রহস্য গল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
রহস্য গল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ২৯ জুন, ২০২০

মেহরাব নয়নের রহস্য গল্প - ইন্দ্রিয় লালসা- শেষ পার্ট

ইন্দ্রিয় লালসা- শেষ পার্ট

–মেহরাব স্যার, আমি ওদের সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে নিয়েছি।
করিম যে মায়া হকের বাসায় কাজ করতো, ও এখন ঢাকায় অন্য একটা বাসায় কাজ করে। কিন্তু স্যার অবাক করা বিষয় হচ্ছে করিমের গ্রাম থেকে খোঁজ নিয়ে জানলাম মাঝেমধ্যেই তাদের গ্রামের কবরস্থান থেকে লাশ চুরি হয়ে যায়।
আর উসমান সাহেব, যিনি মায়া হকের ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন, উনি এখন একলা অন্য একটা ছোট বাসায় ভাড়া থাকেন। উনার স্ত্রী উনার সাথে থাকেন না। কিন্তু উসমান সাহেবকেও মাঝেমধ্যে অনেক লোক রাতে কবরস্থানের দিকে যেতে দেখেন। কেনো কবরস্থানে যান এটা কেউ জানেনা"।
কন্সটেবল আসিফের কথা শুনে আমার বুকের ভিতর ধড়াম করে একটা আওয়াজ হলো। তাহলে কি উসমান বা করিমের মধ্যে কেউ এই ভয়ংকর খুনগুলো করেছে?
আসিফকে বললাম,
–তুমি উসমান এবং করিমের বাড়ির সব জায়গায় চেক করো। দেখো মানুষের কোনো অঙ্গ, অথবা চুড়ি চেইন এগুলো পাওয়া যায় কি'না।
কিছু পেলে সাথে সাথে আমাকে জানাও। সাথে করিম আর উসমানকে যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব থানায় নিয়ে আসো"।
–ঠিক আছে স্যার"।
.

কন্সটেবল আসিফের সাথে কথা শেষ করে তাড়াতাড়ি থানা থেকে বের হলাম। উদ্দেশ্য নার্স শারমিনের বাসা। যে মাত্রই খুন হয়েছে।
আমি নিশ্চিত, নার্স শারমিন জানতো এই ভয়ংকর খুনের পিছনে কে আছে।
হয়তো এটার জন্যে তাকেও খুন করা হয়েছে।
.
নার্সের বাসায় পৌছালাম। দেখলাম গেইটের সামনে ডাক্তার শামীম দাঁড়িয়ে আমার জন্য অপেক্ষা করছেন। চেহারায় স্পষ্ট ভয়ের ছাপ। আমাকে দেখামাত্র ডাক্তার শামীম দৌড়ে এসে বললেন,
–মেহরাব স্যার আমি আপনার জন্যই অপেক্ষা করছিলাম। একের পর এক খুন। কি হচ্ছে এসব স্যার? আমার ভীষণ ভয় লাগছে"।
–ভয় পাবেন না। খুনি যেইহোক, খুব তাড়াতাড়ি ধরা পড়বে। আপাতত চলুন শারমিনের লাশটা দেখে আসি"।

