পুলিশ ডায়েরী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
পুলিশ ডায়েরী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ২৯ জুন, ২০২০

মেহরাব নয়নের রহস্য গল্প- "ইন্দ্রিয় লালস-০১"


-হ্যালো মেহরাব স্যার বলছেন"?
–জ্বী, কে বলছেন আপনি"?
–স্যার আমি ওসমানীনগর হসপিটাল থেকে ডাক্তার শামীম বলছি। এখানে দুইটা খুন হয়েছে স্যার। সেটাও আবার একটা ছেলে তার নিজের মা বোনকে খুন করেছে। শুধু তাইনা স্যার, আমরা যখন লাশগুলো দেখি তখন লাশের গায়ে সুতো পরিমাণ ও কোনো কাপড় ছিলোনা। আমাদের মনে হচ্ছে লাশের সাথে শারীরিক সম্পর্ক করা হয়েছে"।
.
ডাক্তার শামীমের শেষ কথাটা শুনে বুকটা ধুক করে উঠলো। লাশের সাথে শারীরিক সম্পর্ক? ভাবা যায়??
প্রচন্ড শকড নিয়ে বললাম,
–পাগল হয়ে গেছেন আপনি? কি বলছেন এসব? একে তো বলছেন ছেলে খুন করেছে তার নিজের মা বোনকে। তার উপর আবার বলছেন লাশের সাথে যৌন সম্পর্ক করা হয়েছে।
কি বলছেন বুঝতে পারছেন"?
–স্যার আমি এমনি এমনি কিছু বলছিনা। আপনি প্লিজ তাড়াতাড়ি আসুন। এখানে আসলে সব বুঝতে পারবেন"।
কথাটা বলে ডাক্তার শামীম কলটা কেটে দিলেন। আমি মোবাইলের দিকে বড়বড় চোখে কিছু সময় তাকিয়ে রইলাম।
এটা কিভাবে সম্ভব?
ছেলে তার নিজের মা বোনকে খুন করেছে এটা বিশ্বাসযোগ্য। এমন অনেক হচ্ছে।
কিন্তু লাশের সাথে শারীরিক সম্পর্ক?
ভাবতেই আমার শরীরটা শিউরে উঠছে।
.
কন্সটেবল আসিফকে নিয়ে হসপিটাল পৌছালাম। হসপিটালের প্রত্যেকটা মানুষ এই ঘটনা নিয়ে কানাকানি করছে।
কেউ বলছে 'এটা কোনো জ্বীনের কাজ'। আবার কেউ কেউ বলছে নিজের ছেলেই প্রথমে রেপ করেছে, তারপর খুন। আমাকে দেখামাত্র একজন ডাক্তার এসে বললেন,
"স্যার আমি ডাক্তার শামীম। আমিই আপনাকে কল করেছিলাম। চলুন আপনাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাই"।
.

