Story লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
Story লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ২৯ জুন, ২০২০

মেহরাব নয়নের রহস্য গল্প - ইন্দ্রিয় লালসা- শেষ পার্ট

ইন্দ্রিয় লালসা- শেষ পার্ট

–মেহরাব স্যার, আমি ওদের সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে নিয়েছি।
করিম যে মায়া হকের বাসায় কাজ করতো, ও এখন ঢাকায় অন্য একটা বাসায় কাজ করে। কিন্তু স্যার অবাক করা বিষয় হচ্ছে করিমের গ্রাম থেকে খোঁজ নিয়ে জানলাম মাঝেমধ্যেই তাদের গ্রামের কবরস্থান থেকে লাশ চুরি হয়ে যায়।
আর উসমান সাহেব, যিনি মায়া হকের ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন, উনি এখন একলা অন্য একটা ছোট বাসায় ভাড়া থাকেন। উনার স্ত্রী উনার সাথে থাকেন না। কিন্তু উসমান সাহেবকেও মাঝেমধ্যে অনেক লোক রাতে কবরস্থানের দিকে যেতে দেখেন। কেনো কবরস্থানে যান এটা কেউ জানেনা"।
কন্সটেবল আসিফের কথা শুনে আমার বুকের ভিতর ধড়াম করে একটা আওয়াজ হলো। তাহলে কি উসমান বা করিমের মধ্যে কেউ এই ভয়ংকর খুনগুলো করেছে?
আসিফকে বললাম,
–তুমি উসমান এবং করিমের বাড়ির সব জায়গায় চেক করো। দেখো মানুষের কোনো অঙ্গ, অথবা চুড়ি চেইন এগুলো পাওয়া যায় কি'না।
কিছু পেলে সাথে সাথে আমাকে জানাও। সাথে করিম আর উসমানকে যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব থানায় নিয়ে আসো"।
–ঠিক আছে স্যার"।
.

কন্সটেবল আসিফের সাথে কথা শেষ করে তাড়াতাড়ি থানা থেকে বের হলাম। উদ্দেশ্য নার্স শারমিনের বাসা। যে মাত্রই খুন হয়েছে।
আমি নিশ্চিত, নার্স শারমিন জানতো এই ভয়ংকর খুনের পিছনে কে আছে।
হয়তো এটার জন্যে তাকেও খুন করা হয়েছে।
.
নার্সের বাসায় পৌছালাম। দেখলাম গেইটের সামনে ডাক্তার শামীম দাঁড়িয়ে আমার জন্য অপেক্ষা করছেন। চেহারায় স্পষ্ট ভয়ের ছাপ। আমাকে দেখামাত্র ডাক্তার শামীম দৌড়ে এসে বললেন,
–মেহরাব স্যার আমি আপনার জন্যই অপেক্ষা করছিলাম। একের পর এক খুন। কি হচ্ছে এসব স্যার? আমার ভীষণ ভয় লাগছে"।
–ভয় পাবেন না। খুনি যেইহোক, খুব তাড়াতাড়ি ধরা পড়বে। আপাতত চলুন শারমিনের লাশটা দেখে আসি"।

ভিতরে আসলাম। আমার সামনেই পড়ে আছে নার্স শারমিনের লাশ। লাশটা দেখে আমি মোটেও অবাক হইনি। একিই ভাবে খুন।
গলা কেটে হত্যা।
খুনের পর লাশের সাথে শারীরিক সম্পর্ক। এটা থেকে স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে মায়া হক এবং শারমিনের খুনিই একজন'ই।
কিন্তু কে করছে এসব?
করিম না'কি উসমান?
এই দু'জন ছাড়া তৃতীয় কারো উপর আঙুল তুলার কোনো সুযোগ নেই।
আমি নিশ্চিত, খুনি এই দু'জনের মধ্যেই কেউ।
শারমিনের লাশটা পোস্টমর্টেম করার জন্য পাঠিয়ে থানায় চলে আসলাম।
আপাতত করিম এবং উসমানকে ধরে থানায় নিয়ে আসাটা জরুরী"।
.
.
উসমানকে ধরে থানায় নিয়ে আসলাম।
অবশ্য উসমানকে ধরতে মোটেও খোঁজাখুঁজি করতে হয়নি। সে তার বাসাতেই ছিলো।
উসমান, মায়া হকের আগের ভাড়াটিয়া। যার তীব্র রাগ ছিলো মায়া হকের উপর।
রাগ থেকে হয়তো মায়া হককে এরকম ভয়ংকর খুন করতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে মায়া হকের মেয়ে সামিয়া এবং নার্স শারমিনকে খুন করলো কেনো এটা এখনো পরিষ্কার না।
তারচাইতেও অবাক করা বিষয় হচ্ছে এই মানুষটাকে দেখে কোনোদিক থেকেই এরকম ভয়ংকর খুনি মনে হচ্ছেনা। শরীরে পাঞ্জাবি। মাথায় টুপি।
হুজুর হুজুর একটা ভাব।
এই মানুষটা এরকম ভয়ংকর নোংরা খুন করবে ভাবতেই পারছিনা।
আমি কথা বলা শুরু করলাম,
–তো নেক্রোফিলিয়ায় আক্রান্ত উসমান সাহেব, কেমন আছেন"?
আমার কথার কোনো উত্তর দিলেন না তিনি। ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে রইলেন আমার দিকে। খানিকক্ষণ পর বললেন,
–নেক্রোফিলিয়া কি স্যার? কোনো বড় অপরাধের নাম না'কি"?
কথাটা শুনে আমি ফিক করে হেসে উঠলাম। বললাম,
–বাদ দিন এসব। আমাকে এটা বলুন মায়া হক এবং উনার মেয়ে সামিয়া যেদিন খুন হয়, ওইরাতে আপনি ওসমানীনগর হসপিটালে কি করছিলেন? অস্বীকার করার চেষ্টা করবেন না, আমাদের কাছে সিসিটিভি ফুটেজ আছে"।
–কি অদ্ভুত। আমি অস্বীকার কেনো করবো স্যার? আমি হাসপাতালে গিয়েছিলাম। ডাক্তার দেখাতে।
ইদানিং আমার পেটের ডান সাইডে প্রচন্ড ব্যাথা অনুভব করি। ঠিকমতো দাঁড়াতে গেলে কষ্ট হয়। আমি এটার জন্যই ডাক্তার দেখাতে গিয়েছিলাম।
আপনি চাইলে আমার সব রিপোর্ট দেখতে পারেন। অথবা ওইখানে যে ডাক্তারকে দেখিয়েছি তার সাথেও কথা বলতে পারেন"।
–আচ্ছা বুঝলাম। কিন্তু আপনি মায়া হকের কেভিনে গেলেন কেনো এটা তো আমার মাথায় ঢুকছেনা"।
–স্যার আমি যখন হসপিটাল থেকে বের হতে যাবো ঠিক এমন সময় দেখলাম রাজু একটা কেভিন থেকে বের হলো। রাজুকে দেখে আমার মনে হলো হয়তো রাজুর আম্মা মায়াও এখানে আছে।
আসলে আমার ভিতরে আমার করা পাপের জন্য প্রচন্ড অপরাধ'বোধ কাজ করছিলো। কি'রকম জঘন্য মানুষ ছিলাম আমি। ভাবতেও ঘিন্না লাগে।
আমার পাপের জন্য আমার স্ত্রী'ও আমাকে ছেড়ে চলে গেছে।
আমি ভাবলাম মায়ার কাছে আমার ক্ষমা চাওয়া উচিত। এজন্য আমি ওই কেভিনে যাই। গিয়ে দেখি মায়া তার মেয়ে সামিয়াকে নিয়ে একটা বেডে বসে আছে।
আমি মায়ার কাছে গিয়ে আমার পাপের জন্য ক্ষমা চাই। মায়াও আমাকে ক্ষমা করে দেয়। তারপর আমি হসপিটাল থেকে সরাসরি বাসায় চলে আসি"।
.

উসমান সাহেবের কথা শুনে আমি খানিকক্ষণ চুপ করে বসে রইলাম।
হতে পারে উনি সত্যি বলছেন, আবার হতে পারে আমাকে বোকা বানাচ্ছেন।
ঠিক বুঝে উঠতে পারছিনা।
আমি বললাম,
–ওকে! আপনার সব কথা বিশ্বাস করে নিলাম। কিন্তু আমাকে এটা বলুন, প্রায় রাতে আপনাকে কবরস্থানের দিকে যেতে দেখা যায়। অনেকজন সাক্ষী আছেন এই বিষয়টার।
রাতের অন্ধকারে কবরস্থানে গিয়ে কি করেন? লাশের সাথে নোংরামি"?
আমার কথাটা শুনে প্রচন্ড রেগে গেলেন উসমান সাহেব। রাগী কন্ঠে বললেন,
–ছিঃ! কি বলছেন এসব?
আমার সম্পর্কে এতো খোঁজ নিলেন, কিন্তু এটা জানলেন না যে 'আমার আম্মা ৪মাস আগে মারা গেছেন'। আমি প্রচন্ড ভালোবাসি আমার আম্মাকে।
রাত হলে বিছানায় ঘুমাতে পারিনা।
মনে'হয় ওই অন্ধকার জায়গায় আমার আম্মা কিভাবে থাকবেন? কিভাবে ওই অন্ধকারে একলা ঘুমাবেন?
এজন্য প্রায় রাতেই আমি আম্মার কবরে যাই। অনেক রাত ওইখানেই কাটিয়ে দেই। নিজের ভুল আর পাপের জন্য কান্নাকাটি করি"।
–আপনার মা মারা গেছেন? এজন্যই কবরস্থানে যান?
–জ্বী স্যার। আপনি চাইলে খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন। বিশ্বাস করুন, আমার কথায় বিন্দুমাত্র মিথ্যা নেই।
আমি কোনো কথা মিথ্যা বলিনি"।
.
উসমান সাহেবের সাথে আর কোনো কথা বাড়ালাম না। উনাকে ছেড়ে দিয়ে উনার সম্পর্কে আরেকটু ভালোভাবে খোঁজ নিলাম।
আসলেই সব সত্যি বলেছেন।
ওইদিন হসপিটালে উনি ডাক্তার দেখাতে গিয়েছিলেন। উসমান সাহেবের মা মারা গেছেন ৪মাস আগে। মা মারা যাওয়ার পর উসমান সাহেব পুরোপুরি বদলে গেছেন। সহজ বাংলায় এখন তাকে একজন "ভালো মানুষ' বলা যায়। এটার মানে হচ্ছে উসমান সাহেব এই ভয়ংকর খুনগুলো করবেন না।
তাহলে খুনিটা কে?
আমার হাতে আছে স্রেফ একজন।
"করিম"। যে মায়া হকের বাসায় আগে কাজ করতো।
.

করিম সম্পর্কে একটু খোঁজ নেওয়ার পর জানতে পারলাম করিম মায়া হকের বাসা থেকে কাজ ছেড়ে দিয়েছিলো কেনো।
করিমের একটা মেয়ে আছে। ফাতিমা।
বয়স ৯। কয়েক'মাস আগে ফাতিমা একটা হসপিটালে মারা যায়। শুধুমাত্র টাকার অভাবে কিডনির অপারেশন করা হয়নি এজন্য।
পাশের ফ্ল্যাটে কাজ করা ছেলেটার কাছে যখন বিষয়টা জানতে চাইলাম, তখন ছেলেটা বললো,
" স্যার, করিম ভাই বহুত কান্নাকাটি কইরা মায়া ম্যাডামের কাছে কইছিলো টাকা দেওয়ার জন্য। কিন্তু মায়া ম্যাডাম টাকা দেন নাই। এতোগুলান টাকা না'কি উনি দিতে পারবেন না।
করিম ভাই আমার কাছে এসে বহুত কান্নাকাটি করছে। আমিও গরীব মানুষ স্যার। কি করমু? বেচারা মাইয়াটারে বাছাইতে পারে নাই। আহ!
তারপর এই বাসায় আর কাজ করে নাই"।
আমি স্পষ্ট বুঝতে পারলাম মায়া হকের উপর করিমের রাগ থাকাটা অস্বাভাবিক কিছু না। আর এই ধরনের রোগী'রা রাগ থেকে যা ইচ্ছা তাই করতে পারে।
হয়তো এই ভয়ংকর খুনগুলো করিম'ই করেছে"।
.
.
করিমকে ধরে থানায় নিয়ে আসলাম।
করিমকে খুঁজে বের করতে একটুও কষ্ট হয়নি। ২মাস ধরে যে নতুন বাসাটায় কাজ করছে ওইখান থেকেই ধরেছি।
আমি করিমের চেহারার দিকে একবার ভালোভাবে তাকালাম।
ভীত চেহারায় চুপচাপ বসে আছে।
কথা বলা শুরু করলাম,
–তো করিম মিয়া! মায়া হকের উপর প্রতিশোধ তো খুব ভয়ংকর ভাবেই নিলে। এবার এটাও বলে দাও সামিয়া এবং নার্সকে খুন করলে কেনো"?
কথাটা শুনে করিম মিয়া যেনো চমকে উঠলো। চেহারায় পাহাড় পরিমাণ ভয়ের ছাপ স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে।
প্রচন্ড ভয়ার্ত কন্ঠে করিম বললো,
–কি কইতাছেন স্যার এগুলো?
আমি কোনো খুন টুন করিনি"।
–সব খুনিই এটা বলে। তুমি যদি খুন না'ই করে থাকো, তাহলে ওইরাতে ওসমানীনগর হসপিটালে মায়া হকের কেভিনে কি করছিলে?
তোমার এলাকার কবরস্থান থেকে লাশ চুরি হয়ে যায় কোথায়?
তুমি'ই খুনগুলো করেছো।
তুমি'ই লাশের সাথে এসব নোংরামি করেছো। স্বীকার করে নাও করিম মিয়া! অন্যথায় কিভাবে স্বীকার করাতে হয় আমরা ভালো করেই জানি"।
আমার কথাগুলো শুনে করিম মিয়া হু হু করে কান্না শুরু করলো।
কান্নার মধ্যেও চেহারায় ভয়ের ছাপ স্পষ্ট। করিম মিয়া কাঁদতে কাঁদতে হাতজোড় করে বললো,
–স্যার আমি কিছু করিনি।
আমারে ছাইড়া দেন স্যার।
ওইরাতে তো আমি আমার নতুন বাসার মালিকের খাবার নিয়া হাসপাতালে গেছিলাম। মায়া ম্যাডামের পাশের কেভিনে এখন উনি ভর্তি আছেন।
উনার কি একটা অপারেশন হইছে স্যার।
ওইদিন খাবার দিয়ে আসার পথে আমি জানালা দিয়ে দেখলাম সামিয়া মানে মায়া ম্যাডামের মাইয়া শুইয়া আছে।
আমারো তো সামিয়ার মতোন একখান মাইয়া আছিলো স্যার। তাছাড়া আমি সামিয়া ম্যাডামরে নিজের মেয়ের মতোন'ই দেখতাম। সামিয়া ম্যাডামরে জানালা দিয়া দেইখা আমি তাড়াতাড়ি কেভিনে যাই৷ গিয়ে দেখি সামিয়ার পাশে বসে মায়া ম্যাডাম কান্নাকাটি করতাছেন। আমারে দেইখাও কান্না করলেন। আমার কাছে মাফ চাইলেন।
কইলেন আমি যেনো তাকে মাফ কইরা দেই। আমার মেয়ের মরার জন্য উনি নিজেকে দোষ দিচ্ছিলেন স্যার।
আমি কইলাম "ম্যাডাম জন্ম আর মরণ তো আল্লাহর হাতে। আমার মেয়ের মরণ হয়তো এভাবেই লিখা ছিলো। আপনার উপর আমার আর কোনো কষ্ট নাই"।
তারপর উনি আমারে অনেকগুলা টাকা দিতে চাইলেন। আমি আনিনি স্যার।
এহন টাকা দিয়া আমি কি করুম?
তারপর সামিয়া ম্যাডামরে দেইখা আমি ওইখান থেকে আইয়া পড়ি।
আর শারমিন কে স্যার? আমি'তো চিনিওনা তাকে। স্যার আমারে ছাইড়া দেন। আমি কিছু করিনি"।
.