ভিতরে আসলাম। আমার সামনেই পড়ে আছে নার্স শারমিনের লাশ। লাশটা দেখে আমি মোটেও অবাক হইনি। একিই ভাবে খুন।
গলা কেটে হত্যা।
খুনের পর লাশের সাথে শারীরিক সম্পর্ক। এটা থেকে স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে মায়া হক এবং শারমিনের খুনিই একজন'ই।
কিন্তু কে করছে এসব?
করিম না'কি উসমান?
এই দু'জন ছাড়া তৃতীয় কারো উপর আঙুল তুলার কোনো সুযোগ নেই।
আমি নিশ্চিত, খুনি এই দু'জনের মধ্যেই কেউ।
শারমিনের লাশটা পোস্টমর্টেম করার জন্য পাঠিয়ে থানায় চলে আসলাম।
আপাতত করিম এবং উসমানকে ধরে থানায় নিয়ে আসাটা জরুরী"।
.
.
উসমানকে ধরে থানায় নিয়ে আসলাম।
অবশ্য উসমানকে ধরতে মোটেও খোঁজাখুঁজি করতে হয়নি। সে তার বাসাতেই ছিলো।
উসমান, মায়া হকের আগের ভাড়াটিয়া। যার তীব্র রাগ ছিলো মায়া হকের উপর।
রাগ থেকে হয়তো মায়া হককে এরকম ভয়ংকর খুন করতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে মায়া হকের মেয়ে সামিয়া এবং নার্স শারমিনকে খুন করলো কেনো এটা এখনো পরিষ্কার না।
তারচাইতেও অবাক করা বিষয় হচ্ছে এই মানুষটাকে দেখে কোনোদিক থেকেই এরকম ভয়ংকর খুনি মনে হচ্ছেনা। শরীরে পাঞ্জাবি। মাথায় টুপি।
হুজুর হুজুর একটা ভাব।
এই মানুষটা এরকম ভয়ংকর নোংরা খুন করবে ভাবতেই পারছিনা।
আমি কথা বলা শুরু করলাম,
–তো নেক্রোফিলিয়ায় আক্রান্ত উসমান সাহেব, কেমন আছেন"?
আমার কথার কোনো উত্তর দিলেন না তিনি। ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে রইলেন আমার দিকে। খানিকক্ষণ পর বললেন,
–নেক্রোফিলিয়া কি স্যার? কোনো বড় অপরাধের নাম না'কি"?
কথাটা শুনে আমি ফিক করে হেসে উঠলাম। বললাম,
–বাদ দিন এসব। আমাকে এটা বলুন মায়া হক এবং উনার মেয়ে সামিয়া যেদিন খুন হয়, ওইরাতে আপনি ওসমানীনগর হসপিটালে কি করছিলেন? অস্বীকার করার চেষ্টা করবেন না, আমাদের কাছে সিসিটিভি ফুটেজ আছে"।
–কি অদ্ভুত। আমি অস্বীকার কেনো করবো স্যার? আমি হাসপাতালে গিয়েছিলাম। ডাক্তার দেখাতে।
ইদানিং আমার পেটের ডান সাইডে প্রচন্ড ব্যাথা অনুভব করি। ঠিকমতো দাঁড়াতে গেলে কষ্ট হয়। আমি এটার জন্যই ডাক্তার দেখাতে গিয়েছিলাম।
আপনি চাইলে আমার সব রিপোর্ট দেখতে পারেন। অথবা ওইখানে যে ডাক্তারকে দেখিয়েছি তার সাথেও কথা বলতে পারেন"।
–আচ্ছা বুঝলাম। কিন্তু আপনি মায়া হকের কেভিনে গেলেন কেনো এটা তো আমার মাথায় ঢুকছেনা"।
–স্যার আমি যখন হসপিটাল থেকে বের হতে যাবো ঠিক এমন সময় দেখলাম রাজু একটা কেভিন থেকে বের হলো। রাজুকে দেখে আমার মনে হলো হয়তো রাজুর আম্মা মায়াও এখানে আছে।
আসলে আমার ভিতরে আমার করা পাপের জন্য প্রচন্ড অপরাধ'বোধ কাজ করছিলো। কি'রকম জঘন্য মানুষ ছিলাম আমি। ভাবতেও ঘিন্না লাগে।
আমার পাপের জন্য আমার স্ত্রী'ও আমাকে ছেড়ে চলে গেছে।
আমি ভাবলাম মায়ার কাছে আমার ক্ষমা চাওয়া উচিত। এজন্য আমি ওই কেভিনে যাই। গিয়ে দেখি মায়া তার মেয়ে সামিয়াকে নিয়ে একটা বেডে বসে আছে।
আমি মায়ার কাছে গিয়ে আমার পাপের জন্য ক্ষমা চাই। মায়াও আমাকে ক্ষমা করে দেয়। তারপর আমি হসপিটাল থেকে সরাসরি বাসায় চলে আসি"।
.

উসমান সাহেবের কথা শুনে আমি খানিকক্ষণ চুপ করে বসে রইলাম।
হতে পারে উনি সত্যি বলছেন, আবার হতে পারে আমাকে বোকা বানাচ্ছেন।
ঠিক বুঝে উঠতে পারছিনা।
আমি বললাম,
–ওকে! আপনার সব কথা বিশ্বাস করে নিলাম। কিন্তু আমাকে এটা বলুন, প্রায় রাতে আপনাকে কবরস্থানের দিকে যেতে দেখা যায়। অনেকজন সাক্ষী আছেন এই বিষয়টার।
রাতের অন্ধকারে কবরস্থানে গিয়ে কি করেন? লাশের সাথে নোংরামি"?
আমার কথাটা শুনে প্রচন্ড রেগে গেলেন উসমান সাহেব। রাগী কন্ঠে বললেন,
–ছিঃ! কি বলছেন এসব?
আমার সম্পর্কে এতো খোঁজ নিলেন, কিন্তু এটা জানলেন না যে 'আমার আম্মা ৪মাস আগে মারা গেছেন'। আমি প্রচন্ড ভালোবাসি আমার আম্মাকে।
রাত হলে বিছানায় ঘুমাতে পারিনা।
মনে'হয় ওই অন্ধকার জায়গায় আমার আম্মা কিভাবে থাকবেন? কিভাবে ওই অন্ধকারে একলা ঘুমাবেন?
এজন্য প্রায় রাতেই আমি আম্মার কবরে যাই। অনেক রাত ওইখানেই কাটিয়ে দেই। নিজের ভুল আর পাপের জন্য কান্নাকাটি করি"।
–আপনার মা মারা গেছেন? এজন্যই কবরস্থানে যান?
–জ্বী স্যার। আপনি চাইলে খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন। বিশ্বাস করুন, আমার কথায় বিন্দুমাত্র মিথ্যা নেই।
আমি কোনো কথা মিথ্যা বলিনি"।
.
উসমান সাহেবের সাথে আর কোনো কথা বাড়ালাম না। উনাকে ছেড়ে দিয়ে উনার সম্পর্কে আরেকটু ভালোভাবে খোঁজ নিলাম।
আসলেই সব সত্যি বলেছেন।
ওইদিন হসপিটালে উনি ডাক্তার দেখাতে গিয়েছিলেন। উসমান সাহেবের মা মারা গেছেন ৪মাস আগে। মা মারা যাওয়ার পর উসমান সাহেব পুরোপুরি বদলে গেছেন। সহজ বাংলায় এখন তাকে একজন "ভালো মানুষ' বলা যায়। এটার মানে হচ্ছে উসমান সাহেব এই ভয়ংকর খুনগুলো করবেন না।
তাহলে খুনিটা কে?
আমার হাতে আছে স্রেফ একজন।
"করিম"। যে মায়া হকের বাসায় আগে কাজ করতো।
.

