলেও আসমা খানম এটাকে মারাত্বক সমস্যা চিহ্নিত করে বলেন " এর আগেও সে বাসে আমার খাতা সামনের সিট থেকে সরিয়ে পেছনের সিটে রাখে, আর সামনের সিট নিজে দখল করে বসে, আমি ভাল পরীক্ষা দিলেও সে হিংসে করে"।☺

তাদের এ ঘটনা সম্পর্কে হোস্টেল প্রভোস্ট আকমল আলী বলেন, " মেয়ে তো মেজাজ সব সময়ই খিটখিটে থাকে, তারা খুব সহজ ব্যাপারগুলোকেও সহজভাবে নিতে পারে না "।এর আগেও খুব তুচ্ছ ব্যাপার নিয়ে তাদের ঝগড়া বিবাদের কথা স্বীকার করে পাশের রুমের বাসিন্দা সলিমা খাতুন বলেন, " আমরা প্রায়ই তাদের সমস্যা নিয়ে কথা কাটা কাটির চিত্র দেখি, তারা প্রায়ই স্যারদের কাছে নালিশ নিয়ে যেত "৷ 

বিঃদ্রঃ ঘটনার পুরো কাহিনী, চরিত্র ও উপমা সবকিছুই কাল্পনিক, তবে এ ঘটনার মত ঘটনা আমাদের সমাজে প্রায়ই হয়ে থাকে যেখানে অল্প হলেও তাকে আমরা খুব বিশাল করে ঝগড়া বিবাদে জড়িয়ে পরি৷ সমাজে বা পরিবারে বা আমাদের হলগুলোতে শান্তি শৃংখলা বজায় রাখতে আমাদের আরও অনেক বেশী সহনশীল হতে হবে।

বউয়ের লজ্বা, আমার সুখ

হ্যা! ঘটনাটা সত্য। এক কলংকজনক কাজের কারণে আমার বউ কারও কাছে মুখ দেখাতে লজ্বা পায়। তার এহেন কর্মকাণ্ডে উপরে উপরে লজ্বা পেলেও ভিতরে ভিতরে বেজায় খুশি আমি ও আমরা (স্বামীকুল)। বেশ কদিন যাবৎ খুব উৎসাহ নিয়ে এ দিনটার অপেক্ষা করছিল সে অবশেষে দিনটা এল - কিন্তু তার সে উৎসাহ, উদ্দীপনা এখন আর অবশিষ্ট নেই। সব যেন নিঃশেষ হয়ে গেছে এক ঝরেই।হ্যা! এখন পর্যন্ত ঠিকই শুনছেন - আজকের ঘটনার কারণে আমার বউ বেশ লজ্বা পেয়ে একবারে কুয়োর ব্যঙ হয়ে গেছে - তাকে এখন আর আগের মত সবার সাথে হাসি খুশি কথা বলতে দেখা যায় না, একটু আগ্রহ নিয়ে বন্ধুদের কত প্রশ্নের উত্তর দেয়ার যে হিরিক ছিল তাও কেমন মিইয়ে গেছে। তার এতসব কষ্টের পরেও কেন যেন আমার মনে বেশ আনন্দ দোলা দিচ্ছে - তার সামনে মলিন মুখ নিয়ে বসে থাকলেও আড়ালে বিজয়ীর হাসি দেই তাতে সন্দেহ নেই। আর দিবই না কেন, এটা যে সব স্বামীই দিত - সব স্বামীই তো এটা চায় 😊। কথা না বাড়িয়ে চলুন কাহিনীটা শুনি---