করিম ফুপিয়ে ফুপিয়ে কান্না করছে। তার চোখের পানিগুলো স্পষ্ট বলে দিচ্ছে সে সত্যি বলছে। তারপরেও আমি খুব করে চাই যাতে করিম দোষী হোক।
কারণ করিম ছাড়া আমার হাতে আর কোনো মানুষ নেই। অন্য কারো উপর আঙুল তুলার কোনো সুযোগ ও নেই।
আমি বললাম,
–আচ্ছা বিশ্বাস করে নিলাম তুমি ওইদিন তোমার বাসার মালিকের জন্য খাবার নিয়ে গেয়েছিলে। এটাও মানলাম সামিয়াকে দেখে ওই কেভিনে গেছো।
কিন্তু তোমার গ্রামের কবরস্থান থেকে লাশ চুরির বিষয়টা? তোমাদের গ্রামের কবরস্থান থেকে লাশ যায় কোথায়?
তুমি'ই লাশের সাথে এসব নোংরামি করো। সত্যিটা বলে দাও"।
করিম কাঁদতে কাঁদতে বললো,
–স্যার কি কন এসব?
আমাগোর গ্রামে লাশ চুরি হইতাছে ঠিক।
কিন্তু এটা নিয়া পুলিশরা আলাদা কাজ করছে স্যার। শুধু আমাদের না, পাশের গ্রাম থেকেও লাশ চুরি হইতাছে।
শুনতাছি কোনো একটা চক্র না'কি লাশ চুরি কইরা বড় দামে বেইচা দেয়।
তাছাড়া আপনি খোঁজ নিলে জাননে পারবেন মাইয়াগো লাশের চাইতেও পুরুষদের লাশ বেশি চুরি হইতাছে।
আমার কথা বিশ্বাস করের স্যার।
আমি এতটাও খারাপ লোক না।
আসল খুনিরে না ধইরা আমার মতো অসহায় মানুষরে ফাসাইয়েন না স্যার।
আমি গরীব মানুষ"।


করিম অবিরাম কান্না করে যাচ্ছে।
প্রচন্ড মায়া লাগছে ওর কান্না দেখে।
আমার এক'মুহূর্তের জন্যেও মনে হয়নি করিম মিথ্যা বলছে। মানুষ মিথ্যা বলতে পারে, কিন্তু মানুষের চোখ নয়"।
.
করিমকে ছেড়ে দিলাম।
খোঁজ নিয়ে দেখলাম করিমের প্রত্যেকটা কথা সত্য। মিথ্যা বলেনি।
এখন আমার নিজেকেই প্রচন্ড অসহায় মনে হচ্ছে।
কি হলো এসব?
এতো কষ্টের পর ফলাফল শূন্য?
কিন্তু কেউ তো এই ভয়ংকর খুনগুলো করেছে। আরিফ সাহেব না, উসমান সাহেব না, করিম মিয়া না,
তাহলে খুনিটা কে?
এতোদিন ধরে আমি শুধু সিসিটিভি ফুটেজটার উপরেই খুনিকে ধরার চেষ্টা করেছি। ভুলটা হয়তো এখানেই।
সিসিটিভি থেকে বেরিয়ে আবার নতুন করে শুরু করতে হবে। মায়া হকের জীবনের পুরো ইতিহাসটা আমাকে জানতে হবে"।
.

মায়া হকের অতীত নিয়ে ঘাটাঘাটি করার পর জানতে পারলাম উনি মেডিকেলে পড়তেন। একটু খোঁজাখুঁজির পর উনার কলেজ লাইফের একটা গ্রুপ ছবি পেলাম। ছবিটার দিকে ভালোভাবে খেয়াল করতেই আমার বুকটা ধুক করে উঠলো। ছবির কর্নারে ডাঃ শামীম দাঁড়িয়ে আছেন।
এটার মানে হচ্ছে ডাঃ শামীম আগে থেকেই মায়া হককে চিনতেন।
কিন্তু আমাকে তো কখনো বলেন নি এসব। কিছু গন্ডগোল আছে।
.
মায়া হকের কলেজ লাইফের কয়েকজন বন্ধুর সাথে যোগাযোগ করলাম। তারা আমাকে বললো,
"স্যার মায়াকে পাগলের মতো ভালোবাসতো শামীম। কোনো ছেলে মায়ার সাথে কথা বলা তো দূর, মায়ার দিকে তাকালেই তার সাথে মারামারি শুরু করে দিতো। শামীমের এসব পাগলামি মায়ার লাইফটা একদম বিরক্তিকর করে তুলছিলো।
একদিন মায়া এসবের জন্য শামীমের সাথে কথা বলে। শামীমকে বুঝায়।
কিন্তু শামীমের একটাই কথা 'আমি তোমাকে ভালোবাসি'। শামীমকে বুঝাতে না পেরে মায়া শামীমের গালে একটা থাপ্পড় মারে। ব্যাস তারপর তো মায়াও প্রচন্ড ভয়ে দিন কাটাতে শুরু করে। পড়াশুনাও কমপ্লিট না করে বাবার কথা অনুযায়ী বিয়ে করে নেয়।
এই পাগলটার জন্য আমরাও সবাই ভয়ে ভয়ে থাকতাম। কখন কি করে ফেলে এটার ঠিক ছিলোনা স্যার"।
.
আমার কাছে কেসটা আস্তে আস্তে পরিষ্কার হওয়া শুরু করলো।
আমি ডাক্তার শামীম সম্পর্কে আরেকটু খোঁজ নিলাম।
মেডিকেলে পড়ার সময় প্রত্যেকটা স্টুডেন্ট শামীমকে ভয় পেতো।
অনেকে 'সাইকো' বলেও ডাকতো।
মায়ার ওই থাপ্পড়ের পর পরিস্থিতি এতোটাই খারাপ হয়ে গিয়েছিলো যে, শামীমের সাথে কেউ কথা বলতে আসলে বা তার শরীরের সাথে ভুল করে কারো শরীর টাচ হলে সে তাকে ভয়ানক'ভাবে মারধর করতো।
শামীমের বাবা রাজ্জাক সাহেব।
ফ্রান্স থাকেন। বড় বিজনেসম্যান। ছেলের এই অবস্থার কথা শুনে ছেলেকে তার কাছে ফ্রান্সে নিয়ে যান।
ওইখানে প্যারিসের একটি হসপিটালে তার মানসিক চিকিৎসা করা হয়"।
.
আমি বিষয়টা আরেকটু নিশ্চিত হওয়ার জন্য ওই সময়ের প্যারিস হসপিটালের হেড ডাক্তার ক্লিনটনের সাথে যোগাযোগ করি। শামীমের নাম শুনতেই ডাক্তার ক্লিনটন বলেন,
–শামীম? ওই বাংলাদেশি ছেলেটা?
ও কি আবার কোনো লাশের সাথে শারীরিক সম্পর্ক করার চেষ্টা করেছে"?
ডাক্তার ক্লিনটনের কথা শুনে হাই ভোল্টেজের শকড খেলাম। বললাম,
–মানে? শামীম কি প্যারিসেও এগুলো"?
–হ্যা। আমরা একবার নয়, হাতেনাতে দুইবার ধরেছি। সে লাশের সাথে শারিরীক সম্পর্ক করার চেষ্টা করেছিলো।
শামীম নেক্রোফিলিয়াতে আক্রান্ত।
আমরা তো তার হাত পা বেঁধে তাকে চিকিৎসা করেছিলাম।
কিন্তু আমরা তাকে পুরোপুরি সুস্থ করে তারপর হসপিটাল থেকে রিলিজ দেই।
ওর কি আবার নেক্রোফিলিয়া এট্যাক করেছে"?
ডাক্তার ক্লিনটনের কথা শুনে আমার কাছে বিষয়টা পুরোপুরি পরিষ্কার হয়ে গেলো। কাঁপা কন্ঠে বললাম,
–ডাক্তার সাহেব, কি কি কারণে নেক্রোফিলিয়া হতে পারে? বা এই রোগটা আবার কি কি কারণে ব্যাক করতে পারে"?
–রাগ, ডিপ্রেশন, অতৃপ্ত যৌন জীবন। অনেক কারনেই নেক্রোফিলিয়া হয়ে থাকে। আবার এই ধরণের মানুষদের ভয়ংকর পরিমাণ রাগ থাকে।
যাদের উপর তাদের রাগ হয়, তারা ওই মানুষটার সাথে নোংরামি না করা পর্যন্ত শান্তি পায়না। হতে পারে এরকম কোনো মানুষকে দেখলে নেক্রোফিলিয়া আবার এট্যাক করতে পারে"।
–ধন্যবাদ ডাক্রার। আমি আপনাকে পরে কল দিয়ে সব বিস্তারিত বলছি"।
–ওকে"।
.
ডাক্তার ক্লিনটনের সাথে কথা বলার পর আমার কাছে পুরো বিষয়টা একদম পরিষ্কার হয়ে গেলো। হসপিটালের সিসিটিভি বন্ধ হওয়া।
নার্স শারমিনের খুন। সব এখন পরিষ্কার।
.
ডাক্তার শামীমকে ধরে থানায় নিয়ে আসলাম। আমার সামনে বসে আছেন ডাক্তার শামীম। নিঃশব্দ।
হয়তো ধারণা করতে পেরেছেন উনার সব খেলা আমি ধরে ফেলেছি।
ডাক্তার শামীম ঢোক গিলে বললেন,
–আমাকে এখানে নিয়ে আসলেন কেনো মেহরাব স্যার? খুনি কি ধরা পড়েছে"?
আমি খিক খিক করে হেসে উঠলাম।
বললাম,
–অভিনয়টা বেশ ভালোই পারেন।
হ্যা খুনি ধরা পড়েছে। উনি আমার সামনেই বসে আছে"।
কথাটা শুনে মুহুর্তেই ডাক্তার শামীমের চেহারাটা ভীত হয়ে গেলো।
আমার দিকে তাকিয়ে আবারো ঢোক গিললেন। কাঁপা কন্ঠে বললেন,
– মানে? কি বলছেন এসব"?
আমি মায়ার কলেজের গ্রুপ ফটোটা ডাক্তার শামীমের সামনে রাখলাম। বললাম,
–আপনার কলেজ লাইফ থেকে শুরু করে প্যারিস হসপিটালের ডাক্তার ক্লিনটন পর্যন্ত সবকিছু আমি জেনে গেছি। বাঁচার কোনো রাস্তা নেই।
আপনাকে ভালো একটা পরামর্শ দেই, দোষ এখানেই স্বীকার করে নিন। অন্যথায় রিমান্ডে নিয়ে গেলে বুঝতেই তো পারছেন"।
ডাক্তার শামীম মাথা নিচু করে বসে রইলেন। কোনো কথা বলছেন না।
একদম চুপচাপ।
মিনিট'খানেক পর আমি আবার বললাম,
–দোষ কি স্বীকার করবেন"?
ডাক্তার শামীম চিল্লায়া উঠলেন,
–হ্যায়ায়ায়া আমি খুন করেছি ওদের।
আমিইই খুন করেছি।
ওইদিন যখন মায়াকে হসপিটালে দেখলাম, আমি জানিনা আমার মাথায় কি হলো। প্রচন্ড যন্ত্রণা হচ্ছিলো মাথার ভিতর। আমার মুহুর্তেই সেই আগের দিনগুলো মনে পড়ে গেলো।
অনেক বেশি ভালোবাসতাম এই মায়াকে। সবার সামনে বলেছিলাম আমার ভালোবাসার কথা।
কিন্তু ও কি করলো? আমাকে সবার সামনে থাপ্পড় মারলো।
বাদ দিলাম এসব। ভাবলাম ভালো একটা ক্যারিয়ার হওয়ার পর বিয়ের প্রস্তাব দিলে হয়তো মেনে যাবে।
আমি পড়াশুনায় মন দিলাম।
কিন্তু মায়া কি করলো? ও অন্য একটা ছেলেকে বিয়ে করে নিলো।
বিয়ের রাতেও আমি ওর বাসায় যাই।
সবার সামনে কান্নাকাটি করে বলি যাতে আমাকে বিয়ে করে নেয়। আমি ওকে অনেক বেশি ভালোবাসি।
মায়া কি করলো জানেন?
সবার সামনে আমাকে আবারো থাপ্পড় মারলো। শুধু এটাই না, আমার মুখে থুউ দিয়ে বললো "তোর মতো সাইকো'কে কে বিয়ে করবে"?
ওইদিন মায়াকে হসপিটালে দেখার পর আমি জানিনা আমার কি হয়েছিলো।
আমি শান্তি পাচ্ছিলাম না।
রাত সাড়ে ১২টায় আমি হসপিটালের সমস্ত সিসিটিভি অফ করি।
মায়ার কেভিনে যাই।
দেখি মায়া এবং সামিয়া একুটা বেডে ঘুমাচ্ছে। রাজু অন্য বেডে।
আমি রাজুকে ঘুমের মধ্যেই অজ্ঞান করি।
তারপর মায়ার উপর আমার সমস্ত রাগ শেষ করি। ওর মেয়েটাকে আমার খুন করার কোনো ইচ্ছা ছিলোনা।
কিন্তু মায়াকে খুন করার সময় সামিয়া জেগে যায়৷ আমাকে দেখে ফেলে।
বেড থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করে। তারপর আমি সামিয়াকেও খুন করে দেই।
আমি খেয়াল-ই করিনি জানালাটা খুলা ছিলো। ওদের খুন করার সময় নার্স শারমিন আমাকে দেখে নেয়।
আমি শারমিনকে অনেক টাকা দিয়ে আমার প্ল্যানে সামিল করি।
যে ছুরি দিয়ে আমি খুন করি, সেটা রাজুর হাতে ধরিয়ে দেই।
শারমিনকে বলি ও যেনো দরজার কাছেই দাঁড়িয়ে থাকে। রাজুর জ্ঞান ফিরলে সাথেসাথে যেনো চিৎকার দেয়। সবকিছু ঠিক ছিলো।
কিন্তু এই শালির অল্পতে পেট ভরেনা। আমার কাছে অনেকগুলো টাকা চেয়ে বসলো। আমি বুঝতে পেরেছিলাম যদি শারমিন বেঁচে থাকে, তাহলে আমাকে আজীবন ব্ল্যাকমেইল করবে। তাই আমি শারমিনকেও খুন করে দিলাম।
আর লাশ দেখলে আমি জানিনা আমার কি'হয়। আমি মাথা ঠিক রাখতে পারিনা"।
.
ডাক্তার শামিমের কথা শুনে উনার দিকে বড়বড় চোখে তাকিয়ে রইলাম।
এখনো রাগে ফুসফুস করছেন।
মোটেও অনুতপ্ত নন।
আমি বললাম,
–শারমিন আপনাকে আজীবন ব্ল্যাকমেইল করতো কি'না জানিনা। তবে আমি এটা জানি, আপনাকে আজীবন এখন এই কারাগারেই থাকতে হবে।
কন্সটেবল আসিফকে ডাক দিয়ে বললাম,
"রাজুকে ছেড়ে দাও। আর ডাক্তার শামীমকে জ্বেলের ভিতর নিয়ে যাও"।
"ঠিক আছে স্যার"।
.
বড় একটা নিশ্বাস নিলাম।
চোখ বন্ধ করে চেয়ারে বসে আছি।
এই দুনিয়াটা কতোটা অদ্ভুত।
কতো রকমের মানুষ আছে আমাদের চারপাশে। চোখ বন্ধ করে এসব ভাবছি ঠিক এমন সময় আমার মোবাইলটা বেঁজে উঠলো। আমার স্ত্রী মিহির কল।
ধরলাম। মিহি বলল,
–সারাদিন আসামীদের সাথে থাকতে থাকতে তোমার 'মন' বলে কিছু রয়েছে মেহরাব? আচ্ছা সত্যি করে বলো'তো, মিহি নামে তোমার যে একটা বউ আছে, এটা কি তোমার মনে আছে"?
আমি ফিক করে একটা হাসি দিয়ে বললাম,
" তুমি আমার এমন'ই একজন,
যাকে আজীবন চাইলেও ভুলতে পারবেনা এই মন"।
মিহি অনেক জোরে হেসে উঠলো।
আনন্দের হাসি।
কি ভয়ানক এই সুন্দর হাসি।
ঠিক এই মুহুর্তে আমার মনের ভিতরেও অদ্ভুত এক আনন্দ কাজ করছে। এটা মিহির হাসি শুনে, না'কি বড় একটা কেস সমাধান করে, আমি জানিনা।
উহহু! এক জীবনে সবকিছু জানতে হয়না। জীবনটা এভাবেই চলুক। চলতেই থাকুক...