করিম সম্পর্কে একটু খোঁজ নেওয়ার পর জানতে পারলাম করিম মায়া হকের বাসা থেকে কাজ ছেড়ে দিয়েছিলো কেনো।
করিমের একটা মেয়ে আছে। ফাতিমা।
বয়স ৯। কয়েক'মাস আগে ফাতিমা একটা হসপিটালে মারা যায়। শুধুমাত্র টাকার অভাবে কিডনির অপারেশন করা হয়নি এজন্য।
পাশের ফ্ল্যাটে কাজ করা ছেলেটার কাছে যখন বিষয়টা জানতে চাইলাম, তখন ছেলেটা বললো,
" স্যার, করিম ভাই বহুত কান্নাকাটি কইরা মায়া ম্যাডামের কাছে কইছিলো টাকা দেওয়ার জন্য। কিন্তু মায়া ম্যাডাম টাকা দেন নাই। এতোগুলান টাকা না'কি উনি দিতে পারবেন না।
করিম ভাই আমার কাছে এসে বহুত কান্নাকাটি করছে। আমিও গরীব মানুষ স্যার। কি করমু? বেচারা মাইয়াটারে বাছাইতে পারে নাই। আহ!
তারপর এই বাসায় আর কাজ করে নাই"।
আমি স্পষ্ট বুঝতে পারলাম মায়া হকের উপর করিমের রাগ থাকাটা অস্বাভাবিক কিছু না। আর এই ধরনের রোগী'রা রাগ থেকে যা ইচ্ছা তাই করতে পারে।
হয়তো এই ভয়ংকর খুনগুলো করিম'ই করেছে"।
.
.
করিমকে ধরে থানায় নিয়ে আসলাম।
করিমকে খুঁজে বের করতে একটুও কষ্ট হয়নি। ২মাস ধরে যে নতুন বাসাটায় কাজ করছে ওইখান থেকেই ধরেছি।
আমি করিমের চেহারার দিকে একবার ভালোভাবে তাকালাম।
ভীত চেহারায় চুপচাপ বসে আছে।
কথা বলা শুরু করলাম,
–তো করিম মিয়া! মায়া হকের উপর প্রতিশোধ তো খুব ভয়ংকর ভাবেই নিলে। এবার এটাও বলে দাও সামিয়া এবং নার্সকে খুন করলে কেনো"?
কথাটা শুনে করিম মিয়া যেনো চমকে উঠলো। চেহারায় পাহাড় পরিমাণ ভয়ের ছাপ স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে।
প্রচন্ড ভয়ার্ত কন্ঠে করিম বললো,
–কি কইতাছেন স্যার এগুলো?
আমি কোনো খুন টুন করিনি"।
–সব খুনিই এটা বলে। তুমি যদি খুন না'ই করে থাকো, তাহলে ওইরাতে ওসমানীনগর হসপিটালে মায়া হকের কেভিনে কি করছিলে?
তোমার এলাকার কবরস্থান থেকে লাশ চুরি হয়ে যায় কোথায়?
তুমি'ই খুনগুলো করেছো।
তুমি'ই লাশের সাথে এসব নোংরামি করেছো। স্বীকার করে নাও করিম মিয়া! অন্যথায় কিভাবে স্বীকার করাতে হয় আমরা ভালো করেই জানি"।
আমার কথাগুলো শুনে করিম মিয়া হু হু করে কান্না শুরু করলো।
কান্নার মধ্যেও চেহারায় ভয়ের ছাপ স্পষ্ট। করিম মিয়া কাঁদতে কাঁদতে হাতজোড় করে বললো,
–স্যার আমি কিছু করিনি।
আমারে ছাইড়া দেন স্যার।
ওইরাতে তো আমি আমার নতুন বাসার মালিকের খাবার নিয়া হাসপাতালে গেছিলাম। মায়া ম্যাডামের পাশের কেভিনে এখন উনি ভর্তি আছেন।
উনার কি একটা অপারেশন হইছে স্যার।
ওইদিন খাবার দিয়ে আসার পথে আমি জানালা দিয়ে দেখলাম সামিয়া মানে মায়া ম্যাডামের মাইয়া শুইয়া আছে।
আমারো তো সামিয়ার মতোন একখান মাইয়া আছিলো স্যার। তাছাড়া আমি সামিয়া ম্যাডামরে নিজের মেয়ের মতোন'ই দেখতাম। সামিয়া ম্যাডামরে জানালা দিয়া দেইখা আমি তাড়াতাড়ি কেভিনে যাই৷ গিয়ে দেখি সামিয়ার পাশে বসে মায়া ম্যাডাম কান্নাকাটি করতাছেন। আমারে দেইখাও কান্না করলেন। আমার কাছে মাফ চাইলেন।
কইলেন আমি যেনো তাকে মাফ কইরা দেই। আমার মেয়ের মরার জন্য উনি নিজেকে দোষ দিচ্ছিলেন স্যার।
আমি কইলাম "ম্যাডাম জন্ম আর মরণ তো আল্লাহর হাতে। আমার মেয়ের মরণ হয়তো এভাবেই লিখা ছিলো। আপনার উপর আমার আর কোনো কষ্ট নাই"।
তারপর উনি আমারে অনেকগুলা টাকা দিতে চাইলেন। আমি আনিনি স্যার।
এহন টাকা দিয়া আমি কি করুম?
তারপর সামিয়া ম্যাডামরে দেইখা আমি ওইখান থেকে আইয়া পড়ি।
আর শারমিন কে স্যার? আমি'তো চিনিওনা তাকে। স্যার আমারে ছাইড়া দেন। আমি কিছু করিনি"।
.