আমার বাড়ি রয়্যাল ডিসট্রিক্টের আশেপাশে বলে বউও বেছে নিয়েছি রয়েল সাবজেক্ট দেখে। সে ২০১৪ সালে অনার্স শেষ করে এখন চাকরী খুজতেছে। সোনার হরিণ -সে কি আর চাইলেই পাওয়া যায়!! আমার বউ আজও চাকরী পায়নি -- সে কত করে যে চেষ্টা করে। চেষ্টা করতে করতে গায়ের শ্যামলা বর্ণ এখন ধুসর কালোতে রূপ নিয়েছে, দিনরাত খাট থেকে বিছানায়, চেয়ার থেকে কেদারায় পরেই যাচ্ছে,পরেই যাচ্ছে। তবুও চাকরী তো আর ধরা দেয়না। তার সব আশা পুঞ্জিভুত শুধু একটা ভাল মানের চাকরীতে - যার দ্বারা সে সকলকে খুশি করতে পারে। প্রতি বৃহস্পতিবার পেরিয়ে শুক্রবার সকালে তার মুখ দেখলে আমারও মন চায় একটা চাকরী খুজি কিন্তু সাহস পাইনা - শুধু তার আশা ভরা মুখ দেখে একটা মিস্টি হাসি দিয়েই খ্যান্ত হই। শুক্রবার দুপুর - সে পরীক্ষা দিয়ে এলেও সে আশাভরা মুখ অমলিনই দেখি - প্রান ভরে। আশা শেষ হয় না, সে অপেক্ষা করতে থাকে-কবে তার রেজাল্ট দিবে, সে আমাকে বলতে পারবে "আমি সফল, আমার চাকরী হয়ে গেছে"। আজ (কল্পিত) শুনলাম তার ইন্টারভিউর রেজাল্ট দিয়েছে এবং সে সফলভাবে অকৃতকার্য রূপে তালিকাভুক্ত হয়েছে।

আজ আমার বউ আর কথা কয়না আগের উচ্ছাস নিয়ে,মুখে কেমন একটা লজ্বার ছাপ পরেছে৷ রেজাল্ট হয়েছে শুনে বহুজন বহুদিক থেকে কল দিচ্ছে কিন্তু সে কল আর কান অবধি পৌছয় না - বান্ধবীরা ডাকলেও কেমন কানের মেশিন নষ্ট ভাব 😄।শত হলেও বউ তো, আর একটাই মাত্র বউ - তার কষ্টই আমার কষ্ট, তার ব্যথাই আমার ব্যথা - হোক সেটা বাহিরে বা ভিতরে। তার চাকরী হয়নি ব্যপারটা শুনলে মনের ভিতরের কোষগুলো অজানা কারণে নাচানাচি শুরু করে - এই ভেবে যে, বউ এখন আপাদমস্তক আমার,চাকরী হয়ে গেলেতো তার অর্ধেকটা মাস শেষে মোটা অংকের টাকার কাছে বিক্রি হয়ে যাবে৷

আমি কখনও চাইনা আমার একমাত্র বউ অন্যের অধীনে চাকরী করুক, কিন্তু তার একান্তিক ইচ্ছার কারণে ইন্টারভিউ পর্যন্ত সায় দিয়ে দিনভর দোয়া করি যেন চাকরী- ফাকরী এসব তার না হয়😊।

কত কথাই বলে ফেললাম - ভিতরের সব কথা কেমন করে যেন বের করে দিলাম দ্বিধাহীনভাবেই। দুঃখিত, আমার বউ এহেন সিচুয়েশনে পরে মারাত্বক আহত হলেও আমি খুব খুশি খুশি মন নিয়ে তাকে নিয়ে ঘুরতে বেড়িয়েছি -- নদীর ঢেউ দেখব বলে। নদীর ঢেউয়ে যদি তার মনের দুঃখ ধুয়ে যায় - সে একমাত্র আমাকেই ভালবাসবে, তার সকল আশা ভরসা হব আমি, আমার সব ইচ্ছাগুলো। অতঃপর তাহার দুঃখে আমার কলিজা শান্তি 😊।

