ফোকাস রাইটিং লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ফোকাস রাইটিং লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ১ জুলাই, ২০২০

তরুন সংগঠক সিএম ওয়াছি জিতুর নেতৃত্বে কালভার্ট সংস্কার

তরুন সংগঠক সিএম ওয়াছি জিতুর নেতৃত্বে কালভার্ট সংস্কার।

লক্ষীপুর জেলার সদর উপজেলার ১৪ নং মান্দারী ইউনিয়ন এর ৩ নং ওয়ার্ড মটবী গ্রাম একটি জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ গ্রাম।এই গ্রাম এর প্রধান সড়ক এর মাঝামাঝি অবস্থানে একটি কালভার্ট রয়েছে,যা গত ৮ মাস আগে ৬৫ ভাগ ধসে পড়ে যায়, এতে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়।
ছবিঃ ভাঙ্গা কালভার্ট 

গত কয়েকমাসে অন্ধকার রাতে অসচেতনতায় পড়ে কমপক্ষে ৯ জন লোক আহত হয়েছেন বলে জানা যায়।স্থানীয় প্রতিনিধি মেম্বার এর সাথে কথা বলে জানা গেলো এই কালভার্টের টেন্ডার হয়ে গেছে কিন্তু বৈশ্ব্যিক অর্থনীতি মন্দা ও করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারনে কাজটা করা সম্ভব হচ্ছে না।
সত্য ঘটনা পড়তে- পুলিশ ডায়েরী  

এই সম্পর্কে সিএম ওয়াছি উদ্দিন জিতু বলেন, উক্ত ভাংগা অংশে এই এলাকার ৪ জন সহ প্রায় ৯ জন লোক অসচেতনতায় পড়ে আহত হয়েছেন, তাই কিছু তরুন ও যুবসমাজ এর সাহস ও সহযোগিতা নিয়ে সংস্কার কাজ সম্পূর্ণ করেছি।
ছবিঃ কর্মরত এলাকার সাধারণ মানুষ 


ঐ এলাকার বাসিন্দাদের সাথে এই সম্পর্কে কথা  বললে তারা বলেন "অনেকদিন এর দুর্ভোগ নিরোসন হওয়ায় তারা আনন্দিত এবং সিএম ওয়াছি জিতু সহ এই কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন ও দোয়া করছেন"।



সোমবার, ২৯ জুন, ২০২০

একবিংশ শতাব্দীর ব্যাংকিং ব্যবস্থা



একবিংশ শতাব্দীর ব্যাংকিং ব্যবস্থা
- তাহমিদ চৌধুরী 
তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বিংশ শতাব্দীর শেষ দশক ও একবিংশ শতাব্দীর শুরুর দশককে সুবর্ণ সময় বলা যায়। যে সময়টাতে দেশগুলো অর্থনৈতিক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে। অর্থনৈতিকভাবে মুক্তিলাভের জন্য একটি দেশের ব্যাংকিং খাত অনেকাংশে নির্ভর যোগ্য।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য এই দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক , সরকারি বেসরকারি ব্যাংক অসামান্য অবদান রেখে যাচ্ছে।দেশের কৃষি শিল্প ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প সহ সকল অর্থনৈতিক খাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ অন্যান্য ব্যাংকের অবদান অনস্বীকার্য। প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যাংকিং সুবিধা পৌঁছানো যাচ্ছে দেশের সরকারও ব্যাংকিং খাতের নীতিনির্ধারকদের সদিচ্ছার কারণেই।

কৃষিতে দেশের বেহাল অবস্থা থেকে আজ আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ । কৃষকরা 10 টাকায় ব্যাংক হিসাব খোলার সুযোগ পাচ্ছে , সঠিক খাত দেখিয়ে সরকার থেকে ভর্তুকিতে ঋণ পাচ্ছে। গ্রামের মানুষের সঞ্চয় প্রবণতা অনেকাংশে বেড়েছে । শিল্পক্ষেত্রের ঋণের সুবিধা সহ আমদানি-রপ্তানিতে দেশের ব্যাংকিং খাত অবিরাম সেবা দিয়ে যাচ্ছে। ডিজিটালাইজেশনের এই যুগে গ্রাহক সেবার মান বেড়েছে বহুগুণে । গ্রাহকরা এখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে টাকা উত্তোলন ও জমা রাখতে হয় না,  হাতের কাছেই আছে এটিএম সেবা। 

ব্যাংকিং খাত যে শুধু ব্যবসা করা যাচ্ছে তা নয়,  শিক্ষাক্ষেত্রে কোটি কোটি টাকার শিক্ষাবৃত্তি দিচ্ছে বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংক, দারিদ্রতা দূরীকরণে ব্যাংকের অবদান, শহরের পাশাপাশি গ্রামে প্রচুর পরিমাণে শাখা স্থাপন করা হচ্ছে যাতে করে গ্রামের মানুষের দোরগোড়ায় ব্যাংকিং সুবিধা থাকে। অনেকগুলো ব্যাংক মোবাইল ব্যাংকিং সুবিধা চালু করেছে যাতে করে মানুষ ঘরে বসে ব্যাংকিং সেবা পাচ্ছে। বিশ্বায়নের এই যুগে ঘরে বসে বিভিন্ন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কার্ড ব্যবহারের সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে। 

এসবের পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতে একবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে যেভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে তা আর কোন একক খাত এককভাবে করতে পারেনি। একটি উন্নয়নশীল দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে অবশ্যই বড় ব্যাপার। 