ডাক্তার শামীমের পিছন পিছন হেঁটে একটা কেভিনে ঢুকলাম।
দুইটা লাশ। একটা বেডে, অন্যটা ফ্লোরে পড়ে আছে। গলা কেটে খুন করা হয়েছে দুজন'কেই।
রুমের এক কোণায় বসে মাথা নিচু করে কান্না করছে একটা ছেলে।
আমি বললাম,
–ছেলেটা কে"?
ডাক্তার শামীম খানিকটা রেগে বললেন,
–মেহরাব স্যার, এই ছেলেটা এখন কান্নার অভিনয় করছে। আপনি একদম ওর কান্নায় গলবেন না। এই ছেলেটাই খুনি। ছেলেটার নাম রাজু।
যে দুইজন মারা গেছেন একজনের নাম মায়া হক। ছেলেটার মা।
অন্যজন সামিয়া। ছেলেটার বোন"।
–তো ছেলেটাই যে খুন করেছে এটার প্রমাণ কি? আর লাশের সাথে শারীরিক সম্পর্ক করা হয়েছে এটাই বা কিভাবে বুঝলেন"?
–স্যার গতকাল রাতে এই ছেলেটার সাথে তার মায়ের কিছু একটা নিয়ে অনেক ঝগড়া হয়। অনেক চিল্লাচিল্লি করছিলেন ওর মা। হসপিটালের অনেকেই শুনেছে তাদের এই চিল্লাচিল্লি।
তারপর শেষরাতে কি হয়েছে এটা তো স্যার আমরা জানিনা। কিন্তু আজকে সকালে একজন নার্স ওদের কেভিনে আসা মাত্রই চিৎকার করে উঠে।
আমরা সবাই চিৎকার শুনে কেভিনে আসি। এসে দেখি এই ছেলেটা তার মায়ের লাশের কাছে দাঁড়িয়ে আছে।
হাতে একটা রক্তাক্ত ছুরি।
ওর মায়ের গলা তখন রক্তে লাল।
শরীরে কোনো কাপড় নেই।
আমি তাড়াতাড়ি লাশটার কাছে যাই।
দেখেই বুঝা যাচ্ছিলো শারীরিক সম্পর্ক করা হয়েছে। ফ্লোরে আরেকটা লাশ পড়া ছিলো। সামিয়ার লাশ। ছেলেটার বোন।
কিন্তু সামিয়ার শরীরে কাপড় ছিলো।
এই রুমে ওরা ৩জন ই ছিলো স্যার।
মা, মেয়ে এবং ছেলে।
মা মেয়ে খুন হয়েছে।
শুধুমাত্র বেঁচে আছে এই ছেলে।
আমরা সবাই নিজের চোখে দেখেছি রক্তাক্ত ছুরি হাতে এই ছেলেকে লাশের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে।
এখন আপনিই বলুন স্যার, খুনটা রাজু ছাড়া আর কে করবে? আর বাকি রইলো মায়া হক মানে ছেলটার মায়ের লাশের সাথে শারীরিক সম্পর্কের কথা, এটা তো স্যার আমরা পরিক্ষা করলেই নিশ্চিত হয়ে যাবো। যদি আপনি পারমিশন দেন"।
.

আমি ডাক্তার শামীমকে কিছু বললাম না। লাশগুলোর দিকে ভয়ার্ত চোখে তাকিয়ে আছি।
এখানে সবচাইতে ইম্পর্ট্যান্ট বিষয়টা হচ্ছে, মায়া হকের লাশে কোনো কাপড় ছিলোনা। আবার সামিয়া নামের মেয়েটার শরীরে কাপড় আছে।
অথচ দুজনকে একিই'ভাবে গলা কেটে খুন করা হয়েছে। কি অদ্ভুত।
এটার মানে হচ্ছে মায়া হকের লাশের সাথে কিছু একটা করা হয়েছে, যেটা সামিয়া নামের মেয়েটার সাথে করা হয়নি।
আচ্ছা প্রথমে রেপ করে তারপর খুন নয়তো? না'কি খুনের পর লাশের সাথে শারীরিক সম্পর্ক?
কিছু ভাবতে পারছিনা। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পেলেই সবকিছু ক্লিয়ার হয়ে যাবে।
লাশগুলোর দিকে তাকিয়ে এসব কথা ভাবছি ঠিক এমন সময়  ফ্লোরে বসে থাকা রাজু কাঁদতে কাঁদতে বললো,
"স্যার আমি মারিনি আমার মা বোনকে। আমি কিচ্ছু করিনি স্যার"।
এই প্রথম আমি ছেলেটার দিকে ভালোভাবে তাকালাম।
কোথাও যেনো দেখেছি ছেলেটাকে।
মস্তিষ্কে একটু চাপ দিয়ে চিন্তা করতেই মনে পড়লো, ওইদিন রাস্তায় একজন বৃদ্ধ মহিলাকে নিজ হাতে খাইয়ে দিচ্ছিলো ছেলেটা।
স্বাভাবিক ভাবেই ঘটনাটা আমার নজরে পড়লো। আজকের যুগে রাস্তার মানুষদের জন্য এইটুকুন ই বা কে করে?
কোনো বড় মনের মানুষ ছাড়া এই ধরনের কাজ অন্য কেউ করবেনা।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এই ছেলেটাই এখন এতো জঘন্য পাপ করবে?
কিছু গন্ডগোল লাগছে।
কিছু একটা কাহিনী আছে আমি নিশ্চিত।
কিন্তু আপাতত সব প্রমাণ যেহেতু রাজুর বিরুদ্ধে, তাই বাধ্য হয়েই রাজুকে ধরে থানায় নিয়ে আসতে হবে।
কন্সটেবল আসিফকে বললাম,
–লাশগুলো পোস্টমর্টেম করার ব্যাবস্থা করো। সাথে খুনের অস্ত্র এবং লাশের উপর কার আঙুলের ছাপ পাওয়া যায় এটাও ফরেনসিক ল্যাব থেকে টেস্ট করাও। খুনি যেইহোক, শাস্তি তাকে পেতেই হবে"।
–ঠিক আছে স্যার"।
.