করিম ফুপিয়ে ফুপিয়ে কান্না করছে। তার চোখের পানিগুলো স্পষ্ট বলে দিচ্ছে সে সত্যি বলছে। তারপরেও আমি খুব করে চাই যাতে করিম দোষী হোক।
কারণ করিম ছাড়া আমার হাতে আর কোনো মানুষ নেই। অন্য কারো উপর আঙুল তুলার কোনো সুযোগ ও নেই।
আমি বললাম,
–আচ্ছা বিশ্বাস করে নিলাম তুমি ওইদিন তোমার বাসার মালিকের জন্য খাবার নিয়ে গেয়েছিলে। এটাও মানলাম সামিয়াকে দেখে ওই কেভিনে গেছো।
কিন্তু তোমার গ্রামের কবরস্থান থেকে লাশ চুরির বিষয়টা? তোমাদের গ্রামের কবরস্থান থেকে লাশ যায় কোথায়?
তুমি'ই লাশের সাথে এসব নোংরামি করো। সত্যিটা বলে দাও"।
করিম কাঁদতে কাঁদতে বললো,
–স্যার কি কন এসব?
আমাগোর গ্রামে লাশ চুরি হইতাছে ঠিক।
কিন্তু এটা নিয়া পুলিশরা আলাদা কাজ করছে স্যার। শুধু আমাদের না, পাশের গ্রাম থেকেও লাশ চুরি হইতাছে।
শুনতাছি কোনো একটা চক্র না'কি লাশ চুরি কইরা বড় দামে বেইচা দেয়।
তাছাড়া আপনি খোঁজ নিলে জাননে পারবেন মাইয়াগো লাশের চাইতেও পুরুষদের লাশ বেশি চুরি হইতাছে।
আমার কথা বিশ্বাস করের স্যার।
আমি এতটাও খারাপ লোক না।
আসল খুনিরে না ধইরা আমার মতো অসহায় মানুষরে ফাসাইয়েন না স্যার।
আমি গরীব মানুষ"।


করিম অবিরাম কান্না করে যাচ্ছে।
প্রচন্ড মায়া লাগছে ওর কান্না দেখে।
আমার এক'মুহূর্তের জন্যেও মনে হয়নি করিম মিথ্যা বলছে। মানুষ মিথ্যা বলতে পারে, কিন্তু মানুষের চোখ নয়"।
.
করিমকে ছেড়ে দিলাম।
খোঁজ নিয়ে দেখলাম করিমের প্রত্যেকটা কথা সত্য। মিথ্যা বলেনি।
এখন আমার নিজেকেই প্রচন্ড অসহায় মনে হচ্ছে।
কি হলো এসব?
এতো কষ্টের পর ফলাফল শূন্য?
কিন্তু কেউ তো এই ভয়ংকর খুনগুলো করেছে। আরিফ সাহেব না, উসমান সাহেব না, করিম মিয়া না,
তাহলে খুনিটা কে?
এতোদিন ধরে আমি শুধু সিসিটিভি ফুটেজটার উপরেই খুনিকে ধরার চেষ্টা করেছি। ভুলটা হয়তো এখানেই।
সিসিটিভি থেকে বেরিয়ে আবার নতুন করে শুরু করতে হবে। মায়া হকের জীবনের পুরো ইতিহাসটা আমাকে জানতে হবে"।
.