তবে সবকিছু ছাপিয়ে ব্যাংকিং খাত এখন কিছুটা চাপের মুখে আছে। সরকারের কিছু অদূরদর্শী নীতি' ব্যাংকিং খাতের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যাংক বিগত বছর ধরে চলমান ৮ শতাংশ থেকে ১২ শতাংশ হার সুদে ৩ বছর থেকে ১৫ বছর মেয়াদি বিভিন্ন সঞ্চয় প্রকল্প যেমন দেড়গুণ বেনিফিট, ডাবল বেনিফিট, ত্রিপল বেনিফিট, মিলিনিয়র প্লাস, কোটিপতি প্লাস ইত্যাদি নানা প্রলুব্ধকারী স্কিমের সুদের হার এখনও কমাতে পারছেনা। সেখানে ৯ শতাংশ হার সুদে ঋণ বিনিয়োগ গোটা ব্যাংক খাতকে অস্বস্তিতে ফেলে দেয়া হয়েছে। অনেক ব্যাংকের মাসিক গড় আয় কমে গেছে। অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি) আশঙ্কা করছে যে, প্রতিটি ব্যাংকের বাৎসরিক আয় গড়ে ১৫০ কোটি টাকার মত করে কমে যাবে”। এ হিসাবে দেশের এ বছরে পুরো ব্যাংক খাতের আয় প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকার মতো কমে যাবে। 

ব্যাংক একটি দেশের অর্থনৈতিক উপকরণসমুহকে সমন্বিত করে, আর্থিক সহায়তা দিয়ে, পরিচর্যা করে, উপদেশ দিয়ে, বুদ্ধি পরামর্শ দিয়ে উদ্যোক্তার ভবিষ্যত স্বপ্নের কাঠামোগত উন্নয়ন সাধন করে। আবার বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে মূল্য পরিশোধের নিশ্চয়তা কিংবা অভয় দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পরিচিতি দান করে। দেশের ব্যবসা খাতসমূহকে সমৃদ্ধ করে। বলা চলে দেশের শিল্প ব্যবসায় খাত আর দেশের ব্যাংক খাত ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

শনিবার, ২৭ জুন, ২০২০

কোভিড- 19 মোকাবেলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ভূমিকা


যে কোন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ওই দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক  কর্মকাণ্ডের পরিচালকের ভূমিকা পালন করে থাকে। স্বাধীন বাংলাদেশের আর্থিক কাঠামো সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান হলো দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক যার নাম বাংলাদেশ ব্যাংক। ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত দেশের আর্থিক খাতের এই অভিভাবক অত্যন্ত সফলতার সাথে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সরকারের প্রধান আর্থিক পরামর্শক  হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। 


2019 সালের একেবারে শেষের দিনগুলোতে নতুন আরেকটি বছরকে বরণ করে নেয়ার প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছিল ঠিক তখনই প্রাণঘাতী ভাইরাসের কবলে পড়ে গোটা বিশ্ব । যার শুরুটা হয়েছিল চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান শহরে । অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই বিশ্বায়নের সুযোগ নিয়ে চীনের মহামারী থেকে বৈশ্বিক মহামারিতে রূপ নিলেও করোনা ভাইরাস। নতুন    সার্স গোত্রীয় এই ভাইরাসের নতুনত্ব হলো মানুষের সংস্পর্শে তা অপর মানুষের মধ্যে ছড়ায়। তাই আক্রান্ত দেশগুলোর জনগণ স্বাভাবিক কর্মকান্ড ছেড়ে ঘরবন্দি হতে বাধ্য হলো। যাকে বিশেষজ্ঞরা লকডাউন নামে আখ্যায়িত করেছেন। তারপর থেকেই সারা বিশ্বের সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডসহ সকল সামাজিক কর্মকন্ড সীমিত করতে বাধ্য হয়েছে। যার ফলে একটি অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলা পরিলক্ষিত হচ্ছে বিশ্বের সর্বত্র।

গত ৮ মার্চ 2020, বাংলাদেশেও হানা দেয় এই ভাইরাস। গোটা জাতি যখন স্বাধীনতার প্রাণভ্রমর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন এর প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছিল ঠিক আগ মুহূর্তে হানা দেয় প্রাণঘাতী এই করোনাভাইরাস। ভাইরাসের  প্রকোপের তীব্রতা দেখে সরকার মুজিব বর্ষের সকল আয়োজন বাতিল করে। সাধারণ ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। 
করোনা দূর্যোগে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় দেশের আর্থিক খাত। বিশেষ করে বেসরকারি খাত যেমন তৈরি পোশাক,নিট ওয়ার শিল্পসহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান। দিশেহারা হয়ে পড়ে এইসব প্রতিষ্ঠানের সাথে সংশ্লিষ্ট মানুষগুলো। শ্রমিকরা পড়ে যায় তীব্র আর্থিক সংকটে।অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সঙ্কটের মুখে পতিত হয়। এরই প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ৫ ই এপ্রিল২০২০,৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা আর্থিক প্রণোদনা ঘোষণা করেন।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত আর্থিক প্রণোদনা বাস্তবায়নের  গুরুভার এসে পড়ে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের উপর।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মেনে বাংলাদেশ ব্যাংক যে কাজগুলো করেছিল তার একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা তুলে ধরছি-
১) স্বল্প সুদে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো কে ঋণ প্রদান করা। 