আমি রাজুকে ধরে থানায় নিয়ে আসলাম। পুরোটা রাস্তা ছেলেটা কাঁদতে কাঁদতে বলছিলো,
"স্যার আমি খুন করিনি। আমি খুনি না"।
কেনো জানিনা আমার মনটাও বলছিলো এখানে কাহিনীটা অন্য কিছু।
কিন্তু একটা রুমে ৩টা মানুষ।
দু'জন খুন। একজন বেঁচে আছে।
তাও আবার সেই একজনকে রক্তাক্ত ছুরি হাতে লাশের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছেন অনেকে।
হিসাবটা মিলাতে পারছিনা।
সবচাইতে ইম্পর্ট্যান্ট যে কথাটা, শরীরের চাহিদা মিটানোর জন্য মানুষের অনেক উপায় থাকতে কেউ লাশের সাথে শারীরিক সম্পর্ক করতে যাবে কেনো?
এটা কেমন মানসিকতা? এ কেমন নোংরামি?
.
রুলস অনুযায়ী আসামীর সবকিছু জমা রেখে তারপর জ্বেলে নেওয়া হয়।
রাজুর সবকিছু জমা রাখলাম।
কিন্তু রাজু কান্না করতে করতে বললো,
–স্যার আমার মানিব্যাগটা আমাকে নিতে দিন। আমার মায়ের ছবি আছে এই মানিব্যাগে"।
কথাটা শুনে আমি ড্যাবড্যাব করে রাজুর দিকে তাকিয়ে রইলাম। একটা ছেলে তার মা'কে কতোটা ভালোবাসলে তার ছবি সবসময় সাথে রাখে?
এই ছেলেই কি'না তার মা বোনকে জঘন্যভাবে খুন করে নোংরামি করবে? অসম্ভব!
আমি বললাম,
–সত্যি করে বলো'তো ঠিক কি হয়েছিলো ওই রাতে"?
রাজু চোখটা মুছতে মুছতে বললো,
–সন্ধ্যায় হুট করেই আমার বোন সামিয়ার বুকে ব্যাথা শুরু হয় স্যার। ব্যাথায় কাতরাচ্ছিলো সামিয়া।
আমরা তাড়াতাড়ি সামিয়াকে হসপিটালে নিয়ে যাই।
তখন সন্ধ্যা ৭টা।
ডাক্তার শামীম সামিয়াকে একটা ইনজেকশন দেন, এবং বলেন দুইদিন হসপিটালেই থাকার জন্য। সামিয়ার কিছু টেস্ট করানো লাগবে। আমরাও থেকে যাই। রাত ৯টায় সামিয়ার বাবা আরিফ সাহেব আসেন~~~~
রাজু কথা শেষ করবার আগেই আমি রাজুকে থামালাম। বললাম,
–সামিয়ার বাবা মানে"?
–মেহরাব স্যার, আমার যখন ৪বছর বয়স তখন আমার আব্বু মারা যান। আম্মু দ্বিতীয় বিয়ে করেন। সামিয়া আমার নিজের বোন না।
আরিফ সাহেব এসে সামিয়াকে দেখে আবার চলে যান। আমার প্রচন্ড রাগ হয় এই মানুষটাকে দেখলে।
এই মানুষটার চরিত্র ভীষণ খারাপ স্যার। বেশিরভাগ রাত তো উনি বাসায় ই আসেন না। মেয়েদের নিয়ে ফূর্তি করেন। আম্মুকে বলতেন ব্যাবসার কাজে বাইরে যাচ্ছেন। কিন্তু আমি তো জানতাম উনি কি করেন। আম্মুকে এসব বললে উল্টো আমার সাথেই রাগারাগি করতেন। আমার কথা বিশ্বাস করতেন না।