সমাপ্ত
~ মেহরাব নয়ন

মেহরাব নয়নের রহস্য গল্প - "ইন্দ্রিয় লালসা-৩"

ইন্দ্রিয় লালসা-- পার্ট- ৩

মুন্নার সাথে কথা শেষ করে নেক্রোফিলিয়া সম্পর্কে আরেকটু ঘাটাঘাটি করলাম। যেটা দেখলাম তা দেখে আমার হৃদপিণ্ডের কম্পনটা আরো বেড়ে গেলো।
'নেক্রোফিলিয়া', যেটাকে বলা হয় পৃথিবীর সবচাইতে ভয়ংকর মানসিক রোগ। পৃথিবীর সবচাইতে কুখ্যাত সিরিয়াল কিলার কে জানেন?
আমেরিকার "টম বান্ডি"।
যে কি'না এই নেক্রোফিলিয়া'তেই আক্রান্ত ছিলো। শুধুমাত্র তার নিজের বয়ান অনুযায়ী ৩০জন মানুষকে সে খুন করে শারীরিক সম্পর্ক করেছে।
কিন্তু আসল সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি।
আমার বুকটা ধুক ধুক করছে।
বাংলাদেশে এমন পৈশাচিক রোগ?
বাংলাদেশে এমন সিরিয়াল কিলার?
কে?
আরিফ সাহেব?
না'কি ওই দুইজন মানুষের মধ্যে কেউ, যারা দেখা করতে এসেছিলো মায়া হকের সাথে।
না'কি রাজু নিজেই"?
উত্তরটা আমাকে জানতেই হবে।
.

নেক্রোফিলিয়ার ইতিহাস সম্পর্কে আরেকটু জানার আগ্রহ বাড়লো।
আমি ফ্রান্সের " ভিক্টর আর্ডিসন" এর ঘটনা পড়লাম। এই মানুষটা খুন করেছে মাত্র ১টা। তাও আবার তার স্ত্রী'কে।
কিন্তু প্রায় ১০০টা লাশের সাথে সে শারীরিক সম্পর্ক করেছে।
শুধু তাইনা, লাশের মাথা কেটে এনে সে তার নিজের কাছে রাখতো।
কাটা মাথায় লিখতো 'আমার বউ'।
কাটা মাথাটা'কে সে নিজের বউ ভেবে গল্প করতো। কথা বলতো।
কিন্তু যখন লাশের মাথাগুলো কোনো উত্তর দিতোনা, সে রাগ করে কাটা মাথাগুলো আরো বিভৎস করে দিতো।
কতোটা ভয়ংকর ভাবা যায়?
পরে 'ভিক্টর আর্ডিসন'কে আজীবনের জন্য মানসিক হসপিটালে পাঠানো হয়।
.
এসব জানার পর আমার শরীরটা ঝিনঝিন করে উঠলো।
মুহুর্তেই মনে হলো শরীরে কোনো শক্তি পাচ্ছিনা। দূর থেকে একবার রাজুর দিকে তাকালাম। ভয় লাগছে।
এই রোগ হলে নিজের মা'কে এভাবে খুন করাটাও অসম্ভব না।
কিন্তু পরক্ষণেই আমার মনে হলো, এই ধরনের রোগী'তো খুন করার পর লাশের কিছু জিনিস স্মৃতি হিসাবে সাথে করে নিয়ে যায়। মায়া হকের চুড়ি, চেইন, এগুলোও নিয়ে গেছে।
কিন্তু আমরা রাজুর কাছে এসব কিছুই পাইনি। হসপিটালের কেভিনেও কিছু খুঁজে পাইনি। তারমানে রাজু খুনি হতে পারেনা। আমি তাড়াতাড়ি হসপিটাল থেকে নিয়ে আসা সিসিটিভি ফুটেজ'গুলো নিয়ে রাজুর কাছে গেলাম। রাজুকে পুরো ভিডিও দেখালাম। বললাম,
–ভালো করে দেখো, শেষে যে দুইজন মানুষ তোমার আম্মুর সাথে দেখা করতে এসেছেন উনাদের চিনতে পারো কি'না"?
রাজু ফুটেজগুলো দেখে বললো,
–মেহরাব স্যার, রাত সাড়ে ১০টায় যে মানুষটা এসেছিলেন, উনি আমাদের আগের ভাড়াটিয়া। উসমান সাহেব।
আমার নানা আম্মুর নামে দুইটা ফ্ল্যাট সহ কয়েকটা জমি রেখে যান। একটা ফ্ল্যাটে এই উসমান সাহেব ভাড়া থাকতেন"।
–থাকতেন মানে? এখন আর থাকেন না"?
–না স্যার। বছর'খানেক আগেই উনাকে আম্মু ফ্ল্যাট থেকে বের করে দেন।
আসলে উনি আম্মুর দিকে খারাপ নজরে তাকাতেন। একদিন আম্মুকে খারাপ প্রস্তাব দেওয়ায় আম্মু রাগ করে উনাদের বের করে দেন। উসমান সাহেবের স্ত্রী কথাটা শুনে উসমান সাহেবকে ডিভোর্স দিয়ে চলে যান।
এতোদিন পর উসমান সাহেব আম্মুর সাথে দেখা করতে আসলেন কেনো বুঝতে পারছিনা"।
–হতে পারে সেই প্রতিশোধ নিতে।
বাদ দাও এসব। অন্যজন কে"?
–স্যার রাত সাড়ে ১১টায় যিনি এসেছেন উনি করিম চাচা।
আমাদের বাসায় আগে কাজ করতেন।
কয়েক'মাস আগে কাজ ছেড়ে গ্রামে চলে যান। কেনো কাজ ছেড়ে চলে গেলেন সেটা আমি জানিনা। কিন্তু উনি আম্মুর সাথে হসপিটালে দেখা কর‍তে আসলেন কেনো"?
'দেখা করতে আসলেন কেনো'?
রাজুর এই প্রশ্নটার ভিতরেই হয়তো সব রহস্য লুকিয়ে আছে।
উসমান সাহেব এবং করিম, এই দু'জনের সাথে খুনটার কিছু তো কানেকশন আছে নিশ্চিত।
আমি রাজুকে বললাম,
–উনারা কেনো আসলেন এটার খোঁজ আমি নিয়ে নিবো। তুমি চিন্তা করিওনা"।
.
রাজুর সাথে কথা শেষ করে চলে আসছি ঠিক এমন সময় রাজু পিছন থেকে ডাক দিলো,
–মেহরাব স্যার একটা কথা বলি"?
–হ্যা বলো"।
–স্যার উনারা দুইজন কেনো আসলেন এটা তো আমি জানিনা। কিন্তু আমি নিশ্চিত উনারা দুইজন এই খুনের সাথে জড়িত নয়। আমার সন্দেহ আরিফ সাহেবের উপর। আপনি আরিফ সাহেবকে কেনো ধরছেন না? উনার স্ত্রী মেয়ে খুন হলো অথচ তার কোনো খবর নেই? উনি লাপাত্তা কেনো? খোঁজ নিন স্যার, এই মানুষটাই আমার আম্মুকে খুন করেছে"।
আমি রাজুর কথার কোনো উত্তর দিলাম না। আসলেই তো! খুনের রাত থেকে একের পর এক আরিফ সাহেবকে কল দেওয়া হচ্ছে। নাম্বার সুইচ অফ!
গেলেন কোথায় উনি?
উসমান এবং করিমের বিষয়টা পরে দেখা যাবে। আগে আরিফ সাহেবকে খুঁজে বের করাটা জরুরী।
.
.
অনেক চেষ্টার পর আরিফ সাহেবকে খুঁজে পেলাম কক্সবাজারে।
উনি একা নয়, সাথে একজন নারী।
জিজ্ঞাস করার পর জানতে পারলাম মেয়েটার নাম নিশি। আরিফ সাহেবের গার্লফ্রেন্ড। নিশিকে বললাম,
–তুমি জানতেনা আরিফ সাহেব বিবাহিত? উনার একটা মেয়ে আছে"।
নিশি বললো,
– স্যার, ভালোবেসে ফেলেছি আরিফেকে। তাছাড়া আরিফ আমাকে বলছে খুব তাড়াতাড়ি ওদেরকে সরিয়ে আমাকে বিয়ে করবে। গতকাল রাতেও বলছিলো 'আমরা খুব তাড়াতাড়ি বিয়ে করবো। ঝামেলা শেষ হয়ে যাবে'।
আমি জানি স্যার ওই মহিলার সাথে আরিফ সুখী নয়। আরিফ আমাকে ভালোবাসে। আমিও আরিফকে ভালোবাসি। কিন্তু আপনি এখানে আসলেন কেনো? আরিফ কিছু করেছে"?
আমি নিশির কথার কোনো উত্তর দিলাম না। এই মেয়েটার সাথে এই কেসের কোনো সম্পর্ক নেই। কিছু না বলেই ওইখান থেকে আরিফকে ধরে থানায় নিয়ে আসলাম।
.
.
আমার সামনে মাথা নিচু করে চুপচাপ বসে আছেন আরিফ সাহেব। নিঃশব্দ।
এমন একটা ভাব নিচ্ছেন যেনো উনি কিছুই জানেন না।
আমি বললাম,
–এইখানে আপনার স্ত্রী আর মেয়ে খুন হয়ে গেলো, আর আপনি কক্সবাজারে নষ্টামি করছেন? লজ্জা লাগেনা"?
আরিফ সাহেব বড়বড় চোখে আমার দিকে তাকালেন। মনে হলো প্রচন্ড শকড খেয়েছেন। অবাক কন্ঠে আমাকে জিজ্ঞাস করলেন,
–মানে? কি বলছেন এসব"?
–যা শুনলেন সেটাই বললাম। আপনি যেদিন রাতে উনাদের সাথে হাসপাতালে দেখা করেন, ওইদিন রাতেই মায়া হক এবং আপনার মেয়ে সামিয়া খুন হয়।
এখন আমাকে এটা বলুন, ওইদিন রাত থেকেই আপনি লাপাত্তা কেনো?
আপনার নাম্বার সুইচ অফ কেনো"?
আরিফ সাহেব কথাটা শুনামাত্র'ই চেয়ার থেকে দাঁড়িয়ে গেলেন। উনার চোখগুলো মুহুর্তেই টলমল করতে শুরু করলো। আমাকে বললেন,
–আমার মেয়ে মারা গেছে"?
–কি অদ্ভুত আরিফ সাহেব। আপনার স্ত্রী'ও কিন্তু খুন হয়েছেন। উনার কথা কিছু জিজ্ঞাস না করে মেয়ের মারা যাওয়ার খবর শুনে অবাক হলেন?
বাদ দিন এসব। আমাকে এটা বলুন ওইরাতে আপনি হসপিটালে এসেই চলে গেলেন কেনো? সেই সাথে ওই রাত থেকেই আপনার নাম্বার সুইচ অফ কেনো?
কোথাও এরকম নয়'তো আপনিই ওদের খুন করেছেন।
আপনি'ই নেক্রোফিলিয়াতে আক্রান্ত"।
আমার কথাটা শুনে আরিফ সাহেব রেগে গিয়ে চিল্লায়া উঠলেন,
–কি সব আজেবাজে কথা বলছেন।
নেক্রোফিলিয়া কি? আর আমি কেনোই বা আমার স্ত্রী মেয়েকে খুন করতে যাবো? রাতে আমি হাসপাতালে থাকিনি কারণ সামিয়ার অসুখটা ততোটা বড় ছিলোনা। সামান্য ব্যাথা ছিলো বুকে।
আর তাছাড়া আমার গার্লফ্রেন্ড নিশির সাথে ওই রাতেই আমার কক্সবাজার আসার প্ল্যান ছিলো। কক্সবাজার আসার পথে আমার মোবাইলটা চুরি হয়ে যায়।
এজন্য আমার নাম্বারটা সুইচ অফ ছিলো।
এখানে এতকিছু হয়ে গেছে আমি'তো এসব জানতাম'ই না। তাছাড়া হাসপাতালে তো আমার স্ত্রী আর মেয়ের সাথে রাজু ছিলো। এই রাজুই হয়তো আমার স্ত্রী আর মেয়েকে খুন করেছে"।
–উহহু! রাজু কিছু করেনি এটা নিশ্চিত।
খুনটা আপনিই করেছেন। আর আপনার স্ত্রী'কে খুন করার জন্য আপনার কাছে অনেকগুলো কারণ আছে। আপনি চাচ্ছিলেন নিশি মানে আপনার প্রেমিকাকে বিয়ে করতে।
এবং তাকে বলেও ছিলেন 'খুব তাড়াতাড়ি সব ঝামেলা দূর করে তাকে বিয়ে করবেন'। আপনি সেটাই করলেন। এমনিতে চাইলেই মায়া হককে ডিভোর্স দিয়ে আপনার প্রেমিকা'কে বিয়ে করতে পারতেন। কিন্তু এরকম হলে মায়া হকের দুইটা ফ্ল্যাট, সাথে কয়েক কোটি টাকার জমি আপনার হাতছাড়া হয়ে যেতো।
আর লাশ দেখলে তো আপনার মাথা ঠিক থাকেনা। তাই খুন করার পর লাশের সাথে এই নোংরামি করলেন।
কিন্তু এটা বুঝতে পারছিনা আপনার মেয়েকে খুন করলেন কেনো"?
আমার কথাগুলো শুনে আরিফ সাহেব কিছু বলছেন না। রাগে ফুসফুস করছেন। মনে হচ্ছে এখন ই কাউকে খুন করে দিবেন।
আমি আবার বললাম,
– রাগ না দেখিয়ে যেটা সত্যি স্বীকার করে নিন আরিফ সাহেব"।
আরিফ সাহেব প্রচন্ড জোরে চিল্লায়া উঠলেন,
–কি স্বীকার করবো আমিইই?
কি বলবো? আমি বলছিনা আমি খুন করিনি আমার স্ত্রী আর মেয়েকে।
আমি ওই রাতেই কক্সবাজার যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেই। এবং সকাল হওয়ার আগেই কক্সবাজার পৌছে যাই।
আমি সারারাত রাস্তায় ছিলাম।
আপনি চাইলে আমি হাজারটা প্রমাণ দিতে পারবো। আর কি বললেন, লাশের সাথে কি? কি'রকম নোংরামি? আমার মেয়ের লাশের সাথে কে কি করেছে?
বলুন আমাকে"?
.