২) প্রান্তিক নিম্ন আয়ের মানুষদের সরাসরি আর্থিক সহায়তা করার জন্য সরকারের পদক্ষেপ বাস্তবায়নে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে নগদ অর্থ প্রেরণ।
৩) সরকারি  প্রণোদনায় ব্যয়িত অর্থের যোগান নিশ্চিত করন।
৪) কৃষকদের আর্থিক সহায়তার জন্য সহজ শর্তে কৃষি ঋণ প্রণয়নে কৃষি ব্যাংক সহ সকল ব্যাংকে নির্দেশনা প্রদান করা।
৫) প্রবাসী নাগরিকদের রেমিটেন্স প্রণোদনা দেয়ার জন্য ব্যাংকগুলোকে সার্বিক গাইডলাইন প্রদান করা।
সবচেয়ে বড় ব্যাপারটি হলো বাংলাদেশ ব্যাংক এই দুর্যোগ কাটাতে দুর্যোগের মধ্যেও ঝুঁকি নিয়ে মানুষকে ব্যাংকিং সেবা দিয়ে যাচ্ছে। দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে দেশের এই সর্বোচ্চ ব্যাংকের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি কর্মী। এই সেবা নিরবিচ্ছিন্ন করার জন্য সম্প্রতি আইন সংশোধন করে সরকার বাংলাদেশ ব্যাংকের মাননীয় গভর্নর জনাব ফজলে কবিরের মেয়াদ আরও দুই বছর বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই থেকেই বুঝা যায় কোন ভাইরাস মোকাবেলায় বাংলাদেশ ব্যাংক কতটা সক্রিয় ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।

-এম এইচ হাসনাত 
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়  

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২০

করোনা সংকটকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভূমিকা



"বাংলাদেশ ব্যাংক"  বাংলাদেশ সরকার ও দেশে পরিচালিত সকল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অভিভাবকের ভূমিকা পালন করে থাকে। বিশ্ব তথা দেশের এমন সংকটাপন্ন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের আশু পদক্ষেপ নেওয়া সময়ের দাবি ছিল। এমন উদ্ভুত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ঠিক সেই কাঙ্ক্ষিত অভিভাবকসুলভ আচরণই করেছে।

করোনা নিয়ন্ত্রণে দেশের সব মানুষই কিছু না কিছু অবদান রেখেছে। কেউ অবদান রেখেছে প্রত্যক্ষ সেবা দিয়ে কেউবা পরোক্ষভাবে। যেমন বলা যায় সাধারণ মানুষ অবদান রেখেছে সরকারের গৃহীত আইন ও লকডাউন নীতি অনুসরণ করে। ঠিক সামনের সারিতে থেকে সরকারের হয়ে কাজ করেছে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকটি।

করোনার প্রাক্কালে 31 শে মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষণা করেছে আগামী 30 সেপ্টেম্বর 2020 পর্যন্ত কোন ধরনের ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা লাগবে না এবং এই সময়ে ঋণগ্রহীতারা ঋণখেলাপিরর আওতা বহির্ভূত হবেন। যেসব ব্যবসায়ীরা আমদানি-রপ্তানির সাথে জড়িত বিশেষ করে কাঁচামাল ও জীবনরক্ষাকারী ওষুধ আমদানি রপ্তানির সাথে জড়িত তাদের এলসি ব্যবহারের মেয়াদ বৃদ্ধি সহ কিছু শর্ত শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক যাতে করে করোনা পরিস্থিতিতে এমন ব্যবসায়ীরা খারাপ অবস্থার শিকার না হোন। এছাড়াও রিপু ইন্টারেস্ট রেট 6 শতাংশ থেকে  কমিয়ে 5 দশমিক 75 শতাংশ নামিয়ে এনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকটি। 

এগুলো ছাড়াও সরকারি ট্রেজারি পুনঃক্রয় ,প্রমোশন অফ পেমেন্ট সার্ভিস,  তারল্য নীতি পরিবর্তন সহ বেশকিছু জনগুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। 27 এপ্রিল কৃষি ঋণের ক্ষেত্রে পূর্বের তুলনায় কম সুদে ঋণের ব্যবস্থা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক যেখানে ব্যাংকটি ভর্তুকি দিবে পাঁচ শতাংশ। কৃষি ক্ষেত্রে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে যেন করোনা পরিস্থিতিতে অন্তত কৃষিখাতে উন্নতির ছোঁয়া পাওয়া যায়। 12 মে 2020 বাংলাদেশ ব্যাংক বৈদেশিক আয়ের  ক্ষেত্রে নতুন একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যেখানে প্রবাসীদের প্রেরিত অর্থের বিনিময়ে তাদেরকে 2% সুদ দেওয়া হবে। এমন সিদ্ধান্তের ফলাফল 25 জুন দেশের মানুষ দেখেছে যে দিন দেশের ইতিহাসে প্রথম 35.09 বিলিয়ন রিজার্ভ জমা হয় এবং পৃথিবীর 39 তম শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ হিসেবে পরিচিত হয় বাংলাদেশ।
 
অর্থনীতির বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের পাশাপাশি দেশের সবগুলো ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বিশেষ সুবিধার ব্যবস্থা করেছে ব্যাংকটি । এমন উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যারা ব্যাংকে কাজ করেছে তাদের জন্য স্পেশাল ইন্সেন্টিভ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। 

সর্বোপরি বলা যায় একজন অভিভাবক যেভাবে তার পরিবারকে আগলে রাখে , বাংলাদেশ ব্যাংকও সংকটাপন্ন পরিস্থিতিতে সরকার ও দেশের মানুষের জন্য অভিভাবকের ভূমিকাই পালন করেছে


©tahmidchowdhury94@gmail.com

বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক পদে নিয়োগ পরীক্ষাঃ কিছু পরামর্শ




বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক-বাংলাদেশের প্রচুর তরুণ-তরুণীর কাছে স্বপ্নের একটি চাকুরী। ডিসেম্বরের ১ তারিখে নতুন সার্কুলার দিয়েছে। 
সহকারী পরিচালক পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রথম পার্ট (এমসিকিউ অংশ)। এই অংশে ১০০ টি এমসিকিউ প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে ১ ঘন্টা সময়ে। এই পরীক্ষার মাধ্যমে প্রায় দশ হাজার জন নির্বাচিত হবেন ২য় পার্ট, অর্থাৎ লিখিত পরীক্ষার জন্য। ২-৩ লাখ পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দেবেন। সুতরাং মোটেই সহজ হবেনা কিন্তু ব্যাপারটা! এখন প্রিপারেশন নেওয়া শুরু করলে হাতে সময় পাবেন মোটামুটি ৫ মাসের মতো। অনেকেই আবার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বেশ আগে থেকেই। 