উনি সামিয়াকে দেখে চলে যাওয়ার পর আমি আম্মুকে বললাম,
"এই লম্পট মানুষটা এখানে যদি আসার'ই কথা ছিলো তাহলে আমাকে নিয়ে আসলে কেনো"?
আম্মু এটা শুনে আমার উপর রেগে যান। চিল্লাচিল্লি করেন।
আর এই চিল্লাচিল্লি হসপিটালের সবাই শুনেছিলো"।
–তো আরিফ সাহেব এসে নিজের অসুস্থ মেয়েকে একবার দেখেই চলে গেলেন?
হসপিটালে থাকলেন না"?
রাজু চিল্লায়া উঠলো,
–উনি কোনো মানুষদের কাতারেই পড়েন না স্যার। আমি চাচ্ছিনা এই মানুষটা নিয়ে কথা বলতে।
আমার তো মনে'হয় এই মানুষটা খুনিও। আমার বাবাকেও হয়তো এই মানুষটা খুন করেছে"।
আমি প্রচন্ড অবাক কন্ঠে বললাম,
–মানে? পাগলের মতো কি বলছো এসব"?
–মেহরাব স্যার আমি উল্টাপাল্টা কিছু বলছিনা। আমার বাবার বন্ধু ছিলেন এই আরিফ সাহেব।
একদিন একসাথে তারা গাড়ি করে কোথাও যাচ্ছিলেন।
এক্সিডেন্ট হলো। আমার বাবা মারা গেলেন। অথচ এই আরিফ সাহেব বেঁচে গেলেন। ওইসব পুরনো কথা বাদ দিন স্যার। এই আরিফ সাহেবকে নিয়ে আর কিছু বলতে চাইনা"।
রাজুর কথা শুনে স্পষ্ট বুঝতে পারলাম সে কতোটা ঘৃণা করে আরিফ সাহেবকে। আমি বললাম,
–বুঝলাম, আরিফ সাহেবের উপর তীব্র রাগ আছে তোমার। বাদ দিলাম এসব।
ওইরাতে তারপর কি হলো"?
–আমি আম্মুর সাথে রাগারাগি করে হসপিটালের নিচে চলে আসি। রাস্তায় প্রায় ঘন্টাখানেক হাঁটাহাঁটি করি।
আমার যখন ভীষণ রাগ হয় তখন রাস্তায় একলা একলা হাঁটলে আমার রাগ কমে যায়। 
আমার রাগ কমে যাওয়ার পর আবার কেভিনে ফিরে আসি।
তখন রাত ১২টা।
আমি দেখলাম আম্মু এবং সামিয়া দু'জনেই একটা সিটে ঘুমিয়ে পড়েছে।
আমিও অন্য একটা সিটে গিয়ে শুয়ে পড়ি। আমার চোখটা লেগে আসে স্যার। ঘুমিয়ে যাই। ঘুম যখন ভাঙে তখন দেখি আমার হাতে একটা রক্তাক্ত ছুরি। রুমটা এলেমেলো হয়ে আছে।
সিটের মধ্যে দেখি আম্মুর লাশ। ফ্লোরে সামিয়ার লাশ।
আমি তাড়াতাড়ি উঠে আম্মুর কাছে যাই। আমি তখনো কিছু বুঝে উঠতে পারছিলাম না। কিছু বুঝে উঠার আগেই দরজা দিয়ে একজন নার্স ঢুকে চিৎকার করে আওয়াজ করলো। ব্যাস। তারপর তো আপনি সব জানেন।
আমি খুন করিনি মেহরাব স্যার।
বিশ্বাস করুন আমি কিছু করিনি।
আমি'তো আমার আম্মুকে পৃথিবীর সবচাইতে বেশি ভালোবাসতাম"।
.