আরিফ সাহেব চিল্লাচ্ছেন। উনার চেহারা দেখে স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে এই বিষয়ে উনার কোনো ধারণাই নেই। এটার মানে হচ্ছে আরিফ সাহেব খুনটা করেন নি।
কিন্তু আরিফ সাহেব খুনটা না করলে আর কে করবে?
এসব ভাবছি ঠিক এমন সময় আমার ফোনটা বেঁজে উঠলো। ডাক্তার শামীমের কল। ধরলাম। ডাক্তার শামীম বললেন,
–মেহরাব স্যার, এইমাত্র নার্স শারমিনের বাসা থেকে আমার কাছে কল এসেছে। কেউ শারমিনকে খুন করে ফেলেছে স্যার। নার্স শারমিন সেই মেয়ে, যে রাজুকে ছুরি হাতে দেখে সবার আগে চিৎকার করেছিলো।
আমার ভীষণ ভয় লাগছে স্যার।
আপনি প্লিজ ওদের বাসায় আসুন।
আমরাও ওইখানে যাচ্ছি"।
.
ডাক্তার শামীমের কথা শুনে হতভম্ব হয়ে চুপ করে বসে রইলাম।
কি হচ্ছে এসব?
এটা নিশ্চিত যে নার্সের খুনের সাথে এই কেসের গভীর সম্পর্ক। একিই সূত্রে গাঁথা। কিন্তু শারমিনকে খুন করবে কেনো? কে এই সিরিয়াল কিলার?
খুনি যেইহোক আরিফ সাহেব না এটা নিশ্চিত। হতে পারে উসমান বা করিমের মধ্যে কেউ।
সাত পাঁচ ভাবছি ঠিক এমন সময় আমার কাছে আরো একটা কল আসলো।
কন্সটেবল আসিফের কল।
আসিফকে বলেছিলাম উসমান এবং করিম সম্পর্কে খোঁজ নিতে।
কলটা ধরলাম। আসিফ বললো,
–মেহরাব স্যার, আমি ওদের সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে নিয়েছি।
করিম যে মায়া হকের বাসায় কাজ করতো, ও এখন ঢাকায় অন্য একটা বাসায় কাজ করে। কিন্তু স্যার অবাক করা বিষয় হচ্ছে করিমের গ্রাম থেকে খোঁজ নিয়ে জানলাম মাঝেমধ্যেই তাদের গ্রামের কবরস্থান থেকে লাশ চুরি হয়ে যায়।
আর উসমান সাহেব, যিনি মায়া হকের ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন, উনি এখন একলা অন্য একটা ছোট বাসায় ভাড়া থাকেন। উনার স্ত্রী উনার সাথে থাকেন না। কিন্তু উসমান সাহেবকেও মাঝেমধ্যে অনেক লোক রাতে কবরস্থানের দিকে যেতে দেখেন। কেনো কবরস্থানে যান এটা কেউ জানেনা"।
কন্সটেবল আসিফের কথা শুনে আমার বুকের ভিতর ধড়াম করে একটা আওয়াজ হলো। তাহলে কি উসমান বা করিমের মধ্যে কেউ এই ভয়ংকর খুনগুলো করেছে"?
.
.
.
~ মেহরাব নয়ন

মেহরাব নয়নের রহস্য গল্প- "ইন্দ্রিয় লালস-০১"


-হ্যালো মেহরাব স্যার বলছেন"?
–জ্বী, কে বলছেন আপনি"?
–স্যার আমি ওসমানীনগর হসপিটাল থেকে ডাক্তার শামীম বলছি। এখানে দুইটা খুন হয়েছে স্যার। সেটাও আবার একটা ছেলে তার নিজের মা বোনকে খুন করেছে। শুধু তাইনা স্যার, আমরা যখন লাশগুলো দেখি তখন লাশের গায়ে সুতো পরিমাণ ও কোনো কাপড় ছিলোনা। আমাদের মনে হচ্ছে লাশের সাথে শারীরিক সম্পর্ক করা হয়েছে"।
.
ডাক্তার শামীমের শেষ কথাটা শুনে বুকটা ধুক করে উঠলো। লাশের সাথে শারীরিক সম্পর্ক? ভাবা যায়??
প্রচন্ড শকড নিয়ে বললাম,
–পাগল হয়ে গেছেন আপনি? কি বলছেন এসব? একে তো বলছেন ছেলে খুন করেছে তার নিজের মা বোনকে। তার উপর আবার বলছেন লাশের সাথে যৌন সম্পর্ক করা হয়েছে।
কি বলছেন বুঝতে পারছেন"?
–স্যার আমি এমনি এমনি কিছু বলছিনা। আপনি প্লিজ তাড়াতাড়ি আসুন। এখানে আসলে সব বুঝতে পারবেন"।
কথাটা বলে ডাক্তার শামীম কলটা কেটে দিলেন। আমি মোবাইলের দিকে বড়বড় চোখে কিছু সময় তাকিয়ে রইলাম।
এটা কিভাবে সম্ভব?
ছেলে তার নিজের মা বোনকে খুন করেছে এটা বিশ্বাসযোগ্য। এমন অনেক হচ্ছে।
কিন্তু লাশের সাথে শারীরিক সম্পর্ক?
ভাবতেই আমার শরীরটা শিউরে উঠছে।
.
কন্সটেবল আসিফকে নিয়ে হসপিটাল পৌছালাম। হসপিটালের প্রত্যেকটা মানুষ এই ঘটনা নিয়ে কানাকানি করছে।
কেউ বলছে 'এটা কোনো জ্বীনের কাজ'। আবার কেউ কেউ বলছে নিজের ছেলেই প্রথমে রেপ করেছে, তারপর খুন। আমাকে দেখামাত্র একজন ডাক্তার এসে বললেন,
"স্যার আমি ডাক্তার শামীম। আমিই আপনাকে কল করেছিলাম। চলুন আপনাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাই"।
.

ডাক্তার শামীমের পিছন পিছন হেঁটে একটা কেভিনে ঢুকলাম।
দুইটা লাশ। একটা বেডে, অন্যটা ফ্লোরে পড়ে আছে। গলা কেটে খুন করা হয়েছে দুজন'কেই।
রুমের এক কোণায় বসে মাথা নিচু করে কান্না করছে একটা ছেলে।
আমি বললাম,
–ছেলেটা কে"?
ডাক্তার শামীম খানিকটা রেগে বললেন,
–মেহরাব স্যার, এই ছেলেটা এখন কান্নার অভিনয় করছে। আপনি একদম ওর কান্নায় গলবেন না। এই ছেলেটাই খুনি। ছেলেটার নাম রাজু।
যে দুইজন মারা গেছেন একজনের নাম মায়া হক। ছেলেটার মা।
অন্যজন সামিয়া। ছেলেটার বোন"।
–তো ছেলেটাই যে খুন করেছে এটার প্রমাণ কি? আর লাশের সাথে শারীরিক সম্পর্ক করা হয়েছে এটাই বা কিভাবে বুঝলেন"?
–স্যার গতকাল রাতে এই ছেলেটার সাথে তার মায়ের কিছু একটা নিয়ে অনেক ঝগড়া হয়। অনেক চিল্লাচিল্লি করছিলেন ওর মা। হসপিটালের অনেকেই শুনেছে তাদের এই চিল্লাচিল্লি।
তারপর শেষরাতে কি হয়েছে এটা তো স্যার আমরা জানিনা। কিন্তু আজকে সকালে একজন নার্স ওদের কেভিনে আসা মাত্রই চিৎকার করে উঠে।
আমরা সবাই চিৎকার শুনে কেভিনে আসি। এসে দেখি এই ছেলেটা তার মায়ের লাশের কাছে দাঁড়িয়ে আছে।
হাতে একটা রক্তাক্ত ছুরি।
ওর মায়ের গলা তখন রক্তে লাল।
শরীরে কোনো কাপড় নেই।
আমি তাড়াতাড়ি লাশটার কাছে যাই।
দেখেই বুঝা যাচ্ছিলো শারীরিক সম্পর্ক করা হয়েছে। ফ্লোরে আরেকটা লাশ পড়া ছিলো। সামিয়ার লাশ। ছেলেটার বোন।
কিন্তু সামিয়ার শরীরে কাপড় ছিলো।
এই রুমে ওরা ৩জন ই ছিলো স্যার।
মা, মেয়ে এবং ছেলে।
মা মেয়ে খুন হয়েছে।
শুধুমাত্র বেঁচে আছে এই ছেলে।
আমরা সবাই নিজের চোখে দেখেছি রক্তাক্ত ছুরি হাতে এই ছেলেকে লাশের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে।
এখন আপনিই বলুন স্যার, খুনটা রাজু ছাড়া আর কে করবে? আর বাকি রইলো মায়া হক মানে ছেলটার মায়ের লাশের সাথে শারীরিক সম্পর্কের কথা, এটা তো স্যার আমরা পরিক্ষা করলেই নিশ্চিত হয়ে যাবো। যদি আপনি পারমিশন দেন"।
.