তবে মনে রাখবেন,প্রতিযোগীতামূলক পরীক্ষাগুলোতে ভালো করতে হলে আপনাকে কৌশলী হতেই হবে! আমরা বেশীরভাগই শুধু প্রিপারেশনের ক্ষেত্রে পড়াটার উপরেই ফোকাস করি। পড়ার বাইরেও যে কিছু মানসিক প্রস্তুতি আছে সেটা আমরা ভুলে যাই বারবার। আর এ প্রস্তুতিগুলো নিতেও কিন্তু কম সময় লাগেনা। পুরাতন অনেক অভ্যাস বদলে নিতে হয় আসলে। 

যাহোক, এই পরীক্ষায় ভালো করতে কি কি কৌশল অবলম্বন করতে পারেন আপনি, সে বিষয়ে আমার কিছু পরামর্শঃ
১। 
বিগত ৬-৭ বছরের প্রশ্নে বিভিন্ন বিষয়ের নম্বর বন্টন ছিলো এরকমঃ বাংলা-২০, ইংরেজী-২০, গণিত ও অ্যানালাইটিক্যাল অ্যাবিলিটি-৩০,সাধারণ জ্ঞান-২০ এবং কম্পিউটার নলেজ-১০। মনে রাখবেন অন্য পরীক্ষার্থীর সাথে আপনার পার্থক্য গড়ে দেবে ইংরেজী এবং গণিত অংশে আপনার দক্ষতা। অন্য বিষয়গুলোতে সবাই কাছাকাছি নম্বর পেয়ে থাকে। বাংলা থেকে গ্রাজুয়েশন করা একজন পরীক্ষার্থী হয়তো বাংলায় ২০ এর মধ্যে পাবে ১৫, আর মোটামুটি প্রিপারেশন নেওয়া অন্য একজন পাবে ১২। কম্পিউটার সায়েন্স থেকে গ্রাজুয়েশন করা একজন কম্পিউটার নলেজ অংশে খুব বেশী পেলে পেতে পারে ৮, অন্য একজন হয়তো সেখানে পাবে ৬। সাধারণ জ্ঞান অংশেও অলমোস্ট সবাই একই রকম মার্কস পাবে। অন্যদিকে ইংরেজী আর গণিতে ভালো দখল না থাকলে পাবেন ২০ এর মধ্যে ৫ করে। আর এই দুই অংশের মাধ্যমেই প্রতিযোগীতা থেকে ছিটকে পড়বেন আপনি। কারণ অন্য অংশগুলোর মতো এখানে মুখস্থ করে ভালো করার কোন সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। সুতরাং মূল ফোকাসটা ওই দুই অংশেই রাখতে হবে।

২।
এই নিয়োগ পরীক্ষার এমসিকিউ বা প্রথম অংশটি শুধুমাত্র লিখিত পরীক্ষা দেবার যোগ্যতা নিরূপন করে। কোন বছরে যদি লিখিত পরীক্ষা দিতে পারার যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয় ৪৫, তাহলে সেই এমসিকিউ পরীক্ষায় একজন ৮৫ পেলেও যা, ৪৫ পেলেও তা ই। এই ৪০ মার্কস বেশী পাওয়ার কারণে আলাদা কোন ভ্যালু অ্যাড হবেনা। দুজনেই জাস্ট লিখিত পরীক্ষা দেবার জন্য সিলেক্টেড হবে।

এবার আসি কেন এ বিষয়টি তুলে আনলাম সে প্রসঙ্গেঃ 

মাঝে ২/১ বছরের প্রশ্ন বাদ দিলে মোটামুটিভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন যে বাংলাদেশে সব সরকারী চাকুরী নিয়োগ পরীক্ষার মধ্যে সবথেকে কঠিন হয় এ ব্যাপারে আশা করি কেউ দ্বিমত পোষণ করবেনা। আমি নিজে পরীক্ষা দিয়েছিলাম ২০১২ সালে। সেবছর এমসিকিউ অংশের কাট আপ মার্কস নির্ধারণ করা হয়েছিলো ৪২.৫। আবার মনে করবেন না যে আমাদের ওই ব্যাচে যোগদানকারী সবাই মেধাহীন গাব ছিলো। আমরা জয়েন করেছিলাম ১৫৪ জন। তার মধ্যে ১৭ জন ছিলাম আইবিএ গ্রাজুয়েট। ৯ জন ছিলো বুয়েটের। বাকীদের মধ্যে অন্তত ৬০-৭০% ছিলো ঢাকা ইউনিভার্সিটির ভালো ভালো ডিপার্টমেন্ট থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরা। যাহোক, পরের ব্যাচের প্রশ্ন একটু সহজ ছিলো তুলনামূলকভাবে। এমসিকিউ অংশের কাট আপ মার্কস ছিলো ৫৮। আর ২০১৪ সালে যারা পরীক্ষা দিয়েছিলো তাদের এমসিকিউ অংশের কাট আপ নির্ধারিত হয়েছিলো মাত্র ৩৬ এ। ২০১৫ সালে সম্ভবত কোন নিয়োগ পরীক্ষা হয়নি। ২০১৬ তে এসে মুক্তিযোদ্ধা কোটা ব্যাচে আবার কাট আপ মার্কস ছিলো ২৮।
সুতরাং কেউ যদি এক্সাম দিতে গিয়ে ১০০ টি এমসিকিউ এর মধ্যে মাত্র ৫০ টি দাগিয়ে হতাশ হয়ে আন্দাজে আরও ২০ টি দাগিয়ে দেন, তাহলে আপনি নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মারবেন। কারণ নেগেটিভ মার্কিং কখনোই আপনাকে ক্ষমা করবেনা। প্রশ্ন যদি বেশী কঠিন হয়, তাহলে মাত্র ৪০ টি প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিয়েও লিখিত পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হতে পারেন আপনি। সুতরাং, ১ টি প্রশ্নের উত্তর ও আন্দাজে দাগাবেন না।