মায়া হকের অতীত নিয়ে ঘাটাঘাটি করার পর জানতে পারলাম উনি মেডিকেলে পড়তেন। একটু খোঁজাখুঁজির পর উনার কলেজ লাইফের একটা গ্রুপ ছবি পেলাম। ছবিটার দিকে ভালোভাবে খেয়াল করতেই আমার বুকটা ধুক করে উঠলো। ছবির কর্নারে ডাঃ শামীম দাঁড়িয়ে আছেন।
এটার মানে হচ্ছে ডাঃ শামীম আগে থেকেই মায়া হককে চিনতেন।
কিন্তু আমাকে তো কখনো বলেন নি এসব। কিছু গন্ডগোল আছে।
.
মায়া হকের কলেজ লাইফের কয়েকজন বন্ধুর সাথে যোগাযোগ করলাম। তারা আমাকে বললো,
"স্যার মায়াকে পাগলের মতো ভালোবাসতো শামীম। কোনো ছেলে মায়ার সাথে কথা বলা তো দূর, মায়ার দিকে তাকালেই তার সাথে মারামারি শুরু করে দিতো। শামীমের এসব পাগলামি মায়ার লাইফটা একদম বিরক্তিকর করে তুলছিলো।
একদিন মায়া এসবের জন্য শামীমের সাথে কথা বলে। শামীমকে বুঝায়।
কিন্তু শামীমের একটাই কথা 'আমি তোমাকে ভালোবাসি'। শামীমকে বুঝাতে না পেরে মায়া শামীমের গালে একটা থাপ্পড় মারে। ব্যাস তারপর তো মায়াও প্রচন্ড ভয়ে দিন কাটাতে শুরু করে। পড়াশুনাও কমপ্লিট না করে বাবার কথা অনুযায়ী বিয়ে করে নেয়।
এই পাগলটার জন্য আমরাও সবাই ভয়ে ভয়ে থাকতাম। কখন কি করে ফেলে এটার ঠিক ছিলোনা স্যার"।
.
আমার কাছে কেসটা আস্তে আস্তে পরিষ্কার হওয়া শুরু করলো।
আমি ডাক্তার শামীম সম্পর্কে আরেকটু খোঁজ নিলাম।
মেডিকেলে পড়ার সময় প্রত্যেকটা স্টুডেন্ট শামীমকে ভয় পেতো।
অনেকে 'সাইকো' বলেও ডাকতো।
মায়ার ওই থাপ্পড়ের পর পরিস্থিতি এতোটাই খারাপ হয়ে গিয়েছিলো যে, শামীমের সাথে কেউ কথা বলতে আসলে বা তার শরীরের সাথে ভুল করে কারো শরীর টাচ হলে সে তাকে ভয়ানক'ভাবে মারধর করতো।
শামীমের বাবা রাজ্জাক সাহেব।
ফ্রান্স থাকেন। বড় বিজনেসম্যান। ছেলের এই অবস্থার কথা শুনে ছেলেকে তার কাছে ফ্রান্সে নিয়ে যান।
ওইখানে প্যারিসের একটি হসপিটালে তার মানসিক চিকিৎসা করা হয়"।
.
আমি বিষয়টা আরেকটু নিশ্চিত হওয়ার জন্য ওই সময়ের প্যারিস হসপিটালের হেড ডাক্তার ক্লিনটনের সাথে যোগাযোগ করি। শামীমের নাম শুনতেই ডাক্তার ক্লিনটন বলেন,
–শামীম? ওই বাংলাদেশি ছেলেটা?
ও কি আবার কোনো লাশের সাথে শারীরিক সম্পর্ক করার চেষ্টা করেছে"?
ডাক্তার ক্লিনটনের কথা শুনে হাই ভোল্টেজের শকড খেলাম। বললাম,
–মানে? শামীম কি প্যারিসেও এগুলো"?
–হ্যা। আমরা একবার নয়, হাতেনাতে দুইবার ধরেছি। সে লাশের সাথে শারিরীক সম্পর্ক করার চেষ্টা করেছিলো।
শামীম নেক্রোফিলিয়াতে আক্রান্ত।
আমরা তো তার হাত পা বেঁধে তাকে চিকিৎসা করেছিলাম।
কিন্তু আমরা তাকে পুরোপুরি সুস্থ করে তারপর হসপিটাল থেকে রিলিজ দেই।
ওর কি আবার নেক্রোফিলিয়া এট্যাক করেছে"?
ডাক্তার ক্লিনটনের কথা শুনে আমার কাছে বিষয়টা পুরোপুরি পরিষ্কার হয়ে গেলো। কাঁপা কন্ঠে বললাম,
–ডাক্তার সাহেব, কি কি কারণে নেক্রোফিলিয়া হতে পারে? বা এই রোগটা আবার কি কি কারণে ব্যাক করতে পারে"?
–রাগ, ডিপ্রেশন, অতৃপ্ত যৌন জীবন। অনেক কারনেই নেক্রোফিলিয়া হয়ে থাকে। আবার এই ধরণের মানুষদের ভয়ংকর পরিমাণ রাগ থাকে।
যাদের উপর তাদের রাগ হয়, তারা ওই মানুষটার সাথে নোংরামি না করা পর্যন্ত শান্তি পায়না। হতে পারে এরকম কোনো মানুষকে দেখলে নেক্রোফিলিয়া আবার এট্যাক করতে পারে"।
–ধন্যবাদ ডাক্রার। আমি আপনাকে পরে কল দিয়ে সব বিস্তারিত বলছি"।
–ওকে"।
.
ডাক্তার ক্লিনটনের সাথে কথা বলার পর আমার কাছে পুরো বিষয়টা একদম পরিষ্কার হয়ে গেলো। হসপিটালের সিসিটিভি বন্ধ হওয়া।
নার্স শারমিনের খুন। সব এখন পরিষ্কার।
.
ডাক্তার শামীমকে ধরে থানায় নিয়ে আসলাম। আমার সামনে বসে আছেন ডাক্তার শামীম। নিঃশব্দ।
হয়তো ধারণা করতে পেরেছেন উনার সব খেলা আমি ধরে ফেলেছি।
ডাক্তার শামীম ঢোক গিলে বললেন,
–আমাকে এখানে নিয়ে আসলেন কেনো মেহরাব স্যার? খুনি কি ধরা পড়েছে"?
আমি খিক খিক করে হেসে উঠলাম।
বললাম,
–অভিনয়টা বেশ ভালোই পারেন।
হ্যা খুনি ধরা পড়েছে। উনি আমার সামনেই বসে আছে"।
কথাটা শুনে মুহুর্তেই ডাক্তার শামীমের চেহারাটা ভীত হয়ে গেলো।
আমার দিকে তাকিয়ে আবারো ঢোক গিললেন। কাঁপা কন্ঠে বললেন,
– মানে? কি বলছেন এসব"?