আমি ডাক্তার শামীমকে কিছু বললাম না। লাশগুলোর দিকে ভয়ার্ত চোখে তাকিয়ে আছি।
এখানে সবচাইতে ইম্পর্ট্যান্ট বিষয়টা হচ্ছে, মায়া হকের লাশে কোনো কাপড় ছিলোনা। আবার সামিয়া নামের মেয়েটার শরীরে কাপড় আছে।
অথচ দুজনকে একিই'ভাবে গলা কেটে খুন করা হয়েছে। কি অদ্ভুত।
এটার মানে হচ্ছে মায়া হকের লাশের সাথে কিছু একটা করা হয়েছে, যেটা সামিয়া নামের মেয়েটার সাথে করা হয়নি।
আচ্ছা প্রথমে রেপ করে তারপর খুন নয়তো? না'কি খুনের পর লাশের সাথে শারীরিক সম্পর্ক?
কিছু ভাবতে পারছিনা। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পেলেই সবকিছু ক্লিয়ার হয়ে যাবে।
লাশগুলোর দিকে তাকিয়ে এসব কথা ভাবছি ঠিক এমন সময়  ফ্লোরে বসে থাকা রাজু কাঁদতে কাঁদতে বললো,
"স্যার আমি মারিনি আমার মা বোনকে। আমি কিচ্ছু করিনি স্যার"।
এই প্রথম আমি ছেলেটার দিকে ভালোভাবে তাকালাম।
কোথাও যেনো দেখেছি ছেলেটাকে।
মস্তিষ্কে একটু চাপ দিয়ে চিন্তা করতেই মনে পড়লো, ওইদিন রাস্তায় একজন বৃদ্ধ মহিলাকে নিজ হাতে খাইয়ে দিচ্ছিলো ছেলেটা।
স্বাভাবিক ভাবেই ঘটনাটা আমার নজরে পড়লো। আজকের যুগে রাস্তার মানুষদের জন্য এইটুকুন ই বা কে করে?
কোনো বড় মনের মানুষ ছাড়া এই ধরনের কাজ অন্য কেউ করবেনা।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এই ছেলেটাই এখন এতো জঘন্য পাপ করবে?
কিছু গন্ডগোল লাগছে।
কিছু একটা কাহিনী আছে আমি নিশ্চিত।
কিন্তু আপাতত সব প্রমাণ যেহেতু রাজুর বিরুদ্ধে, তাই বাধ্য হয়েই রাজুকে ধরে থানায় নিয়ে আসতে হবে।
কন্সটেবল আসিফকে বললাম,
–লাশগুলো পোস্টমর্টেম করার ব্যাবস্থা করো। সাথে খুনের অস্ত্র এবং লাশের উপর কার আঙুলের ছাপ পাওয়া যায় এটাও ফরেনসিক ল্যাব থেকে টেস্ট করাও। খুনি যেইহোক, শাস্তি তাকে পেতেই হবে"।
–ঠিক আছে স্যার"।
.

আমি রাজুকে ধরে থানায় নিয়ে আসলাম। পুরোটা রাস্তা ছেলেটা কাঁদতে কাঁদতে বলছিলো,
"স্যার আমি খুন করিনি। আমি খুনি না"।
কেনো জানিনা আমার মনটাও বলছিলো এখানে কাহিনীটা অন্য কিছু।
কিন্তু একটা রুমে ৩টা মানুষ।
দু'জন খুন। একজন বেঁচে আছে।
তাও আবার সেই একজনকে রক্তাক্ত ছুরি হাতে লাশের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছেন অনেকে।
হিসাবটা মিলাতে পারছিনা।
সবচাইতে ইম্পর্ট্যান্ট যে কথাটা, শরীরের চাহিদা মিটানোর জন্য মানুষের অনেক উপায় থাকতে কেউ লাশের সাথে শারীরিক সম্পর্ক করতে যাবে কেনো?
এটা কেমন মানসিকতা? এ কেমন নোংরামি?
.
রুলস অনুযায়ী আসামীর সবকিছু জমা রেখে তারপর জ্বেলে নেওয়া হয়।
রাজুর সবকিছু জমা রাখলাম।
কিন্তু রাজু কান্না করতে করতে বললো,
–স্যার আমার মানিব্যাগটা আমাকে নিতে দিন। আমার মায়ের ছবি আছে এই মানিব্যাগে"।
কথাটা শুনে আমি ড্যাবড্যাব করে রাজুর দিকে তাকিয়ে রইলাম। একটা ছেলে তার মা'কে কতোটা ভালোবাসলে তার ছবি সবসময় সাথে রাখে?
এই ছেলেই কি'না তার মা বোনকে জঘন্যভাবে খুন করে নোংরামি করবে? অসম্ভব!
আমি বললাম,
–সত্যি করে বলো'তো ঠিক কি হয়েছিলো ওই রাতে"?
রাজু চোখটা মুছতে মুছতে বললো,
–সন্ধ্যায় হুট করেই আমার বোন সামিয়ার বুকে ব্যাথা শুরু হয় স্যার। ব্যাথায় কাতরাচ্ছিলো সামিয়া।
আমরা তাড়াতাড়ি সামিয়াকে হসপিটালে নিয়ে যাই।
তখন সন্ধ্যা ৭টা।
ডাক্তার শামীম সামিয়াকে একটা ইনজেকশন দেন, এবং বলেন দুইদিন হসপিটালেই থাকার জন্য। সামিয়ার কিছু টেস্ট করানো লাগবে। আমরাও থেকে যাই। রাত ৯টায় সামিয়ার বাবা আরিফ সাহেব আসেন~~~~
রাজু কথা শেষ করবার আগেই আমি রাজুকে থামালাম। বললাম,
–সামিয়ার বাবা মানে"?
–মেহরাব স্যার, আমার যখন ৪বছর বয়স তখন আমার আব্বু মারা যান। আম্মু দ্বিতীয় বিয়ে করেন। সামিয়া আমার নিজের বোন না।
আরিফ সাহেব এসে সামিয়াকে দেখে আবার চলে যান। আমার প্রচন্ড রাগ হয় এই মানুষটাকে দেখলে।
এই মানুষটার চরিত্র ভীষণ খারাপ স্যার। বেশিরভাগ রাত তো উনি বাসায় ই আসেন না। মেয়েদের নিয়ে ফূর্তি করেন। আম্মুকে বলতেন ব্যাবসার কাজে বাইরে যাচ্ছেন। কিন্তু আমি তো জানতাম উনি কি করেন। আম্মুকে এসব বললে উল্টো আমার সাথেই রাগারাগি করতেন। আমার কথা বিশ্বাস করতেন না।
উনি সামিয়াকে দেখে চলে যাওয়ার পর আমি আম্মুকে বললাম,
"এই লম্পট মানুষটা এখানে যদি আসার'ই কথা ছিলো তাহলে আমাকে নিয়ে আসলে কেনো"?
আম্মু এটা শুনে আমার উপর রেগে যান। চিল্লাচিল্লি করেন।
আর এই চিল্লাচিল্লি হসপিটালের সবাই শুনেছিলো"।
–তো আরিফ সাহেব এসে নিজের অসুস্থ মেয়েকে একবার দেখেই চলে গেলেন?
হসপিটালে থাকলেন না"?
রাজু চিল্লায়া উঠলো,
–উনি কোনো মানুষদের কাতারেই পড়েন না স্যার। আমি চাচ্ছিনা এই মানুষটা নিয়ে কথা বলতে।
আমার তো মনে'হয় এই মানুষটা খুনিও। আমার বাবাকেও হয়তো এই মানুষটা খুন করেছে"।
আমি প্রচন্ড অবাক কন্ঠে বললাম,
–মানে? পাগলের মতো কি বলছো এসব"?
–মেহরাব স্যার আমি উল্টাপাল্টা কিছু বলছিনা। আমার বাবার বন্ধু ছিলেন এই আরিফ সাহেব।
একদিন একসাথে তারা গাড়ি করে কোথাও যাচ্ছিলেন।
এক্সিডেন্ট হলো। আমার বাবা মারা গেলেন। অথচ এই আরিফ সাহেব বেঁচে গেলেন। ওইসব পুরনো কথা বাদ দিন স্যার। এই আরিফ সাহেবকে নিয়ে আর কিছু বলতে চাইনা"।
রাজুর কথা শুনে স্পষ্ট বুঝতে পারলাম সে কতোটা ঘৃণা করে আরিফ সাহেবকে। আমি বললাম,
–বুঝলাম, আরিফ সাহেবের উপর তীব্র রাগ আছে তোমার। বাদ দিলাম এসব।
ওইরাতে তারপর কি হলো"?
–আমি আম্মুর সাথে রাগারাগি করে হসপিটালের নিচে চলে আসি। রাস্তায় প্রায় ঘন্টাখানেক হাঁটাহাঁটি করি।
আমার যখন ভীষণ রাগ হয় তখন রাস্তায় একলা একলা হাঁটলে আমার রাগ কমে যায়। 
আমার রাগ কমে যাওয়ার পর আবার কেভিনে ফিরে আসি।
তখন রাত ১২টা।
আমি দেখলাম আম্মু এবং সামিয়া দু'জনেই একটা সিটে ঘুমিয়ে পড়েছে।
আমিও অন্য একটা সিটে গিয়ে শুয়ে পড়ি। আমার চোখটা লেগে আসে স্যার। ঘুমিয়ে যাই। ঘুম যখন ভাঙে তখন দেখি আমার হাতে একটা রক্তাক্ত ছুরি। রুমটা এলেমেলো হয়ে আছে।
সিটের মধ্যে দেখি আম্মুর লাশ। ফ্লোরে সামিয়ার লাশ।
আমি তাড়াতাড়ি উঠে আম্মুর কাছে যাই। আমি তখনো কিছু বুঝে উঠতে পারছিলাম না। কিছু বুঝে উঠার আগেই দরজা দিয়ে একজন নার্স ঢুকে চিৎকার করে আওয়াজ করলো। ব্যাস। তারপর তো আপনি সব জানেন।
আমি খুন করিনি মেহরাব স্যার।
বিশ্বাস করুন আমি কিছু করিনি।
আমি'তো আমার আম্মুকে পৃথিবীর সবচাইতে বেশি ভালোবাসতাম"।
.

কথাগুলো শেষ করে রাজু আবারো কান্না শুরু করলো। আমি বুঝতে পারছিলাম এখানে রাজু কিছু করেনি। রাজু ঘুমে থাকার সময় কেউ এসে খুনটা করেছে।
কিন্তু এতোকিছু হলো রুমের ভিতর, আর রাজু কিছুই টের পেলোনা?
অবাক কন্ঠে আমি বললাম,
–তুমি বলছো তোমার আম্মু এবং সামিয়া একিই বেডে ঘুমিয়ে ছিলো। কিন্তু আমরা সামিয়ার লাশটা ফ্লোরে পাই।
এটার মানে হচ্ছে খুনির সাথে সামিয়ার হাতাহাতি হয়েছিলো, যার জন্য সামিয়াকে ফ্লোরের মধ্যে খুন করা হয়েছে। কিন্তু অবাক করা বিষয় হচ্ছে কেউ তোমাদের কেভিনে এসে তোমার আম্মুকে খুন করলো, নোংরামি করলো, সামিয়ার সাথে হাতাহাতি হলো, তারপর সামিয়াকেও খুন করলো। অথচ তুমি কিচ্ছু টের পেলেনা? এটা কিভাবে সম্ভব"?
রাজু ঢোঁক গিলে ভীত কন্ঠে বললো,
–আমি চোখ খুলার পর এটাই ভাবছিলাম স্যার। আমার মনে হচ্ছিলো আমি স্বপ্ন দেখছি। এতকিছু হলো অথচ আমি টের ই পাইনি। কিন্তু আমার ঘুম খুবই পাতলা স্যার। কোনো কিছুর হালকা শব্দ পেলেই আমার ঘুমটা ভেঙে যায়। কিন্তু ওইরাতে এমন হয়নি।
এটা কিভাবে হলো আমি জানিনা"।
রাজুর সাথে আর কোনো কথা বাড়ালাম না। কিন্তু আমি নিশ্চিত, এই ভয়ানক খুনটার পিছনে অনেক রহস্য লুকিয়ে আছে। যেটা আমাকে জানতেই হবে।
অনেকগুলো প্রশ্ন এখন মাথার ভিতর নাড়াচাড়া করছে,
"২জন নারীকেই খুন করলো কেনো?
"একিই রুমে রাজু থাকা সত্বেও রাজু কে খুন করলোনা কেনো"?
"আরিফ সাহেব এসে মেয়ের এই অবস্থা দেখেও হসপিটালে থাকলেন না কেনো"?
" আরিফ সাহেব কি খুনটা করেছেন?
না'কি রাজুর কোনো শত্রু"? না'কি অন্যকেউ?
সবচাইতে বড় যে প্রশ্ন,
"কেউ খুন করে লাশের সাথে শারীরিক সম্পর্কে করবে কেনো"?
উত্তর'গুলো আমাকে খুঁজে বের করতেই হবে। আর আমি নিশ্চিত, প্রতিটা প্রশ্নের উত্তর ওই হসপিটালেই পড়ে আছে।
.

~ মেহরাব নয়ন

সত্য ঘটনা অবলম্বনে রচিত- পুলিশ কেস



#সত্য_ঘটনার (সামান্য করল্লা জুস মিশ্রিত)

পুলিশ এক্সট্রা ডায়েরী

#পাপিয়ার বয়স ৪৪ বছর তাহার স্বামী #বক্কার  একজন নিরীহ #চাকরিজীবি! তাহাদের সংসারে ০২ ছেলে ০১ মেয়ে। বড় ছেলে ** ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে, ২য় ছেলে ফোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে এবং মেয়ে *** উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭ম শ্রেনীতে লেখাপড়া করে। 
বক্কার চাকুরীর সুবাদে অন্য জেলায় থাকে..ছেলেরা থাকে দুরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে! 
পাপিয়া মেয়ে নিয়া ** বাজারে মার্কেট এর পিছনে  সংলগ্ন বাসায় বসবাস করে। পুলিশ ডায়েরী এখানে 
বিগত ৭/৮ বছর পূর্বে বক্কর তাহার জমি ০৯ লক্ষ টাকায় বিক্রি করিয়া এবং নিজের জমানো ৪/৫ লক্ষ টাকাসহ মোট ১৪,০০০০/-  (চৌদ্দ লক্ষ টাকা) মূলধন দিয়া *** বাজারে  ০১ টি কাপড়ের দোকান চালু করেন।নিজেই দোকানে ব্যবসা করিতেন!
 ২০১৬ সালে বক্কর একটি প্রাইভেট চাকরী পাওয়ায় এবং তাহার  স্ত্রী পাপিয়া  দোকানটি পরিচালনা করার আগ্রহ প্রকাশ করায় বক্কার তাহার বউ পাপিয়াকে  দোকানটি পরিচালনার জন্য দিয়া চাকুরী করতে চলিয়া যায়। 


*** বাজারে মার্কেট সংলগ্ন পাপিয়ার দোকানের কাছেই #মজনু বয়স ২৮ এর   একটি মোবাইল #হিংকিমিংকি দোকান আছে। মজনুর বউ ও ২ বাচ্চা আছে!তাহার গ্রামে বাড়ীতে থাকে!