বউকে ভালবাসি😍, তার দুঃখই আমার দুঃখ 🤔, তার সুখে সুখী।

কল্পনাসূত্রঃআগামী পাচ বছর পর এমন একটা ঘটনা আমার সাথে ঘটলেও আমি অবাক হবনা। আমার বউয়ের সময় বিক্রি হউক তা আমি চাইনা বলেই এমন আকাঙ্কা - তার ষোল আনাই চাই আমার।।।

নোটঃ রিগ্রেট ফর ইউ গাইস! আমি কোন গোপন কথার ঝুড়ি উন্মুক্ত করতে বসিনি এখানে। জিজ্ঞেস করতে পার - তবে এমন শিরোনাম কেন। উত্তরে "দর্শক আকর্ষণ" ছাড়া আর কিছুই বেড়ুবেনা হয়ত। আজকাল পত্রিকাগুলো এমনটাই করে থাকে - কাটতি কাটানোর জন্য কত রকমের শিরোনাম যে তারা দেয়। আপনি যদি আমার নিয়মিত পাঠক হয়ে থাকেন আপনাকে প্রতারিত করার জন্য দুঃখিত, তবে যারা শুধু এ শিরোনামের আকর্ষণে পরেছেন তাদের জন্য সমবেদনা বৈ কিছুই থাকবে না। 😆😆

ভাল অভ্যেস গড়ার চার উপায়-


ভাল অভ্যেস গড়ব, কিন্তু কিভাবে?
আমাদের প্রায়ই এমনটা হয় যে আমরা প্রতিদিন ঘুমানোর সময় চিন্তা করি কালকে থেকে সকাল সাতটায় উঠে যাব। বা পরীক্ষার একমাস থেকে আগ থেকেই চিন্তা করতে থাকি যে কালকে থেকে পড়া শুরু করব। কিন্তু দিন শেষে ঐ একটা কথাই আবারও বলা ছাড়া উপায় থাকে না। আমরা পারি না খুব সহজে নতুন একটা অভ্যেস গড়ে তুলতে। তেমন কিছু সমস্যার সমাধান খুজতে গিয়ে যা পেয়েছি তা নিয়েই এ প্রবন্ধ। মুল প্রবন্ধটি ইংরেজী থেকে অনুবাদ ও সংযোজিত।

একটি ভাল অভ্যেস গড়তে হলে চারটি ধাপে আগাতে হবে। বলা হয়ে থাকে এ ধাপগুলে যদি কেউ নিয়মিত করে তবে অল্প সময়ের মধ্যেই কোন ভাল অভ্যেসকে নিজের আয়ত্তে আনা সম্ভব।

★) চারটি অভ্যেসের মাঝে সবার আগে যেটি করতে হবে তা হল খারাপ অভ্যেসগুলোকে চিহ্নিত করা। আমাদের বেশীরভাগ ইচ্ছাই সফল হয়না আমাদের কিছু খারাপ অভ্যেসের কারনে। মনে করুন, আপনি মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলেন আগামীকাল থেকে সকাল সাতটায় ঘুম থেকে উঠবেন, কিন্তু আপনার খারাপ অভ্যেস- রাতে দেরী করে ঘুমানোর কারণে পরিমানমত ঘুম না হওয়ায় চাইলেও আর সকাল সাতটায় ঘুম থেকে উঠা হয়ে উঠে না। তাই মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, ভাল অভ্যেস গড়তে হলে আগে খারাপ অভ্যেসগুলোকে বাদ দিন।