আমি মায়ার কলেজের গ্রুপ ফটোটা ডাক্তার শামীমের সামনে রাখলাম। বললাম,
–আপনার কলেজ লাইফ থেকে শুরু করে প্যারিস হসপিটালের ডাক্তার ক্লিনটন পর্যন্ত সবকিছু আমি জেনে গেছি। বাঁচার কোনো রাস্তা নেই।
আপনাকে ভালো একটা পরামর্শ দেই, দোষ এখানেই স্বীকার করে নিন। অন্যথায় রিমান্ডে নিয়ে গেলে বুঝতেই তো পারছেন"।
ডাক্তার শামীম মাথা নিচু করে বসে রইলেন। কোনো কথা বলছেন না।
একদম চুপচাপ।
মিনিট'খানেক পর আমি আবার বললাম,
–দোষ কি স্বীকার করবেন"?
ডাক্তার শামীম চিল্লায়া উঠলেন,
–হ্যায়ায়ায়া আমি খুন করেছি ওদের।
আমিইই খুন করেছি।
ওইদিন যখন মায়াকে হসপিটালে দেখলাম, আমি জানিনা আমার মাথায় কি হলো। প্রচন্ড যন্ত্রণা হচ্ছিলো মাথার ভিতর। আমার মুহুর্তেই সেই আগের দিনগুলো মনে পড়ে গেলো।
অনেক বেশি ভালোবাসতাম এই মায়াকে। সবার সামনে বলেছিলাম আমার ভালোবাসার কথা।
কিন্তু ও কি করলো? আমাকে সবার সামনে থাপ্পড় মারলো।
বাদ দিলাম এসব। ভাবলাম ভালো একটা ক্যারিয়ার হওয়ার পর বিয়ের প্রস্তাব দিলে হয়তো মেনে যাবে।
আমি পড়াশুনায় মন দিলাম।
কিন্তু মায়া কি করলো? ও অন্য একটা ছেলেকে বিয়ে করে নিলো।
বিয়ের রাতেও আমি ওর বাসায় যাই।
সবার সামনে কান্নাকাটি করে বলি যাতে আমাকে বিয়ে করে নেয়। আমি ওকে অনেক বেশি ভালোবাসি।
মায়া কি করলো জানেন?
সবার সামনে আমাকে আবারো থাপ্পড় মারলো। শুধু এটাই না, আমার মুখে থুউ দিয়ে বললো "তোর মতো সাইকো'কে কে বিয়ে করবে"?
ওইদিন মায়াকে হসপিটালে দেখার পর আমি জানিনা আমার কি হয়েছিলো।
আমি শান্তি পাচ্ছিলাম না।
রাত সাড়ে ১২টায় আমি হসপিটালের সমস্ত সিসিটিভি অফ করি।
মায়ার কেভিনে যাই।
দেখি মায়া এবং সামিয়া একুটা বেডে ঘুমাচ্ছে। রাজু অন্য বেডে।
আমি রাজুকে ঘুমের মধ্যেই অজ্ঞান করি।
তারপর মায়ার উপর আমার সমস্ত রাগ শেষ করি। ওর মেয়েটাকে আমার খুন করার কোনো ইচ্ছা ছিলোনা।
কিন্তু মায়াকে খুন করার সময় সামিয়া জেগে যায়৷ আমাকে দেখে ফেলে।
বেড থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করে। তারপর আমি সামিয়াকেও খুন করে দেই।
আমি খেয়াল-ই করিনি জানালাটা খুলা ছিলো। ওদের খুন করার সময় নার্স শারমিন আমাকে দেখে নেয়।
আমি শারমিনকে অনেক টাকা দিয়ে আমার প্ল্যানে সামিল করি।
যে ছুরি দিয়ে আমি খুন করি, সেটা রাজুর হাতে ধরিয়ে দেই।
শারমিনকে বলি ও যেনো দরজার কাছেই দাঁড়িয়ে থাকে। রাজুর জ্ঞান ফিরলে সাথেসাথে যেনো চিৎকার দেয়। সবকিছু ঠিক ছিলো।
কিন্তু এই শালির অল্পতে পেট ভরেনা। আমার কাছে অনেকগুলো টাকা চেয়ে বসলো। আমি বুঝতে পেরেছিলাম যদি শারমিন বেঁচে থাকে, তাহলে আমাকে আজীবন ব্ল্যাকমেইল করবে। তাই আমি শারমিনকেও খুন করে দিলাম।
আর লাশ দেখলে আমি জানিনা আমার কি'হয়। আমি মাথা ঠিক রাখতে পারিনা"।
.
ডাক্তার শামিমের কথা শুনে উনার দিকে বড়বড় চোখে তাকিয়ে রইলাম।
এখনো রাগে ফুসফুস করছেন।
মোটেও অনুতপ্ত নন।
আমি বললাম,
–শারমিন আপনাকে আজীবন ব্ল্যাকমেইল করতো কি'না জানিনা। তবে আমি এটা জানি, আপনাকে আজীবন এখন এই কারাগারেই থাকতে হবে।
কন্সটেবল আসিফকে ডাক দিয়ে বললাম,
"রাজুকে ছেড়ে দাও। আর ডাক্তার শামীমকে জ্বেলের ভিতর নিয়ে যাও"।
"ঠিক আছে স্যার"।
.
বড় একটা নিশ্বাস নিলাম।
চোখ বন্ধ করে চেয়ারে বসে আছি।
এই দুনিয়াটা কতোটা অদ্ভুত।
কতো রকমের মানুষ আছে আমাদের চারপাশে। চোখ বন্ধ করে এসব ভাবছি ঠিক এমন সময় আমার মোবাইলটা বেঁজে উঠলো। আমার স্ত্রী মিহির কল।
ধরলাম। মিহি বলল,
–সারাদিন আসামীদের সাথে থাকতে থাকতে তোমার 'মন' বলে কিছু রয়েছে মেহরাব? আচ্ছা সত্যি করে বলো'তো, মিহি নামে তোমার যে একটা বউ আছে, এটা কি তোমার মনে আছে"?
আমি ফিক করে একটা হাসি দিয়ে বললাম,
" তুমি আমার এমন'ই একজন,
যাকে আজীবন চাইলেও ভুলতে পারবেনা এই মন"।
মিহি অনেক জোরে হেসে উঠলো।
আনন্দের হাসি।
কি ভয়ানক এই সুন্দর হাসি।
ঠিক এই মুহুর্তে আমার মনের ভিতরেও অদ্ভুত এক আনন্দ কাজ করছে। এটা মিহির হাসি শুনে, না'কি বড় একটা কেস সমাধান করে, আমি জানিনা।
উহহু! এক জীবনে সবকিছু জানতে হয়না। জীবনটা এভাবেই চলুক। চলতেই থাকুক...