৩।
সবাইই জানেন, পরীক্ষার ১ ঘন্টা সময়ের বেশীরভাগই কিন্তু বরাদ্ধ রাখতে হবে গণিত অংশের জন্য। বাংলা, সাধারণ জ্ঞান, কম্পিউটার নলেজ আর ইংরেজী অংশের যে কয়টা প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন সেগুলোর পরেই সরাসরি গণিতে চলে যেতে হবে (আপনি কোন অংশের উত্তর আগে দেবেন সেটি আপনার নিজের মতো করে ঠিক করাটাই আপনার জন্য বেস্ট)। মনে রাখবেন, সাধারণ জ্ঞানের একটি প্রশ্নের উত্তর মনে করতে পারছেন না দেখে গালে হাত দিয়ে ৫ মিনিট ধরে সেটি মনে করার চেষ্টা করলে কিন্তু আখেরে কোন লাভ হবেনা। গণিত অংশে ভালো করতে হলে এতটুকু এফিসিয়েন্সি থাকতে হবে যেন একটা গাণিতিক সমস্যা দেখে সাথে সাথেই বুঝতে পারেন যে প্রশ্নটি আপনি সলভ করবেন নাকি স্কিপ করবেন। মনে রাখবেন, যেকোন অ্যাপটিচিউড টেস্টে মূল বাধা হলো সময়। আপনাকেই ডিসিশন নিতে হবে আপনি একটা ডিফিকাল্ট প্রশ্নের পিছনে মাথার চুল ছিঁড়ে ৭-৮ মিনিট নষ্ট করে ফেলবেন, নাকি এই সময়ে সহজ সহজ ৫ টি প্রশ্নের উত্তর দেবেন। দিনশেষে কিন্তু একটাই সত্য, সব প্রশ্নের মান সমান। সুতরাং একটা কঠিন প্রশ্নের পিছনে ৭-৮ মিনিট নষ্ট না করে এই সময়ে ৫ টা প্রশ্নের উত্তর দেওয়াটাই আপনার জন্য ভালো হবে।

৪।
প্রতিযোগীতামূলক পরীক্ষাগুলোতে একটি বড় যোগ্যতা হলো টেম্পটেশন কন্ট্রোলে রাখতে পারা। অনেকেই আন্দাজে উত্তর দিলে হয়ে যাবে শুধুমাত্র এই বিশ্বাসের উপরে ভর করে প্রচুর প্রশ্নের উত্তর দিয়ে আসেন। আগেই বলেছি ভাই/আপা.........নেগেটিভ মার্কিং কিন্তু কখনোই ক্ষমা করেনা! ইতিহাস সাক্ষী! সুতরাং বুঝে শুনে পরীক্ষা দেবেন।

অনেকেই হয়তো এই পোস্ট দেখে মনে মনে হাসছেন! ভাবছেন, "ব্যাটা পরীক্ষার আগে যে পোস্ট দেওয়ার কথা ছিলো সেটা এখনই দিয়ে দিছে!"
হা হা হা। ব্যাপারটা ওরকম সহজ না। আপনি কিছু স্ট্র‍্যাটেজি জেনে সরাসরি যুদ্ধে নেমে গেলে হবেনা। দীর্ঘদিন ধরে এই স্ট্র‍্যাটেজি গুলো ট্রায়াল অ্যান্ড এরর করতে হবে আপনার। সুতরাং মোটামুটি পড়া শেষ হলে এখন থেকেই ঘরের দরজা বন্ধ করে এক্সাম হলের এনভায়রনমেন্ট ক্রিয়েট করে ব্যাংকের আগের প্রশ্নগুলো সলভ করতে শুরু করেন। আর এসব স্ট্র‍্যাটেজি ভালোমতো আত্মস্থ করার চেষ্টা করেন।

সবার জন্য শুভকামনা রইলো :)

- ফেরদৌস কবির 
- ডেপুটি ডিরেক্টর 
- বাংলাদেশ ব্যাংক( চট্টগ্রাম)    

বাংলাদেশ ব্যাংকের এডি (জেনারেল) নিয়োগ পরীক্ষাঃ চূড়ান্ত প্রস্তুতি সংক্রান্ত কিছু পরামর্শ


 

করোনা দুর্যোগের কারণে এডি নিয়োগ পরীক্ষার প্রবেশপত্র ডাউনলোডের সুযোগ দেওয়া হয়েছে আরেকবার। অক্টোবর-নভেম্বরের আগে পরীক্ষা হবে কিনা সেটি নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। ৪১তম বিসিএসও নভেম্বরে নেওয়ার বিষয়ে আশাবাদী জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের এডি নিয়োগ পরীক্ষার সার্কুলার হয়েছিলো গতবছর ডিসেম্বরে। সে হিসেবে সার্কুলারের পরে প্রিপারেশন,নেওয়ার জন্য যথেষ্ট সময় পেয়েছেন আপনারা। যদিও অনেকেই করোনার লকডাউনের মধ্যে মোটামুটি ডিপ্রেশড হয়ে পড়ালেখা ছেড়ে দিয়েছিলেন৷ নতুন করে প্রবেশপত্র ডাউনলোডের প্রজ্ঞাপনে তারাও আবার নড়েচড়ে বসে প্রিপারেশন নেওয়া শুরু করেছেন।