পাপিয়া অবসরে দেখার জন্য  মাঝে মধ্যে জনি ভাই মিয়া খালিপা সানি লিওন অভিনীত পারিবারিক সিনেমা ডুকাতো মজনুর কাছ থেকে!

মজনু পাপিয়াকে ডাকিত ভাবি
তাই পাপিয়ার উপ্রে তাহার ছিল দাবী!


সেই সুবাদে  পাপিয়া ও মজনুর মধ্যে মধ্যে ঘনিষ্ট সম্পর্ক হয় তাহারা #সামাজিক দুরত্ব না মানিয়া! 
#জনিভাই ও #মিয়াখালিপার কারেক্টারে অভিনয়ে  লিপ্ত হয়।(ছেহ ছেহ)

এসব  নিয়া এলাকায় বিগত কয়েক মাস ধরিয়া বিভিন্ন ধরনের কথাবার্তা  হয়!

পাপিয়া মজনুকে বলে -- 
চিন্তা নাই ঠাকুর পো...
যত পার মার ঠা*
হোচট খেলে  বক্কার হবে ছেলের বাপ!


মজনু দেখল ঠিকিইত্ত্ব - 
খামু আমি - বিল দেবে বক্কার

বিষয়টি জেনে বক্কার ও তাহার ছেলেমেয়েরা খুবই মর্মাহত ও লজ্জিত হয়!
পাপিয়া ও মজনুর  গতিবিধি  ছেলেমেয়েরা অনুধাবন করিতে থাকেন।
গত ইং ২২/০৫/২০২০ তারিখে  দেবর মজনুকে নিয়ে পাপিয়া  ঘুরিতে  কাপ্তাই যায়। যাহা পাপিয়ার  বড় ছেলে দেখিয়া ফেলে।
  বড় ছেলে তার মাকে জিজ্ঞাসা করে -মজনুজে  কেনো সাথে এনেছে?
  উত্তরে পাপিয়া  বলে যে “সে তোমার মামা লাগে, সে আমার সাথে দোকানের মালামাল আনার জন্য চট্টগ্রাম যাইতেছে। সে যে আমার সাথে চট্টগ্রাম যাইতেছে, সেটা তোর বাবাকে বলিস না”। #ওরে মজারে..

চট্টগ্রাম যাইয়া পাপিয়া ও মজনু ব্যবসায়িক কাজে৩দিন  হোটেলে কাটায়! 

৪নাম্বার দিনে তাহারা রাঙামাটিতে যায়।
সেখানেও তাদের গুরুত্বপূর্ণ কাজ থাকায় বাড়িতে না যাইয়া হোটেলে যাত্রী যাপন করে!  

সেখান থেকে কাজ শেষ করিয়া তাহারা  বক্কারের  খালী বাড়ীর তালা ভাঙ্গিয়া সেখানে রাত্রিযাপন করে। পুলিশ ডায়েরী এখানে 
(কাজ শেষ না হইলে কি আর করা)
পরদিন ২৪/০৫/২০২০ ইং তারিখ সকাল ১১.৩০ ঘটিকায় বাড়ীতে থাকা বক্কারের  জায়গা জমির কাগজপত্র, ০১ ভরি স্বর্ণালংকার, ২০ হাজার টাকার প্রাইজবন্ড, কয়েকটি বিদেশী কম্বল সহ কিছু মূল্যবান ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী নিয়ে পাপিয়া ও মজনু গুরুত্বপূর্ণ কাজে অজ্ঞাত স্থানে চলিয়া যায়। 
বক্কার এত কাহিনী যখন টের পাইলো - তৎক্ষনাৎ থানায় অবগত করিলে পুলিশ কেস করে!  

#ছিদ্রসন্ধানী
পাপিয়া ও মজনু অবশ্য এরেস্ট হইছে!  কি আর বলব দাদা,মজনুরা রোগা শরীরের হইলেও চেচিস ভালই থাকে!


আর পাপিয়ার যত বয়স বাড়ে ততই বলে - " - আমি আর পারছিনা"
(কি করতে বলছে আর কি পারছেনা তা আমি সরল মানুষ কিছুই বুঝিনাই🤔)

***(ছেলেমেয়েদের কথা চিন্তা করে লোকেশন আর নাম ১৮/২০ করা হইছে) 
প্লিজ #শেয়ার করুন - #সচেতন হউন!

শনিবার, ২৭ জুন, ২০২০

ঈশতি'র গল্প - "অপেক্ষার প্রহর"

রাত যখন ১২টা তখন তুরাজ বারান্দায় বসে হুমায়ুন আহমেদ স্যারের অপেক্ষা বইটি পড়ছিল, হঠাৎ বইটি পড়া শেষ হলে সে এক পলকে চাঁদের দিকে তাকিয়ে রইলো। আর নিজেই নিজেকে বলল, অপেক্ষা আসলে যে কতটা কষ্টের তা আমার থেকে ভালো কে ই বা বুঝবে। এরপর সে তার রুমে ঢুকে টেবিল থেকে একটি ডায়েরি এবং একটি ছবি বের করে  (ছবিটিতে তার সাথে একটি মেয়ে ছিল) কান্না করতে করতে লিখে  "I am a  failure".  

লেখকের সব লেখা এখানে

এর পর সে শুয়ে শুয়ে চিন্তা করে তার অপেক্ষা কি কোন দিনও শেষ হবে না। পর দিন সকালে সে নামাজ পড়ে তার অফিসে চলে যায়। এর কিছু দিন পর তাকে বদলি করে দেওয়া হয় আমেরিকার নিউইয়র্ক শহর এ। সে তা জানার পর থেকেই তার মধ্যে একটি অদৃশ্য অনুভূতি কাজ করছিল। কারণ সেই  শহরের সাথে তার ছিল অনেক গভীর সম্পর্ক।কিন্তু তুরাজের বাবা মা তাকে সেখানে যেতে দিবে না, তাও সে অনেক কষ্টে তাদের বুঝিয়ে তাদেরকে. নিয়েই সেখানে যায়।
সে সিদ্ধান্ত নেয় যে সে মেয়েটিকে খুঁজে বের করবেই কিন্তু তার ভয়ে ছিল যে সে কি পারবে নাকি, কারণ তার কাছে সেই ছবি আর মেয়েটির নাম ছাড়া কিছুই ছিল না। সে অনেক কষ্ট করে খোঁজার জন্য,পারে না। প্রায় এক মাস পর,,,
সেদিন বাসায় তুরাজের বাবা মা ছিল না, সে তার বাবা মার রুমে ঢুকে আলমারিতে অনেক খোঁজাখুঁজির পর একটা কাগজ খুঁজে পায় আর সেই কাগজ থেকে এমন একটা জায়গার নাম পায় , যেটা তার আশা বাড়িয়ে দেয়, আসলে সেটা ছিল একটি এতিমখানার ঠিকানা। সে যায় ওই এতিমখানায় এবং তাহা নামের মেয়েটির কথা জিজ্ঞেস করে কিন্তু সেখানে কর্মীরা কিছু বলে নাই। সে অনেক চেষ্টা করে কিন্তু কিছুই হয় না। এরপর সে তার পরিচয় তা দেয় যে সেও এইখানেরই একটা বাচ্চা ছিল তাও কিছু হয় না। পরে সে হতাশ হয়ে চলে আসে। এরপর থেকে সে সবসময়ই সেখানে যেতো।

লেখকের সব লেখা এখানে

একদিন তুরাজ আবারও সেখানের  অন্য একজনের সাথে কথা বলতে গেলেই সে দেখে একটি মেয়ে ওই মানুষটিকে জিজ্ঞেস করছে, "আপনি কি আহান নামের ছেলেটি সম্পর্কে কিছু বলতে পারবেন" কিন্তু মেয়েটি ও কিছু জানতে পারল না এবং সেখান থেকে চলে যায় আর তুরাজ অপলক দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে থাকে। এর পর মুহূর্তেই তুরাজ মেয়েটির পিছনে দৌড়ে যায় এবং জিজ্ঞেস করে  ( বাংলাতে) "ছেলেটি আপনার কে হয় ?" মেয়ে তাকে ইংরেজিতে বলে." Who are you? " তখন তুরাজ  তাকে তাহা বলে ডাকে এবং পকেট থেকে সেই ছবিটি বের করে তাকে দেখায়
আর মেয়েটি কান্না কান্না গলায় ভাইয়া বলে ডেকে তুরাজকে জড়িয়ে ধরে..
এভাবেই  দুই ভাইবোন দুইজনকে খুঁজে পেতে সফল হয়।

লেখকের সব লেখা এখানে 

 আহান (তুরাজ)  তাহা আর তাদের বাবা মা বাংলাদেশী ছিল কিন্তু তারা চার জনই ছিল আমেরিকার নাগরিকত্ব প্রাপ্ত।  তাদের বয়স যখন ৫ কিংবা ৭ তখন তাদের বাবা মা মারা যায় এবং আমেরিকার সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তাদের দাদা দাদী রা থাকা সত্ত্বেও তাদের কে এতিমখানায় নিয়ে যাওয়া হয়। আর দুজনকে আলাদা পরিবারে দিয়ে দেওয়া হয়।
কিন্তু খুব ছোট বেলায় তাদের কে এইটা সম্পর্কে বলে তাদের বাবা মা এবং এও বলে যে যদি এমন হয় তাহলে যেনো তারা তাদের দুই জনকে খুঁজে বের করে......
এইভাবেই প্রায় ২৫বছর পর তারা আবার একসাথে হয়....

লেখকের সব লিখা এখানে
- Esrat Jahan Eiste 
-12 th grade student 
- Bangladesh Navy College Chattogram


শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২০

ইসরাত ঈশতি'র কবিতা "যাদুর শহর"

Collected From - facebook


যাদুর শহর

আমার ব্যস্ততম যাদুর শহরে
তোমায় আমন্ত্রণ
বুড়িগঙ্গার বাষ্পায়িত পানি আর
সাথে* কিছু অভিমান উপহার দেব

তবে এসো কিন্তু এ শহরে
আবেগ আর অনুভূতি দিয়ে গড়া
ছোট্ট কুড়ে ঘরে

জোনাকি আর চাঁদের আলোয়
টংয়ের দোকানের এক কাপ চা ই নাহয় খেতে দেব

তবে এসো কিন্তু


ভোরের তারা রাতের তারা
দেখতেই নয়* এসো

হয়তো আমার এ যাদুর শহর
তোমাকেও যাদুকর বানিয়ে দেবে

এসো কিন্তু আমন্ত্রণ রইল
আমার ব্যস্ত শহরের
অদৃশ্য যাদুকর

লেখকের সব লেখা  এখানে

-Israt Jahan Eiste
-12 th Grade Student
-Bangladesh Navy College Chattogram 

মেহরাব নয়নের সব লেখা এখানে


   

রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

রুমমেটের কলমের আঘাতে রক্তাক্ত আসমা-




ঠুনকো বিষয় নিয়ে কথা কাটা কাটির এক পর্যায়ে মেজাজ নিয়ন্ত্রনের বাহিরে চলে গেলে নিজ রুমমেটকে আঘাতে জর্জরিত করে অপর রুমমেট। ভুক্তভোগীর মাথায় তেমন বড় কোন আঘাত না লাগলেও মনে খুব ব্যথা পেয়েছে - তাকে নিকটস্হ মনো-চিকিৎসালয়ে ভর্তি করানো হয়েছে। 

আজ বৃহস্পতিবার বিকেল চারটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় কাজ সেরে হলে ফিরলে নিজ রুমমেট আকলিমা আক্তার(২২) এর সাথে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত করে আসমা খানম(২৩)। আকলিমা আক্তারের চিৎকার শুনে পাশের রুম থেকে বিবি কুলসুম এসে দেখে আকলিমার মাথা থেকে ফোটা ফোটা রক্ত বের হচ্ছে আর সে চিৎকারে কাতরাচ্ছে। এসময় বিবি কুলসুম তাদের দুজন সম্পর্কে বলেন, "তারা প্রায়ই সামান্য বিষয় নিয়ে ঝগড়া করে থাকে, এটা তাদের নিত্য কাজে পরিণত হয়ে গেছে। " 

বিবি কুলসুমের সহযোগিতায় পুলিশ ঘটনাস্হলে পৌছলে সেখান থেকে একটি রক্তাক্ত কলম  উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারনা করছে এ কলম দিয়েই হয়ত তাকে আঘাত করা হয়েছে৷ ঘটনাস্হল থেকে তিন হাত দুর থেকে আকলিমাকে উদ্ধার করে পুলিশ তাকে নিজের খাটে বসিয়ে রেখেছে 😊।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসমা বলে, "আমি যখন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে খারাপ পরীক্ষা দিয়ে রুমে পৌছাই তখন এসেই দেখি সে আমার আগের বয় ফ্রেন্ডের দেয়া সুন্দর কলমটি দিয়ে সে তার বয়ফ্রেন্ডের কাছে চিঠি লিখছে "। তাকে আঘাত করার কারণ হিসেবে আসমা বলেন, " সে এমনই, এর আগেও আমার অনেক কিছু ঠিক জায়গা থেকে সরিয়ে নিজেরটা ঐ জায়গায় রেখেছে, আমার সব জিনিস সে ব্যবহার করে নষ্ট করে ফেলে"। "এমনিতেই খারাপ পরীক্ষা দিয়ে বাসায় ফিরেছি তার উপর এমন অবস্হা দেখলে কার মন ঠিক থাকে বলেন- "যোগ করেন আসমা। 

এটা সাধারণের চোখে সামান্য সমস্যা হলেও আসমা খানম এটাকে মারাত্বক সমস্যা চিহ্নিত করে বলেন " এর আগেও সে বাসে আমার খাতা সামনের সিট থেকে সরিয়ে পেছনের সিটে রাখে, আর সামনের সিট নিজে দখল করে বসে, আমি ভাল পরীক্ষা দিলেও সে হিংসে করে"।☺