সমাপ্ত
~ মেহরাব নয়ন

মেহরাব নয়নের রহস্য গল্প - "ইন্দ্রিয় লালসা-৩"

ইন্দ্রিয় লালসা-- পার্ট- ৩

মুন্নার সাথে কথা শেষ করে নেক্রোফিলিয়া সম্পর্কে আরেকটু ঘাটাঘাটি করলাম। যেটা দেখলাম তা দেখে আমার হৃদপিণ্ডের কম্পনটা আরো বেড়ে গেলো।
'নেক্রোফিলিয়া', যেটাকে বলা হয় পৃথিবীর সবচাইতে ভয়ংকর মানসিক রোগ। পৃথিবীর সবচাইতে কুখ্যাত সিরিয়াল কিলার কে জানেন?
আমেরিকার "টম বান্ডি"।
যে কি'না এই নেক্রোফিলিয়া'তেই আক্রান্ত ছিলো। শুধুমাত্র তার নিজের বয়ান অনুযায়ী ৩০জন মানুষকে সে খুন করে শারীরিক সম্পর্ক করেছে।
কিন্তু আসল সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি।
আমার বুকটা ধুক ধুক করছে।
বাংলাদেশে এমন পৈশাচিক রোগ?
বাংলাদেশে এমন সিরিয়াল কিলার?
কে?
আরিফ সাহেব?
না'কি ওই দুইজন মানুষের মধ্যে কেউ, যারা দেখা করতে এসেছিলো মায়া হকের সাথে।
না'কি রাজু নিজেই"?
উত্তরটা আমাকে জানতেই হবে।
.