এনিওয়ে...পড়াশোনা হয়তো আপনারা প্রচুর করেছেন, কিন্তু সাইকোলজিক্যাল প্রিপারেশনের কি অবস্থা? পরীক্ষার হলে আপনার স্ট্র‍্যাটেজিগুলো কেমন হবে সেগুলো কি ঠিক করেছেন সবাই? সাইকোলজিক্যাল প্রিপারেশনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে পরীক্ষার হলের মানসিক প্রেশার নেওয়ার সক্ষমতা, টেম্পটেশন নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারা, আনএক্সপেক্টেড সিচুয়েশন ফেইস করলে সেটা নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারা ইত্যাদি। স্ট্র‍্যাটেজি গুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে কোন টপিকের প্রশ্নের উত্তর আগে দেবেন কোনটা বা পরে, নেগেটিভ মার্কিং থাকলে বা না থাকলে কিভাবে আগাবেন, একটি প্রশ্নে বেধে গেলে চেষ্টা করবেন নাকি স্কিপ করবেন এসব।

নিয়োগ পরীক্ষা দিতে যাওয়া আর যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়া একই কথা। হয় বাঁচবেন না হয় মরবেন। চাকুরী পাবেন অথবা পাবেন না; এর মাঝখানে কিছু নাই। এসএসসি/এইচএসসি'র মতো সবাই পাস করে যাওয়ার চান্স নেই এখানে। তার উপরে আছে বয়সের একটা লিমিট। সুতরাং খুব বেশী ট্রায়াল অ্যান্ড এরর করার সুযোগ পাবেন না এখানে। মরার উপরে খাঁড়ার ঘা হয়ে গেছে করোনা পরিস্থিতি। সবাই এখন বুঝতে পারছে যে সরকারী চাকুরীই এখন সবচেয়ে নিরাপদ। মেধাবীদের একটা বড় অংশ যারা সবসময়ই মাল্টিন্যাশনাল/এফএমসিজি কোম্পানির ইঁদুর-বিড়াল দৌড়ের অ্যাড্রেনালিন রাশ উপভোগ করতে পছন্দ করে তারাও এখন সরকারী চাকুরীর দিকে ঝুঁকছে। আর...তাদের পছন্দের শীর্ষে কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকও আছে। সুতরাং...যুদ্ধ যে বেশ কঠিনই হতে যাচ্ছে সামনে...এটা মাথায় রেখেই আগান। আপনার এই সাইকোলজিক্যাল প্রিপারেশন এবং অ্যাডপ্টেড স্ট্র‍্যাটেজিগুলো যদি মনে করেন একবারে যুদ্ধের ময়দানে বা পরীক্ষার হলে গিয়েই ব্যবহার করবেন, তাহলে বোকার স্বর্গে বাস করছেন আপনি। কয়েকদিন আগে ভারত-চীনের সীমান্ত উত্তেজনার উপরে একটা আর্টিকেলে পড়ছিলাম যে যুদ্ধ বাধলে কি হতে পারে। সেখানে ভারত এবং চীনের সৈন্যদের অনেক অনেক উপরে রেটিং দেওয়া হয়েছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীকে। কারণ ভারত গত ২০-২৫ বছরে কোন যুদ্ধই করেনি, চীনের সেনাবাহিনীর তবুও বাইরের দেশগুলোতে কিছুটা অ্যাকটিভিটিজ আছে, অন্যদিকে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী পুরোটা সময় জঙ্গীদের সাথে ভয়ংকর যুদ্ধেই ছিলো। আসল যুদ্ধে নামার আগে বাহিনীগুলোকে প্রচুর ডেমো যুদ্ধে অংশ নিয়ে নিয়ে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে হয়; যেন তারা বুঝতে পারে কোথায় তাদের ভুল হচ্ছে এবং কিভাবে সেই ভুলগুলোকে শুধরাতে হবে। আপনারাও ডেমো যুদ্ধে নেমে পড়েন। মক টেস্ট দিতে থাকেন। বাসায় পরীক্ষার পরিবেশ তৈরী করে নিয়ে নিজেই নিজের ভুল ধরতে চেষ্টা করেন; কিভাবে সেই ভুলগুলোকে এলিমিনেট করবেন সে উপায় বের করেন। ৪-৫ মাস অনেক সময়। ইচ্ছা থাকলে এই সময়ের মধ্যে খুব সহজেই একটা ফাটাফাটি প্রিপারেশন নিতে পারবেন

যারা একদম শুরু থেকে শুরু করতে চান তাদের জন্য - এখানে ক্লিক করুন

-ফেরদৌস কবির 
-ডেপুটি ডিরেক্টর 
-বাংলাদেশ ব্যাংক   

মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২০

বাংলাদেশে ই-কমার্স


১৯৭১ সালে স্টানফোর্ড ইউনিভার্সিটি ও ম্যাসাচুসেটস ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি এর শিক্ষার্থীদের মাঝে বিক্রি করার উদ্দেশ্যে অর্পানেট যে উদ্যোগ গ্রহন তা- ই এখম বিশ্বব্যাপী এক আলোড়ন সৃষ্টিকারী মাধ্যমে রূপ নেয়।অনলাইন মার্কেটিংয়ের জায়ান্ট কোম্পানি আমাজন ও ই-বে তাদের যাত্রা শুরু করে ১৯৯৫ সালে অন্যদিকে ই-কমার্স সাইটের অন্যতম দখলদার আলিবাবা গ্রুপ তাদের কার্যক্রম শুরু করে ১৯৯৯ সালে। মাত্র অল্প ক-বছর পরেই ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হতে শুরু করে ঘরে বসে কেনাকাটা করার এ মাধ্যমে যা মাত্র পাচ বছরেই ১০০ বিলিয়ন ডলারের ব্যাবসায় পরিণত হয়। 