কথাগুলো শেষ করে রাজু আবারো কান্না শুরু করলো। আমি বুঝতে পারছিলাম এখানে রাজু কিছু করেনি। রাজু ঘুমে থাকার সময় কেউ এসে খুনটা করেছে।
কিন্তু এতোকিছু হলো রুমের ভিতর, আর রাজু কিছুই টের পেলোনা?
অবাক কন্ঠে আমি বললাম,
–তুমি বলছো তোমার আম্মু এবং সামিয়া একিই বেডে ঘুমিয়ে ছিলো। কিন্তু আমরা সামিয়ার লাশটা ফ্লোরে পাই।
এটার মানে হচ্ছে খুনির সাথে সামিয়ার হাতাহাতি হয়েছিলো, যার জন্য সামিয়াকে ফ্লোরের মধ্যে খুন করা হয়েছে। কিন্তু অবাক করা বিষয় হচ্ছে কেউ তোমাদের কেভিনে এসে তোমার আম্মুকে খুন করলো, নোংরামি করলো, সামিয়ার সাথে হাতাহাতি হলো, তারপর সামিয়াকেও খুন করলো। অথচ তুমি কিচ্ছু টের পেলেনা? এটা কিভাবে সম্ভব"?
রাজু ঢোঁক গিলে ভীত কন্ঠে বললো,
–আমি চোখ খুলার পর এটাই ভাবছিলাম স্যার। আমার মনে হচ্ছিলো আমি স্বপ্ন দেখছি। এতকিছু হলো অথচ আমি টের ই পাইনি। কিন্তু আমার ঘুম খুবই পাতলা স্যার। কোনো কিছুর হালকা শব্দ পেলেই আমার ঘুমটা ভেঙে যায়। কিন্তু ওইরাতে এমন হয়নি।
এটা কিভাবে হলো আমি জানিনা"।
রাজুর সাথে আর কোনো কথা বাড়ালাম না। কিন্তু আমি নিশ্চিত, এই ভয়ানক খুনটার পিছনে অনেক রহস্য লুকিয়ে আছে। যেটা আমাকে জানতেই হবে।
অনেকগুলো প্রশ্ন এখন মাথার ভিতর নাড়াচাড়া করছে,
"২জন নারীকেই খুন করলো কেনো?
"একিই রুমে রাজু থাকা সত্বেও রাজু কে খুন করলোনা কেনো"?
"আরিফ সাহেব এসে মেয়ের এই অবস্থা দেখেও হসপিটালে থাকলেন না কেনো"?
" আরিফ সাহেব কি খুনটা করেছেন?
না'কি রাজুর কোনো শত্রু"? না'কি অন্যকেউ?
সবচাইতে বড় যে প্রশ্ন,
"কেউ খুন করে লাশের সাথে শারীরিক সম্পর্কে করবে কেনো"?
উত্তর'গুলো আমাকে খুঁজে বের করতেই হবে। আর আমি নিশ্চিত, প্রতিটা প্রশ্নের উত্তর ওই হসপিটালেই পড়ে আছে।
.