তাদের এ ঘটনা সম্পর্কে হোস্টেল প্রভোস্ট আকমল আলী বলেন, " মেয়ে তো মেজাজ সব সময়ই খিটখিটে থাকে, তারা খুব সহজ ব্যাপারগুলোকেও সহজভাবে নিতে পারে না "।এর আগেও খুব তুচ্ছ ব্যাপার নিয়ে তাদের ঝগড়া বিবাদের কথা স্বীকার করে পাশের রুমের বাসিন্দা সলিমা খাতুন বলেন, " আমরা প্রায়ই তাদের সমস্যা নিয়ে কথা কাটা কাটির চিত্র দেখি, তারা প্রায়ই স্যারদের কাছে নালিশ নিয়ে যেত "৷ 

বিঃদ্রঃ ঘটনার পুরো কাহিনী, চরিত্র ও উপমা সবকিছুই কাল্পনিক, তবে এ ঘটনার মত ঘটনা আমাদের সমাজে প্রায়ই হয়ে থাকে যেখানে অল্প হলেও তাকে আমরা খুব বিশাল করে ঝগড়া বিবাদে জড়িয়ে পরি৷ সমাজে বা পরিবারে বা আমাদের হলগুলোতে শান্তি শৃংখলা বজায় রাখতে আমাদের আরও অনেক বেশী সহনশীল হতে হবে।

শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

বহু প্রতীক্ষিত বেদনার সুর-


প্রতিদিনের মতো আজও ঘুম থেকে উঠলাম বিশ্ববিদ্যালয় যাবো বলে কিন্তু আজকের দিনটা অন্য দিনের থেকে একটু ভিন্ন। কিছুটা পার্থক্য রয়েছে- প্রতিদিন যাই ক্লাস করতে কিন্তু আজ যাচ্ছি ক্লাস কে বিদায় জানাতে। 

আজকে যদিও বা একটি স্মরণীয় দিন হতে যাচ্ছে জীবনের যেখানে ভালো-খারাপ অনেক কিছুকে হয়তো মনে পড়বে। জীবনে ৪ টা বছর কাটালাম একটা পরিবারের সাথে যেখানে একেক জন একেক জায়গায়, একেক জনের মন মানসিকতা একেক রকম তবুও তো আমরা একটা পরিবার।

পরিবারে বাবা মা ভাই বোন সবাই থাকে অনেকটা তেমনই- এখানে কিছু মানুষ আছে যারা আমাদের বাবা মায়ের মতই কখনো আমাদের সাথে হাসে, কখনও বা অনেক বকা দেয়, ভুল শুধরানোর সময় দেয়, অনেক কিছু শেখায়। এই শিক্ষাটা পাঠ্যপুস্তকে হয় এবং সমাজ জীবনে কিভাবে চলতে হবে সেটার ও শিক্ষা দেওয়া হয়। সেটা আর কেউ নয় আমাদের শ্রদ্ধেয় শিক্ষক-শিক্ষিকারাই আমাদের শিখিয়ে থাকেন ।

আর আমরা যাদের সাথে ঝগড়া করি, সুখে দুখের কথা বলি, তারা আর কেউ নয় আমাদের সহপাঠী। আচ্ছা! যাই হোক -যথারীতি এই দিনটার জন্য সবাই অপেক্ষা করে চারটা বছর পার হবে কখন, কখন সার্টিফিকেট হাতে পাবো, কখন বলবো আজ আমার অনার্স শেষ।

 সকাল বেলা যখন বিশ্ববিদ্যালয় উদ্দেশে রওনা হলাম কিছুটা ব্যতিক্রম ই অনুভব হল- কেনো যেনো ভালো লাগছিলো না মনটা। একটু ভারাক্রান্ত ছিল। যথারীতি বিশ্ববিদ্যালয় পৌছালাম- শুরু হলো অনুষ্ঠান নিজেদের প্রোগ্রাম নিজেরাই সাজাবো আনন্দ। আহা! কি আনন্দ ইনভিটেশন কার্ড দেয়া হলো শিক্ষকদেরকে, আশা ছিল সবাই আসবেন যদিও বা কর্মব্যস্ততায় অনেকে আসতে পারেন নি কিন্তু যারা ছিলেন তারা সকলেই খুব কাছের। একজন মানুষের কথা না বললেই হয় না শ্রদ্ধেয় শিক্ষিকা- ফৌজিয়া ফাতেমা।

উনি পড়াতেন ঠিকই কিন্তু ছিলেন আমাদের খুব কাছে- যার কাছ থেকে জীবন কি, আত্মবিশ্বাস কি, এক প্রকার বলতে গেলে ছোট বাচ্চা যেভাবে হাঁটা শেখে বাবা-মায়ের হাত ধরে, উনি তাই শিখিয়েছেন

 আর একজন- সুমনা ম্যাম। উনি সর্বদা শিখিয়েছেন আদর্শ নীতি বলতে কিছু থাকে। নিজেকে গড়ে তোলার জন্য রাস্তা নিজেকে করতে হয় -আত্মবিশ্বাস নিজের প্রতি ও সৃষ্টিকর্তার প্রতি। যদিও বা অনেক বকা খেয়েছি ওনার কাছ থেকে। আর সদা হাস্যোজ্জ্বল আমাদের ফরিবা ম্যাম এক প্রকার বন্ধুই বলা চলে।

 যাই হোক এবার আসি বন্ধুদের কথায় -অনেকের সময় অনেক ঝগড়া- বিবাদ দুঃখ -কষ্ট, আঘাত না জানি কয়েকজন কয়েকজনের মনে দিয়েছ। কিন্তু ওই দিন কেউ কারো মনে আঘাত দুঃখ-বেদনা কিছু নিয়ে ছিল না, মনে হচ্ছিল যেন আমরা একটি পরিবার একসাথে ছিলাম আছি। আলাদা হবো না সবাই মিষ্টিমুখ করলাম আমাদের এই আদর্শ শিক্ষক শিক্ষিকাদের সাথে ভালো সময় কাটানো -কিন্তু যখন আমরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হচ্ছিলাম তখন কেন যেন মনে হচ্ছিল যেনো কোন কিছু হারিয়ে ফেলছি, না যেন কোন কিছু ছুটে যাচ্ছে। বারবার মনে পড়ছিল কিছু তো আছে যা মনের ভিতর দুঃখ বেদনাকে নাড়া দিচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যম্পাসে আনুষ্ঠানিকতা সেড়ে যথারীতি রেস্টুরেন্টে পৌছালাম সবাই মিলে। কে কার সম্বন্ধে কি মন্তব্য করব,তার জন্য শার্ট নিয়ে শুরু হয়ে গেল লেখালেখি। অনেকে অনেক লিখা লিখছে, কথায় বলে না বন্ধুত্ব মানে হচ্ছে- যে তোমাকে পচাবে যে কোনো জায়গায় -কিছু অদ্ভুত কথা দিয়ে। যথারীতি তাদের লেখাগুলো সেরকম ছিল। কেউ কাউকে পচাতে এক বিন্দু জায়গা বাকি রাখেনি, তা ছিল শার্টের লেখা প্রতিটা অক্ষরে তাদের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ।সবশেষ খাওয়া দাওয়া- তারপর শুরু হবে রং মাখামাখি, যতই বললাম না, রং মাখবো না -তাও বাঁচা গেল না। এমন কি গাছের ঝোপে লুকিয়ে ছিলাম রং লাগাবো না কিন্তু পারলাম কই? এভাবেই কেটে গেল--

এবার সময় হল ঘরে ফেরার। অনেকটা মনে হচ্ছিল একটা মেয়েকে যখন বিয়ে দেওয়া হয় ,বাবা মা তাকে অন্যের হাতে তুলে দেয় বা বলা চলে একটা নতুন জীবন শুরু হয় ।অনেকটা সেরকমই মনে হচ্ছিল ,এই অভিভাবক রা আমাদের এতদিন সাহায্য করেছেন জ্ঞানার্জনের জন্য। আজ হয়তো তাদের ফেলে নতুন একটা জীবন ,নতুন একটা অধ্যায় শুরু করার জন্য আমরা দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে ছিলাম ।খারাপ লাগছিল আবার কবে সবার সাথে এক হয়ে কোথাও যাব ,সবাই একসাথে খাব, মজা করবো। আদৌ কি হবে সেরকম আর ? নাকি শুধু স্বপ্নই থেকে যাবে। বাস্তবতা বলে -এই দিনগুলো আর কখনো ফিরে আসবে না । হয়তো সে কারণেই বলে সব বিদায় মধুর হয় না ,কিছু বিদায় দুঃখের হয় ।যে বিদায় কে আমরা ধরে রাখতে পারি না অনেকটা সময় এর মত।

সেদিন মনে হচ্ছিল -এই দিনটা আরো পরে আসতো আরও কিছুদিন থেকে যেতাম। কিন্তু সময় তো! সময়ের কাটা চলবে সেটা কখনোই কারো জন্য থামবে না ।বিদায় টা অনেকটা সে রকমই ছিল ।

সুখের অনেক অর্জনের মাঝেও ছিল বেদনা, কষ্ট হচ্ছিল কিন্তু কিছু করার ছিল না ।এক পর্যায়ে মনে হলো এটা আসলেই স্মরণীয় দিন, ঠিকই একপ্রকার অনাকাঙ্খিত দিন।পরিবার থেকে আলাদা হওয়ার কষ্ট, আপন মানুষ গুলো থেকে দূরে যাওয়ার কষ্ট -আর এভাবে শেষ হলো এই বহুল প্রতীক্ষিত দিনটি।

খাইরুন নাহার
১৮/০৯/১৮
চট্টগ্রাম

বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

আ্যা জার্ণি টু টিউসান -A journey to tuition


সেই স্কুল লেবেল থেকে নানান ধরনের জার্ণির কথা পড়ার পর আবার পরীক্ষার খাতায় লিখেও এসেছি। বেশ কিছুদিন অন্যের সৃজনশীলতায় ভর করলেও পরে নিজের উপরই ভরসা করতে শিখে গিয়েছিলাম। এরপরও অনেকদিন এই একই জিনিস নিয়ে আকাঝোকা করে চলেছি।

এখন অবস্থানটা একটু ভিন্ন,
এখন আর নিজে লিখিনা অন্যকে লিখাই, নিজের সৃজনশীলতাকে অন্যের মাথায় কপি পেস্ট করে এখন পেট চালাই। সেই পেটচালানোর ইতিহাস নিয়েই আজকের লিখা, "আ্যা জার্নি টু টিউসান"।
মধ্যবিত্ত শ্রেনীর পরিবারের পোলাপানের হাত খরচ চালানোর বা মাঝে মাঝে পেট চালানোর মাধ্যম এই টিউসান। প্রতিদিনের শত কাজ সেরে বিকেল হতেই ছুটে চলে নিত্য ডেসটিনেসান টিউসানের দিকে।
যখন ইন্টার মিডিয়েটে পড়ি তখন থেকেই টিউসান পড়ানোর অভিজ্ঞতা মাঝে দুই বৎসরের গ্যাফ আবার শুরু করি চট্টগ্রামের নামজাদা এক স্কুলের মেধাবী এক শিক্ষার্থীর গাইড হিসেবে।বর্তমানে অবশ্য ঐ ছাত্র আর আমার ছাত্র নাই সে এখন অন্যের। এরপর আমার ছাত্র-ছাত্রীর তালিকায় এসেছিল আরও পাচজনের নাম। এখন আমার মাত্র দুইটাই টিউসান আছে -একটা সকালে আরেকটা বিকেলে। সকাল বিকাল ভাগ করে টিউসান করানোর কারণটা আরেকদিন বলব আজকে অন্য কাহিনী বলি।

১ম টিউসানঃ সকালের টিউসানটা শহরের অদুরে। শহর থেকে মানে আমি যেখানে থাকি তার থেকে ১৫ কি মি দুরে। প্রতিদিন সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে মুখ ধুয়েই ব্যগ নিয়ে রওয়ানা হতে হয় টিউসানের উদ্দ্যেশে ৪৫ মিনিট পর টিউসানে পৌছে স্টুডেন্টকে উঠাই, তারপরের ৫ মিনিট আমার রিফ্রেশমেন্টের জন্য। এরপর স্টুডেন্ট এসে যথাযথ সম্মানপ্রদর্শনপূর্বক সামনে বই নিয়ে বসে। নিত্য কাজ সে করতে বসে -বিখ্যাত ডায়ালগ দিনে কমপক্ষে চারবার তাকে শুনতে হয় "প্রাকটিস মেইকস এ ম্যান পারফেক্ট"।প্রাকটিস শেষে স্যার মাথা উঠিয়ে উত্তরপত্র যাচাই করে আবার সেই বাণী শুনিয়ে বলে যত করবা তত ইস্পাত কঠিন হবা "কর কর"...। এর কিছুক্ষন পর বাচ্চার মা আসে খাবার প্লেট নিয়ে, একটু শাসানো কন্ঠেই শুনতে হয় "আগে খেয়ে নেন ঠান্ডা হয়ে গেলে ভাল লাগবে না"।
পুরোদস্তুর মনোযোগ দিয়ে পরানোর ফাকে হাসিমাখা "ওকে" শুনে মা চলে গেল। এবার আবার প্রাকটিসের পালা আর স্যারের ভোজন। গরম চায়ে চুমু দিতে দিতে স্যার একটু গল্পের তালে ছাত্রকে আনন্দ দিতে ভুলে না কারণ বিদায় বেলায় কাউকে কষ্ট দিতে নাই, লোক মুখে শুনা।
দেন ওয়ালাইকুম সালাম বলে বিদায়�

২য় টিউসানঃ আমার টিউসান যাত্রার দিক বিবেচনা করে কেউ আমাকে ভ্রমনপিয়াসু না বলে থাকলে তা খুব অন্যায় হবে। সকালের টিউসানের কথা বলার পর বিকেলের টিউসানের বর্ণনা দিতে গিয়ে নিজেকে একটু ট্রাবলার ভেবে আনন্দ পাচ্ছি। বিকেলের হাল্কা ঘুম থেকে উঠে টিউসানেরর জন্য প্রস্তুতি নেই, ১.৩০ ঘন্টার জার্ণি বলে কথা। এই টিউসানটা শহরের একদম কেন্দ্রে যেখানে অনেক জ্যাম থাকে।সাজুগুজু করে বের হয়ে গাড়ি চেপে বসেও একঘন্টার একটা ঘুম অনায়াসেই দেয়া যাবে।কিন্তু মানুষের ঘনত্বের কারণে তা আর হয়ে উঠেনা। ঠিক একঘন্টা পর গাড়ি থেকে নেমে ক্লান্ত শরীরটা যখন একটু বিশ্রাম চায় তখন স্যার বসার যাওগাও না পেয়ে বরং হাটার সিদ্ধান্ত নেয়। হাটতে হাটতে নিকটস্থ রেস্টুরেন্ট থেকে স্ন্যাকসটা হালকা সেড়ে নেয় কারণ স্যারের বিশ্বাস পেট খালি থাকলে টিউসানে খাবার দিবে না। তারপর টিউসানের বাসার সদর দরজায় টোকা, বহুত কষ্টকর দরজাটা খোলা সেই চিন্তা থেকে নিজে দরজা না খুলে অল্প কষ্টের টোকা মারে সেটা বরং তার কষ্ট লাগব করে। এরপর ছাত্রের উপস্থিতি, নিত্য কর্ম তার - টেবিলের খালি পানির গ্লাসটা একটু ভর্তি করে আনা। সেটা সে করে খুব আনন্দের সাথেই কিন্তু যেই তাকে পড়ার কথা বলা হয় তার পেটটা হঠাৎ ব্যথা করে উঠে।আবার একটু পর ঠিক ততক্ষনে স্যার তাকে ঐকাজ করা থেকে অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে।স্টুডেন্টের এমন অভ্যেসে স্যার নিত্য পুরষ্কারের ব্যবস্থা করে। প্রতিদিন তারজন্য থাকে নানান চমক। এই ধরুন, "তিনশ টাকার কথা বললে আরও দুই মিনিট এক্সট্রা কথা বলার সুযোগ। একদিন তাকে একটা টার্গেট দিয়েছিলাম। সে পড়তে চাচ্ছে না কোনভাবেই, উল্লেখ্য কারেন্ট ছিলনা গরম বেশী। পকেটে একটা পালস্ চকলেট(তার প্রিয়) থাকায় হঠাৎ বুদ্ধি আসল একটা পুরষ্কার ঘোষনার। তাকে টার্গেট দেয়া হল সে যদি বিশমিনিটে বিশটা রাইট ফর্ম অব ভার্ব করে দিতে পারে তাহলে সেই চকোলেটটটা তার হবে। সে আনন্দের সাথে টার্গেট নিল। সে আমাকে বলে, "স্যার,আমি ফ্ল্যাইম-৭১ এর মেম্বার আমি টার্গেট নিতে পছন্দ করি"।
সেই সুযোগ হাতছাড়া না করে বররং তা সঠিক সময়ে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে ছাত্র-শিক্ষক দুইজনাই বেজায় খুশী�।

এর কিছুক্ষন পর হঠাৎ ছাত্রের প্রস্থান একটু পরেই চায়ের ট্রে নিয়ে তার আগমন। এ দেখি এক শরীরে বহুরুপ।ছাত্রসাহেব দক্ষতার সাথে খাবার পরিবেশন করেরে এবার পাশে বসে আড্ডা শুরু করলে স্যারও আর আপত্তি করল না। পরবর্তী দিনে আসার ভবিষ্যদ্বানী করে ওয়ালাইকু আস্সালাম বলে প্রস্থান করে শিক্ষক মহোদয়।

এ যাত্রায় এ পর্যন্তই�

বৃহস্পতিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

ভাই পুলিশ আইছে!!




আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম(আইআইইউসি) এর অধ্যায়নরত ছাত্রদের সাত নাম্বার ছাত্রাবাস এটি। চট্টগ্রাম শহরের প্রাণকেন্দ্রে একটি অভিজাত আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর রুটের 77 নম্বর বাসায় এর অবস্থান। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা তাদের নিত্যকর্ম গবেষণা ,আড্ডা অন্যান্য সকল কর্ম সেরে ঘুমোতে ঘুমোতে একটু দেরী হয়ে যায়। সেদিন ছিল ২১ শে মার্চ ২০১৫ বরাবরের মতোই হলের ২০ থেকে ৩০ শতাংশ ছাত্র জেগে ছিল বাকি সবাই ঘুমিয়ে প ছিল ভোর তিনটে ৫৬ মিনিট-চাঁদনী রাত; এমন একটি সুন্দর রাতে আল্লাহর কাছে এক আত্মসমর্র আধারে তার প্রভুকে প্রাণভরে ডাকবে বলে প্রার্থনা ঘরে যাচ্ছে। এমন সময়ে সে লক্ষ্য করলো ভব কারুকার্যমন্ডিত ফাক দিয়ে দেখা যাচ্ছে গুটিকয়েক' লোক দাঁড়িয়ে কথা বলছে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে। তারা কি কি বিষয় নিয়ে কথা বলছে তা আর সে আত্মসমর্পণকারীর ক আন্দাজ করলো হয়তো তারা রাতের আঁধারে আর দশটি ছেলের মতো এখানে দাঁড়িয়ে আড্ডা দিচ্ছে, বা সিকিউরিটি গার্ডের কয়েকজন মিলে হয়তো এখানে দাঁড়িয়ে কথা বলছেন- মুহূর্তের মধ্য করে দিয়ে ,ভবন এর সদর দরজায় ঠক ঠক ঠক আওয়াজ করতে লাগল সেই মানুষগুলো।  
 তখন সে আত্মসমর্পণকারী আর বুঝতে বাকি রইলো না যে এই মান অন্য সকল মানুষের মতো আড্ডাবাজ বা এরা কোন সিকিউরিটির লোক না বরং এরা সরকারী পোশাকধারী লোক- 

অল্প কিছুক্ষণ পরেই আজান হবে দিনের প্রথম আজান- ফজরের নামাযের আযান। সবাই ঘুমে মগ্ন অনেকে আবার জাগ্রত কিছুক্ষণ পরই পরীক্ষা , আবার অনেকে হয়তো ভেবে রেখেছেন নামাজটি পড়ি তার পরেই না হয় ঘুমাই। এতক্ষণে হলের পরিচালকদের সহযোগিতায় কেয়ারটেকারের ঘুম ভাঙলো এবং তার সহযোগিতায় ভবনের মূল ফটক দিয়ে প্রবেশ করলো অজ্ঞাতরা। অজ্ঞাতদের সরকারি ভুটের ঠক ঠক ঠক আওয়াজে আত্মসমর্পণকারী বুঝতে পারল যে, হ্যা! এবার উপরে চলে এসেছে। সে যখন নিশ্চিত হলো এরা অস্ত্রধারী তখন তার বুকের ভেতর কেমন একটা ধপ ধপ ধপ আওয়াজ করছে-কি আর করা যা হবার তাই হবে চিন্তা করে আর কি হবে -বিধাতা যা লিখে রেখেছেন তাই তো হবে তাই না!। বিধাতার লিখন- প্রথমেই আওয়াজ পড়লো সেই আত্মসমর্পণকারীর দরজায়, ধপাস ধপাস শব্দে কাঠের দরজা টা যেন বলে উঠল "খোলার আগে আমাকে আর মেরো না"! নির্ঘুম চোখে যখন তার চোখ টানটান করছিল সেই চোখ নিয়ে সে আত্মসমর্পণকারী তাদেরকে সুন্দরভাবে সালাম দিয়ে বলল," আসুন স্যার"। রুমে তখন তারা দুই জন ছিল এক আত্মসমর্পণকারী আর তার রুমমেট রাকিব, অল্প কিছুক্ষণ হলো রাকিব চোখ আটকেছে। পুলিশ এবার সেই আত্মসমর্পণকারী কে নাম জিজ্ঞেস করল-
-কি নাম?
-আজম ভায়।
আত্মসমর্পণকারীকে অধ্যায়নরত দেখা গেল তাই পুলিশ আর তাকে নতুন করে জিজ্ঞেস কর না সে কি করে। তার চেয়ে বরং তাকে জিজ্ঞেস করলো কোথায় পড়ালেখা করে ? উত্তরে সাবলীলভাবেই সে বলল,-" স্যার আই আই ইউ সি"। 
-বাড়ি কোথায় ?
-লক্ষ্মীপুর স্যার!
আত্মসমর্পণকারী তথ্য যাচাইয়ের পর এবার শুরু হলো তার রুমমেট রাকিবের তথ্য সংগ্রহের কাজ । পুলিশ অফিসার বলল," তাকে তুলো।" আত্মসমর্পণকারীর বহু প্রচেষ্টায়ও তার ঘুম ভাঙলো না-অতঃপর পুলিশ অফিসারের সেই চোখ রাঙানো কথায় তার ঘুম ভাঙতেই হতভম্ব হয়ে গেল রাকিব- তাকেও প্রশ্ন করল-সেই চেনা প্রশ্ন। ঠিক আছে বলে প্রস্থান করলো, এবার মিশন রুম নাম্বার ২০৮ এ। রুমের বাসিন্দা ছিলেন ব্যাচেলর লেভেলের শেষ দিকের ছাত্র- শ্রদ্ধেয় সাকিরুল আলম ভাই। দরজায় প্রথমে টোকা, ধাক্কা, তারপর লাথি-ঠপাস ঠপাস আওয়াজ করে দরজাটা যেন চিৎকার করা শুরু করে। কিন্তু রুমের ভেতর থেকে যেন কোন আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে নাঃ নির্ঘুম রাত কাটিয়ে মাত্রই ঘুমালো রুমের অধিবাসী মি আলম। বহু প্রচেষ্টার পর তার সেই কোটি টাকার ঘুম ভাঙলে উত্তেজিত পুলিশ তাকে বলে "এমন করে কেউ ঘুমায় মিয়া"। উত্তরে কি বলবে ঠিক ভেবে পাচ্ছিল না আলম সাহেব, তারপর পুলিশদের পক্ষ থেকে সেই চেনা প্রশ্ন। এরপর এক এক করে প্রথম দ্বিতীয় তৃতীয় চতুর্থ ও পঞ্চম তলায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ ইতোমধ্যে প্রায় ১০ জনকে জিম্মি করল-

চতুর্থ তলার ৪০৯ নাম্বার রুমের দরজায় টোকা -কচি ঘুম ভাঙলো রুম বাসীদের। কে বা কারা রুমের দরজায় টোকা দিচ্ছে তা না ভেবেই রুমের অধিবাসী চিৎকার করা শুরু করল ,"ওই বেটা দরজায় কি এত রাতে এত জোরে কেউ থাপড়ায়!" দরজা খুলতেই শাওন ভাই হতবাক: পুলিশের উপস্থিতি দেখে সে কি বলবে ভেবে পাচ্ছেনা অতঃপর ঘুমে মগ্ন রুম বাসীদের জিজ্ঞেস করল: সেই চেনা প্রশ্ন! প্রশ্ন শুনে মনে হচ্ছিল এ পুলিশ অফিসাররা সেকালের ছাত্র সৃজনশীলতা বলতে তাদের ভিতরে কিছু নেই বরং তারা তাদের পড়ালেখার সৃজনশীল পদ্ধতিতে পরে আসে নাই।

২০৬ নং রুমে পুলিশকে আপ্পায়নের আহবানে পুলিশ তো হতবাক - যাকে সে গ্রেফতার করতে আসছে সে যদি তাকে চেয়ার ঠেলে দেয় তাতে তো শিশাও গলে যাওয়ার কথা। রুমের অধিবাসী সিলেট নিবাসী মাহফুজ আহমেদ অত্যন্ত বিনয়ের সহীত তাকে রোলিং চেয়ারে বসার আহবান করছিল - নিজের জন্য বানানো কফি অফার করছে। ভ্রাতৃত্ববোধের চরম মাত্রায় পৌছে পুলিশও কিছুটা মুগ্ধ। তার সেই মুগ্ধতা আরও কিছুদুর বেড়ে যায় ৪০২ নাম্বার রুমে -পিয়াস আহসানের আবদার শুনে। তাকে পুলিশ নিচে নামার জন্যে বললে সে বলে,
-চল আমাদের সাথে -
- স্যার৷ আমার একটু পর পরীক্ষা, আমি কেমনে যাব। 
এ যেন মামার বাড়ির আবদার, পরীক্ষা বলে পুলিশের আদেশ মানবে না। হু পুলিশ মামার মতই আচরন করেছে। তাদেরকে ছাড়াই সে নিচে ফিরে এল -



অল্প কয়েকটা রূম বাকি রেখেই  তারা অভিযান শেষ করল। সাথে কয়েকজন ছাত্রকে নিয়ে নিচে নেমে আসলো। গেট থেকে প্রস্থান করার ঠিক আগ মুহূর্তেই হলে এসে উপস্থিত হলেন হলের আবাসিক ছাত্রদের অভিভাবক। নির্দিষ্ট পরিমাণ মুচলেকা দিয়ে তাদেরকে ছাড়িয়ে নেয় পুলিশের হাত থেকে। ছাড়া পাওয়া ছেলেরা যেন প্রাণের সঞ্চার পেল। পুলিশ হল ত্যাগ করল সাথে ছেলেরা সবাই তাদের সাথে ঘটে যাওয়া অতীত কাহিনী টি শেয়ার করতে লাগল ।ছোট-বড় সবাই যেন একই মাপকাঠিতে এসে তাঁর অভিজ্ঞতার কথা বলতে শুরু করল। হ্যাঁ! ছোট বড় একে একাকার হয়ে যাওয়ার যে আনন্দ পাছে; সেটা শুধু এই হল জীবনেই সম্ভব।এ যে কি প্রাপ্তি সেটা যারা হলে থাকে নাই বা সামনের দিনগুলোতে থাকার ইচ্ছে পোষণ করছে না তারা কোনোভাবেই বুঝতে পারবে না। অন্যকে মানিয়ে নেওয়া অন্য আরেকটি লাইফস্টাইলের মানুষকে জানা এটা তার পরবর্তী জীবনের বড় মোড় ঘুরাতে পারে -

-স্বার্থান্বেষী পথচারী
-চান্দগাও আবাসিক,
২১ শে মার্চ, ২০১৮