বিশ্বব্যাপী এর প্রচার ও প্রসার বহু আগ থেকে হয়ে আসলেও বাংলাদেশে আসতে আসতে ২০১০-২০১১ সাল লেগে যায় বাংলাদেশে এ পর্যন্ত শীর্ষে থাকা ই-কমার্স সাইটগুলোর মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে আলিবাবা র মালিকানাধীন দারাজ ডট কম উল্লেখ্য যে গত বছর ২০১৯ সালেই দারাজের সত্তাধারী লাভ করে দারাজকে আলিবাবা গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এরপরেই রয়েছে দেশীয় প্রতিষ্ঠান আজকের ডিল, প্রিয় সপ, ইভ্যালী ইত্যাদি। 

জার্মান ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্টাটিস্টার দেয়া তথ্য মতে, বাংলাদেশ সারা বিশ্বে ই-কমার্স ব্যাবহারকারীদের মধ্যে ৪৬ তম যার বাৎসরিক লেনদেনের পরিমান - দুই হাজার সাতাত্তর মিলিয়ন ডলার  যা গত বছর ছিল এক হাজার ৬ শ আটচল্লিশ মিলিয়ন ডলার আশা করা হচ্ছে আগামী ২০২৩ সাল নাগাদ এ লক্ষ্য মাত্রা ৩০৭৭ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে৷ তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক জানান - চলতি বছরে বাংলাদেশে ই-কমার্সের প্রবৃদ্ধি ৫০% হয়েছে। অন্যদিকে ই-কমার্স আ্যসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ( ইক্যাব) জানায় প্রতি তিনবছর পরপর বাংলাদেশে ই-কমার্সের প্রবৃদ্ধি হয় ১০০ শতাংশ। 

আঙ্কটাডের রিপোর্ট অনুযায়ী গত বছর বিশ্বব্যাপী প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩ শতাংশ যেখানে বাংলাদেশে প্রবৃদ্ধি ২৫শতাংশ। গত পাচ এপ্রিল ২০২০ আন্তর্জাতিক ই-কমার্স সপ্তাহ উপলক্ষে প্রকাশিত রিপোর্টে এ তথ্য উঠে আসে। অন্য দিকে গবেষণা প্রতিষ্ঠান কায়মু ডট কম ( kaymu.com.bd) এর তথ্য মতে বাংলাদেশের ৮০ শতাংশ বিক্রি হয় ঢাকা, চট্টগ্রাম ও গাজীপুর এ যায় ৩৫% ঢাকায়, ৩৯ শতাংশ চট্টগ্রামে এবং ১৫ শতাংশ গাজীপুরে হয়৷ যার মধ্যে ৭৫ শতাংশ গ্রাহক ১৮-৩৪ বছর বয়সের। 

ইক্যাবের দেয়া তথ্য মতে, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রতিমাসে ৭০০ কোটি টাকার লেনদেন হয় যেখানে ৭৫০০ টি দেশি বিদেশি কোম্পানি কাজ করে যাচ্ছে যা নিয়ে তারা খুব আশাবাদী যদিও দুর্বল ইন্টারনেট, সহজযোগ্য লেনদেন এর অভাব, ও যাতায়াত ব্যবস্থায় কারণে কিছু হুমকির মুখে রয়েছে যার ফলসরূপ তারা এখনও গ্রামের মানুষের কাছে পৌছতে পারে নি৷

শনিবার, ২০ জুন, ২০২০

সিস্টার সিটি ও বাংলাদেশের অর্থনীতি



নিজেদের পারস্পরিক সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক বন্ধন আরো দৃঢ় করার লক্ষ্যে দূরবর্তী দুটি শহর বা দেশের মধ্যে একপ্রকার সামাজিক চুক্তির মাধ্যমে এক দেশ বা শহর অন্য দেশ বা শহরকে নিজেদের আদলে গড়ে তোলার প্রক্রিয়াকেই সিস্টার সিটি বা টুইন সিটি বলা হয়।ব্রিটিশ শাসিত অঞ্চল বা দক্ষিণ এশিয়ায় এই পদ্ধতিকে সিস্টার সিটি বলা হলেও আমেরিকায় একে টুইন সিটি এবং চীনে ফ্রেন্ডশিপ সিটি নামে পরিচিত। ১৯৪৭ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে মিত্রদেশগুলোর ভিতর পারস্পরিক বন্ধুত্ব বৃদ্ধি এবং আগেকার শত্রু দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনের উদ্দেশ্যে সিস্টার সিটি বা ফ্রেন্ডশিপ সিটি এই ধারণাটি জনপ্রিয় হতে শুরু করে। ২০০০ সালের পর থেকে এই ধারণাটি আরো বেশি জনপ্রিয় হতে শুরু করে।

করোনার ছোবল থেকে যখন বিশ্বের প্রতিটি দেশ বিপর্যস্ত ঠিক তখনই ১৯ মে ২০২০ বেইজিং থেকে  বাংলাদেশকে দ্বিপাক্ষিক প্রস্তাব করা হয় বাংলাদেশ ও চীনের পররাষ্ট্রবিষয়ক কর্মকর্তাদের এক ভার্চুয়াল মিটিং ওয়েবিনারে। চুক্তির ব্যাপারে আগ্রহ দেখাচ্ছেন সরকারদলীয় আন্তর্জাতিক পররাষ্ট্রবিষয়ক নেতৃবৃন্দ।চুক্তি অনুযায়ী চীন তাদের দেশের উন্নত কয়েকটি শহরের আদলে বাংলাদেশের রাজধানীর একাংশ তথা ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন সহ মোট ছয়টি শহরকে তারা নতুনরূপে সাজানোর প্রস্তাব করে।

চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি অফ চায়না- সিপিসি ও বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যকার অনলাইন আলোচনায় বাংলাদেশকে লোভনীয় প্রস্তাব করার পাশাপাশি অন্যান্য মহামারীতে বাংলাদেশকে সরাসরি সহযোগিতার আশ্বাস দেয় যদিও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোন রেজাল্ট জানানো হয়নি তবে তাদের একটি শর্ত পূরণ করে চীন ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে।

গত ১০ জুন বাংলাদেশ সফরে আসে চীনের ২০ সদস্যের একটি মেডিকেল টিম যারা বাংলাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে আগামী ২৫ তারিখ পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করে বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করবেন বলে জানা গেছে।

আপাতদৃষ্টে সিস্টার নীতি বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে অনুকূলে মনে হলেও অনেক বিশেষজ্ঞ শ্রীলংকা নেপাল মালদ্বীপ এর কথা মনে করিয়ে দিচ্ছেন বারবার। অন্যদিকে বাংলাদেশের আজন্ম মিত্র দেশ ভারত কি এই চুক্তি বাস্তবায়ন ভালো চোখে দেখবে সে ষ জিজ্ঞাসা এখন কূটনৈতিক পাড়ায়।

ভারত ও চীনের মধ্যে গালওয়ান উপত্যকায় দু'পক্ষের অসন্তোষ দিন দিন বাড়তে থাকায় বিশ্বব্যাপী যখন আলোচনা হচ্ছে কে কার পক্ষে যাবে- চীন তখন আবারও বাংলাদেশের সামনে উদারতা দেখাতে চীনের বাজারে বাংলাদেশের পাঁচ হাজারেরও বেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত অনুপ্রবেশ এর সুবিধা দেয়। এ সুবিধা বাংলাদেশের জন্য নিঃসন্দেহে এক অনাকাঙ্খিত পাওয়া হলেও ভারত তাতে মোটেও খুশি নন। ভারতের কূটনৈতিক পাড়ায় এখন শুধু হাহাকার- টিভি আলোচনা বারবার বলতে চাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রতি চীনের এমন উদারতা ভারতকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলার মাস্টারপ্ল্যান ছাড়া আর কিছুই না

সিস্টার নীতির প্রস্তাব ও গত দুই মাসে চীনের উদারতায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক পাড়ায় আশার আলো দেখছেন এই বলে যে বাংলাদেশ-চীনের প্রস্তাবে সাড়া না দিলেও ভারতকে চাপ সৃষ্টি করে যুদ্ধ পরবর্তী সময়কাল থেকে অমীমাংসিত বিষয়গুলো মীমাংসার জন্য চাপ দিতে পারবে। যদিও বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের একমাত্র মিত্র এবং সবচেয়ে কাছের দেশ বাংলাদেশ যদি তাদের হাতছাড়া হয়ে যায় তাহলে ভারতকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলার জন্য চীনের আর কোনো বাধা থাকবে না এবং তারা তাদের সিল্ক রোড এর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারবে অনায়াসেই। অন্যদিকে এর চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে বাংলাদেশের হয়ে যে কোন যুদ্ধে বাংলাদেশের শত্রুর বিরুদ্ধে সরাসরি অংশ নিতে পারবে চীন।

প্রস্তাবিত এ সিস্টার্স সিটি বাস্তবায়নে চীনের খরচ হবে ১৫ থেকে ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার কিন্তু বাংলাদেশ সরকার এখনো পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত পৌঁছায়নি।তবে আশা করা যাচ্ছে অতি শীঘ্রই এই চুক্তি বাস্তবায়িত হবে তবে বাংলাদেশ সরকার দরকষাকষি করছে এজন্য যে বাংলাদেশে অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলে দেশের মানুষের কোন উন্নয়ন হবে না।তাই সরকারের একটি উচ্চ মহল বলছে যদি এই চুক্তি বাস্তবায়িত হতে হয় তবে বর্তমানে বাংলাদেশে অগ্রসরমান ১০০ টি অর্থনৈতিক অঞ্চলে চীন সরকারের সরাসরি বিনিয়োগ করতে হবে যার ফলে দেশের জনগণ সেখানে কাজ করে নিজেদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন করতে পারবে।

রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২০

Impact of Covid-19 on the economy of Bangladesh

Add caption
The recent outbreak of 2019- Novel Coronavirus recently termed as Covid-19 has a tremendous impact on the world economy and so on that of Bangladesh. A recent analysis on the impact of the outbreak in the Asian countries was published by the Asian Development Bank (ADB) which opined a cut off in the gross domestic product( GDP) by 1.1% in Bangladesh. 

They made an assumption of the impact in three categories while the best situation -not affect, worse situation- effective and the worst is that highly affected. Apart from 94 countries affected by the virus, Bangladesh is yet to be affected but the ramifications thers effected is a great concern. 

The study considering all the major aectors of GDP mark up an edge where Bangladesh may wipe out 3.02 billion US dollar from the economy of 300 billion US dollar. Many sectors of the economy including readymade garments, raw materials,  export-import is in at stake when the maximum of our economy dependent on the most populated Asian country simultaneously the second largest economy of the world.

 To alleviate the cost of the ongoing outbreak, the socialist government Bans all types of communication with the epicentre of the virus in order not to spread the impact which causes a shortage of raw materials impeding Bangladeshi exporters to reach the goal by fulfilling the customer demand. Besides Bangladesh is facing problems in tourism sectors and the ongoing construction of Infrastructures. Despite December & January is a peak season to attract the tourist in the country but in this season the sector is vandalising as almost 80% of  5- 6 lakh tourists come usually from China. Barriers from China will hurt the export-oriented Industries especially connected with China said the Finance Minister adding that the total impact of the outbreak will be clear at the last of the march but it is undoubtedly true that Bangladesh is suffering from the pandemic and the situation become worse if it continues for a long period.