~ মেহরাব নয়ন

সত্য ঘটনার পুলিশ ডায়েরী- মধু যখন বিশ

মধু যখন বিশ - সত্য ঘটনার পুলিশ ডায়েরী


বিগত ২০১২ সালে  মামলার বাদী শায়লা (ছদ্মনাম) এর  সহিত ৫ লক্ষ টাকা দেন মোহরে শাকিল (ছদ্মনাম)  বিবাহ হয় । বিবাহের পর নিজেদের বাড়ী না থাকায়  বিভিন্ন ভাড়া করা বাসায় একত্রে বসবাস করে।বসবাসকালীন প্রথমদিকে তাহাদের মধ্যে নিয়মিত শারীরিক সম্পর্ক হইত !  পরের দিকে এটায় কিছুটা ভাটা পড়িয়া যায়।  

 শায়লা একটি মেডিসিন কোম্পানিতে জব করে। সে সুবাদে টাকা পয়সা নিয়ে শাকিল  বিভিন্ন সময় শায়লাকে প্যাদানি দিলে একদিন প্রতিবাদী হয়ে যায়।  

 যৌতুকের দাবীতে শায়লাকে  মারধর করায় শায়লা এপ্রিল/১৭ মাসে   আদালতে শাকিল এর বিরুদ্ধে  সি আর কেস  দায়ের করেন। 

উক্ত  মামলায় আসামী শাকিল  সেপ্টেম্বর ২০১৭ মাসে    আদালতে হাজির  হইয়া জানায় যে, সে
শায়লা কে ২১.৪.২০১৬  তারিখ তালাক প্রদান করিয়াছে আর এর প্রমান হিসাবে 
শাকিল আদালতে তালাক নামা দাখিল করেন ।


অথচ মে/২০১৭ মাসে শাকিল আদালতে শায়লার বিরুদ্ধে একটি চুরি কেস দিয়েছিলেন।  উক্ত কেস এর আবেদনে  শাকিল শায়লা কে নিজের স্ত্রী হিসাবে উল্লেখ করেন।  
এবং কেসের আবেদনে শাকিল উল্লেখ করেন যে ' শায়লার সাথে সংসার করিতেছেন ও স্বামী হিসাবে সব দায়িত্ব পালন করিতেছেন।  

শাকিল মুলত  তালাক প্রদান করার বিষয় টি গোপন রাখেন এবং অন্য মানুষ দ্বারা শায়লার পক্ষে তালাকের নোটিশ রিসিভ করান।  
তালাকের পরেও শায়লাকে  না জানাইয়া
তাহার কাছ থেকে মধু পান করিতে থাকে   ।


 যাহা আইনানুগভাবে স্ত্রী না হওয়া সত্ত্বেও স্ত্রী বুঝাইয়া 
শারীরিক সম্পর্ক করার অপরাধ।যাহা আইনানুযায়ী রেইপ।  

- সাইয়েদ আসাদ 
- বাংলাদেশ পুলিশ

সত্য ঘটনা অবলম্বনে রচিত- পুলিশ কেস



#সত্য_ঘটনার (সামান্য করল্লা জুস মিশ্রিত)

পুলিশ এক্সট্রা ডায়েরী

#পাপিয়ার বয়স ৪৪ বছর তাহার স্বামী #বক্কার  একজন নিরীহ #চাকরিজীবি! তাহাদের সংসারে ০২ ছেলে ০১ মেয়ে। বড় ছেলে ** ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে, ২য় ছেলে ফোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে এবং মেয়ে *** উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭ম শ্রেনীতে লেখাপড়া করে। 
বক্কার চাকুরীর সুবাদে অন্য জেলায় থাকে..ছেলেরা থাকে দুরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে! 
পাপিয়া মেয়ে নিয়া ** বাজারে মার্কেট এর পিছনে  সংলগ্ন বাসায় বসবাস করে। পুলিশ ডায়েরী এখানে 
বিগত ৭/৮ বছর পূর্বে বক্কর তাহার জমি ০৯ লক্ষ টাকায় বিক্রি করিয়া এবং নিজের জমানো ৪/৫ লক্ষ টাকাসহ মোট ১৪,০০০০/-  (চৌদ্দ লক্ষ টাকা) মূলধন দিয়া *** বাজারে  ০১ টি কাপড়ের দোকান চালু করেন।নিজেই দোকানে ব্যবসা করিতেন!
 ২০১৬ সালে বক্কর একটি প্রাইভেট চাকরী পাওয়ায় এবং তাহার  স্ত্রী পাপিয়া  দোকানটি পরিচালনা করার আগ্রহ প্রকাশ করায় বক্কার তাহার বউ পাপিয়াকে  দোকানটি পরিচালনার জন্য দিয়া চাকুরী করতে চলিয়া যায়। 


*** বাজারে মার্কেট সংলগ্ন পাপিয়ার দোকানের কাছেই #মজনু বয়স ২৮ এর   একটি মোবাইল #হিংকিমিংকি দোকান আছে। মজনুর বউ ও ২ বাচ্চা আছে!তাহার গ্রামে বাড়ীতে থাকে!

পাপিয়া অবসরে দেখার জন্য  মাঝে মধ্যে জনি ভাই মিয়া খালিপা সানি লিওন অভিনীত পারিবারিক সিনেমা ডুকাতো মজনুর কাছ থেকে!