★) প্লান করুনঃ যে কাজটাই করতে যাবেন না কেন তার জন্য সবার আগে চাই একটা পরিপূর্ণ পরিকল্পনা। ইংরেজীতে একটা প্রবাদের ব্যবহার এই প্লান বা পরিকল্পনা শব্দটার সাথে সবসময় জড়িয়ে - "Fail to plan plan to fail"। অর্থাৎ আপনি সুন্দর পরিকল্পনা করতে ব্যর্থ হয়েছেন তো সফলতাও ব্যর্থ। সেজন্যই এ প্রবন্ধের লেখক নতুন অভ্যেস গড়ার ক্ষেত্রেও পরিপক্ব একটি পরিকল্পনার কথা স্মরন করেছেন শুরুতেই। খারাপ কাজগুলো সনাক্ত করার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে প্লান করা, প্লান করার পর প্রতিজ্ঞা -লেগে থাকার, জয়ী হওয়ার। মনে করুন আপনি আগামী পরীক্ষা প্রস্তুতি শুরু করতে চাচ্ছেন আগামীকাল থেকে তারজন্য একটা প্লান করে ফেলতে পারেন এখনই - কতদিনে কোন সাবজেক্ট শেষ করবেন, দিনে কতক্ষণ পড়বেন, কোনদিন কোন সাবজেক্ট পড়বেন, কোন চ্যাপ্টার আগে কোনটা পরে পড়তে হবে এসব যদি আগে থেকেই নির্ধারণ করে রাখা যায় তবে কাজের বহুলাংশই করা হয়ে যায় বলে মত দিয়েছেন একাধিক গবেষক।

★)আস্তে আস্তে শুরু করুনঃ কচ্চপ আর খরগোশের গল্প পড়েনি এমন মানুষ এ সমাজে বিরল। ক্লাস সিক্স থেকে শুরু করে এ গল্প পড়ানো হচ্ছে টুয়ালব তথা ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত। এ গল্পের সারকথা তো এটাই যে-যাই করি তা যেন অল্প অল্প করে করি তবে নিয়মিত যেন হয়। হাদীসের বরাত দিয়ে জানা যায় আল্লাহ সুবহান ওয়া তাআলাও অল্প হোক তবে নিয়মিত ইবাদাত কারীদের বেশী পছন্দ করেন। এ প্রবন্ধের লেখক কাঙ্খিত অভ্যেস গড়তে কাজটি অল্প অল্প করে শুরু করার তাগিদ দিচ্ছেন। উদাহরন হিসেবে বলা যায় - এক ব্যক্তি মনস্ত করল প্রতিদিন সকাল সাতটায় ঘুম থেকে উঠবেন। প্রতিদিন যদি দশটায় উঠার অভ্যেস থাকে তবে সে যেন প্রথমদিন থেকে সাতটায় না উঠে দিনে দিনে পনের মিনিট করে কমিয়ে আনে। প্রতিদিন ধীরে ধীরে পনের মিনিট করে কমতে কমতে একটা নির্দিষ্ট সময় পরে সে হয়ত তার কাঙ্খিত লক্ষে পৌছতে পারবে অনায়াসেই।
★)বাধা সনাক্তকরণ ও সমাধান অনুসন্ধানঃ নতুন কিছু করতে গেলে যদি বাধা না আসে তবে বুঝতে হবে যে আপনি নতুন কোন পথে নেই বরং আগের পথেরই ভিন্ন কোন নামে আছেন। নতুন কিছু শুরু করতে গেলে এটা খুব স্বাভাবিক যে আপনি অনেক অনেক বাধার মুখে পরবেন। নিজেকে অন্যরকম উচ্চতায় নিয়ে যেতে হলে এসব বাধাকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার কোন উপায় নেই তেমনি আপোষেরও প্রশ্নই আসে না। নতুনকে জয় করতে হলে সবার আগে জয় করতে হবে বাধাকে। তাই মনোবিজ্ঞানীরা পরামর্শ দেন -বাধাগুলোকে তৎক্ষনাৎ লিপিবদ্ধ করে তা সমাধানের পথ খোজার।

আশা করা যায় কেউ যদি নিয়মিত এই চারটি ধাপে কোন ভাল অভ্যেসের অনুশীলন করতে থাকে তবে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই একটি ভাল অভ্যেস নিজের করে নেয়া যায়।