মজনু পাপিয়াকে ডাকিত ভাবি
তাই পাপিয়ার উপ্রে তাহার ছিল দাবী!


সেই সুবাদে  পাপিয়া ও মজনুর মধ্যে মধ্যে ঘনিষ্ট সম্পর্ক হয় তাহারা #সামাজিক দুরত্ব না মানিয়া! 
#জনিভাই ও #মিয়াখালিপার কারেক্টারে অভিনয়ে  লিপ্ত হয়।(ছেহ ছেহ)

এসব  নিয়া এলাকায় বিগত কয়েক মাস ধরিয়া বিভিন্ন ধরনের কথাবার্তা  হয়!

পাপিয়া মজনুকে বলে -- 
চিন্তা নাই ঠাকুর পো...
যত পার মার ঠা*
হোচট খেলে  বক্কার হবে ছেলের বাপ!


মজনু দেখল ঠিকিইত্ত্ব - 
খামু আমি - বিল দেবে বক্কার

বিষয়টি জেনে বক্কার ও তাহার ছেলেমেয়েরা খুবই মর্মাহত ও লজ্জিত হয়!
পাপিয়া ও মজনুর  গতিবিধি  ছেলেমেয়েরা অনুধাবন করিতে থাকেন।
গত ইং ২২/০৫/২০২০ তারিখে  দেবর মজনুকে নিয়ে পাপিয়া  ঘুরিতে  কাপ্তাই যায়। যাহা পাপিয়ার  বড় ছেলে দেখিয়া ফেলে।
  বড় ছেলে তার মাকে জিজ্ঞাসা করে -মজনুজে  কেনো সাথে এনেছে?
  উত্তরে পাপিয়া  বলে যে “সে তোমার মামা লাগে, সে আমার সাথে দোকানের মালামাল আনার জন্য চট্টগ্রাম যাইতেছে। সে যে আমার সাথে চট্টগ্রাম যাইতেছে, সেটা তোর বাবাকে বলিস না”। #ওরে মজারে..

চট্টগ্রাম যাইয়া পাপিয়া ও মজনু ব্যবসায়িক কাজে৩দিন  হোটেলে কাটায়! 

৪নাম্বার দিনে তাহারা রাঙামাটিতে যায়।
সেখানেও তাদের গুরুত্বপূর্ণ কাজ থাকায় বাড়িতে না যাইয়া হোটেলে যাত্রী যাপন করে!  

সেখান থেকে কাজ শেষ করিয়া তাহারা  বক্কারের  খালী বাড়ীর তালা ভাঙ্গিয়া সেখানে রাত্রিযাপন করে। পুলিশ ডায়েরী এখানে 
(কাজ শেষ না হইলে কি আর করা)
পরদিন ২৪/০৫/২০২০ ইং তারিখ সকাল ১১.৩০ ঘটিকায় বাড়ীতে থাকা বক্কারের  জায়গা জমির কাগজপত্র, ০১ ভরি স্বর্ণালংকার, ২০ হাজার টাকার প্রাইজবন্ড, কয়েকটি বিদেশী কম্বল সহ কিছু মূল্যবান ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী নিয়ে পাপিয়া ও মজনু গুরুত্বপূর্ণ কাজে অজ্ঞাত স্থানে চলিয়া যায়। 
বক্কার এত কাহিনী যখন টের পাইলো - তৎক্ষনাৎ থানায় অবগত করিলে পুলিশ কেস করে!  

#ছিদ্রসন্ধানী
পাপিয়া ও মজনু অবশ্য এরেস্ট হইছে!  কি আর বলব দাদা,মজনুরা রোগা শরীরের হইলেও চেচিস ভালই থাকে!


আর পাপিয়ার যত বয়স বাড়ে ততই বলে - " - আমি আর পারছিনা"
(কি করতে বলছে আর কি পারছেনা তা আমি সরল মানুষ কিছুই বুঝিনাই🤔)

***(ছেলেমেয়েদের কথা চিন্তা করে লোকেশন আর নাম ১৮/২০ করা হইছে) 
প্লিজ #শেয়ার করুন - #সচেতন হউন!