নেক্রোফিলিয়ার ইতিহাস সম্পর্কে আরেকটু জানার আগ্রহ বাড়লো।
আমি ফ্রান্সের " ভিক্টর আর্ডিসন" এর ঘটনা পড়লাম। এই মানুষটা খুন করেছে মাত্র ১টা। তাও আবার তার স্ত্রী'কে।
কিন্তু প্রায় ১০০টা লাশের সাথে সে শারীরিক সম্পর্ক করেছে।
শুধু তাইনা, লাশের মাথা কেটে এনে সে তার নিজের কাছে রাখতো।
কাটা মাথায় লিখতো 'আমার বউ'।
কাটা মাথাটা'কে সে নিজের বউ ভেবে গল্প করতো। কথা বলতো।
কিন্তু যখন লাশের মাথাগুলো কোনো উত্তর দিতোনা, সে রাগ করে কাটা মাথাগুলো আরো বিভৎস করে দিতো।
কতোটা ভয়ংকর ভাবা যায়?
পরে 'ভিক্টর আর্ডিসন'কে আজীবনের জন্য মানসিক হসপিটালে পাঠানো হয়।
.
এসব জানার পর আমার শরীরটা ঝিনঝিন করে উঠলো।
মুহুর্তেই মনে হলো শরীরে কোনো শক্তি পাচ্ছিনা। দূর থেকে একবার রাজুর দিকে তাকালাম। ভয় লাগছে।
এই রোগ হলে নিজের মা'কে এভাবে খুন করাটাও অসম্ভব না।
কিন্তু পরক্ষণেই আমার মনে হলো, এই ধরনের রোগী'তো খুন করার পর লাশের কিছু জিনিস স্মৃতি হিসাবে সাথে করে নিয়ে যায়। মায়া হকের চুড়ি, চেইন, এগুলোও নিয়ে গেছে।
কিন্তু আমরা রাজুর কাছে এসব কিছুই পাইনি। হসপিটালের কেভিনেও কিছু খুঁজে পাইনি। তারমানে রাজু খুনি হতে পারেনা। আমি তাড়াতাড়ি হসপিটাল থেকে নিয়ে আসা সিসিটিভি ফুটেজ'গুলো নিয়ে রাজুর কাছে গেলাম। রাজুকে পুরো ভিডিও দেখালাম। বললাম,
–ভালো করে দেখো, শেষে যে দুইজন মানুষ তোমার আম্মুর সাথে দেখা করতে এসেছেন উনাদের চিনতে পারো কি'না"?
রাজু ফুটেজগুলো দেখে বললো,
–মেহরাব স্যার, রাত সাড়ে ১০টায় যে মানুষটা এসেছিলেন, উনি আমাদের আগের ভাড়াটিয়া। উসমান সাহেব।
আমার নানা আম্মুর নামে দুইটা ফ্ল্যাট সহ কয়েকটা জমি রেখে যান। একটা ফ্ল্যাটে এই উসমান সাহেব ভাড়া থাকতেন"।
–থাকতেন মানে? এখন আর থাকেন না"?
–না স্যার। বছর'খানেক আগেই উনাকে আম্মু ফ্ল্যাট থেকে বের করে দেন।
আসলে উনি আম্মুর দিকে খারাপ নজরে তাকাতেন। একদিন আম্মুকে খারাপ প্রস্তাব দেওয়ায় আম্মু রাগ করে উনাদের বের করে দেন। উসমান সাহেবের স্ত্রী কথাটা শুনে উসমান সাহেবকে ডিভোর্স দিয়ে চলে যান।
এতোদিন পর উসমান সাহেব আম্মুর সাথে দেখা করতে আসলেন কেনো বুঝতে পারছিনা"।
–হতে পারে সেই প্রতিশোধ নিতে।
বাদ দাও এসব। অন্যজন কে"?
–স্যার রাত সাড়ে ১১টায় যিনি এসেছেন উনি করিম চাচা।
আমাদের বাসায় আগে কাজ করতেন।
কয়েক'মাস আগে কাজ ছেড়ে গ্রামে চলে যান। কেনো কাজ ছেড়ে চলে গেলেন সেটা আমি জানিনা। কিন্তু উনি আম্মুর সাথে হসপিটালে দেখা কর‍তে আসলেন কেনো"?
'দেখা করতে আসলেন কেনো'?
রাজুর এই প্রশ্নটার ভিতরেই হয়তো সব রহস্য লুকিয়ে আছে।
উসমান সাহেব এবং করিম, এই দু'জনের সাথে খুনটার কিছু তো কানেকশন আছে নিশ্চিত।
আমি রাজুকে বললাম,
–উনারা কেনো আসলেন এটার খোঁজ আমি নিয়ে নিবো। তুমি চিন্তা করিওনা"।
.
রাজুর সাথে কথা শেষ করে চলে আসছি ঠিক এমন সময় রাজু পিছন থেকে ডাক দিলো,
–মেহরাব স্যার একটা কথা বলি"?
–হ্যা বলো"।
–স্যার উনারা দুইজন কেনো আসলেন এটা তো আমি জানিনা। কিন্তু আমি নিশ্চিত উনারা দুইজন এই খুনের সাথে জড়িত নয়। আমার সন্দেহ আরিফ সাহেবের উপর। আপনি আরিফ সাহেবকে কেনো ধরছেন না? উনার স্ত্রী মেয়ে খুন হলো অথচ তার কোনো খবর নেই? উনি লাপাত্তা কেনো? খোঁজ নিন স্যার, এই মানুষটাই আমার আম্মুকে খুন করেছে"।
আমি রাজুর কথার কোনো উত্তর দিলাম না। আসলেই তো! খুনের রাত থেকে একের পর এক আরিফ সাহেবকে কল দেওয়া হচ্ছে। নাম্বার সুইচ অফ!
গেলেন কোথায় উনি?
উসমান এবং করিমের বিষয়টা পরে দেখা যাবে। আগে আরিফ সাহেবকে খুঁজে বের করাটা জরুরী।
.
.
অনেক চেষ্টার পর আরিফ সাহেবকে খুঁজে পেলাম কক্সবাজারে।
উনি একা নয়, সাথে একজন নারী।
জিজ্ঞাস করার পর জানতে পারলাম মেয়েটার নাম নিশি। আরিফ সাহেবের গার্লফ্রেন্ড। নিশিকে বললাম,
–তুমি জানতেনা আরিফ সাহেব বিবাহিত? উনার একটা মেয়ে আছে"।
নিশি বললো,
– স্যার, ভালোবেসে ফেলেছি আরিফেকে। তাছাড়া আরিফ আমাকে বলছে খুব তাড়াতাড়ি ওদেরকে সরিয়ে আমাকে বিয়ে করবে। গতকাল রাতেও বলছিলো 'আমরা খুব তাড়াতাড়ি বিয়ে করবো। ঝামেলা শেষ হয়ে যাবে'।
আমি জানি স্যার ওই মহিলার সাথে আরিফ সুখী নয়। আরিফ আমাকে ভালোবাসে। আমিও আরিফকে ভালোবাসি। কিন্তু আপনি এখানে আসলেন কেনো? আরিফ কিছু করেছে"?
আমি নিশির কথার কোনো উত্তর দিলাম না। এই মেয়েটার সাথে এই কেসের কোনো সম্পর্ক নেই। কিছু না বলেই ওইখান থেকে আরিফকে ধরে থানায় নিয়ে আসলাম।
.
.
আমার সামনে মাথা নিচু করে চুপচাপ বসে আছেন আরিফ সাহেব। নিঃশব্দ।
এমন একটা ভাব নিচ্ছেন যেনো উনি কিছুই জানেন না।
আমি বললাম,
–এইখানে আপনার স্ত্রী আর মেয়ে খুন হয়ে গেলো, আর আপনি কক্সবাজারে নষ্টামি করছেন? লজ্জা লাগেনা"?
আরিফ সাহেব বড়বড় চোখে আমার দিকে তাকালেন। মনে হলো প্রচন্ড শকড খেয়েছেন। অবাক কন্ঠে আমাকে জিজ্ঞাস করলেন,
–মানে? কি বলছেন এসব"?
–যা শুনলেন সেটাই বললাম। আপনি যেদিন রাতে উনাদের সাথে হাসপাতালে দেখা করেন, ওইদিন রাতেই মায়া হক এবং আপনার মেয়ে সামিয়া খুন হয়।
এখন আমাকে এটা বলুন, ওইদিন রাত থেকেই আপনি লাপাত্তা কেনো?
আপনার নাম্বার সুইচ অফ কেনো"?
আরিফ সাহেব কথাটা শুনামাত্র'ই চেয়ার থেকে দাঁড়িয়ে গেলেন। উনার চোখগুলো মুহুর্তেই টলমল করতে শুরু করলো। আমাকে বললেন,
–আমার মেয়ে মারা গেছে"?
–কি অদ্ভুত আরিফ সাহেব। আপনার স্ত্রী'ও কিন্তু খুন হয়েছেন। উনার কথা কিছু জিজ্ঞাস না করে মেয়ের মারা যাওয়ার খবর শুনে অবাক হলেন?
বাদ দিন এসব। আমাকে এটা বলুন ওইরাতে আপনি হসপিটালে এসেই চলে গেলেন কেনো? সেই সাথে ওই রাত থেকেই আপনার নাম্বার সুইচ অফ কেনো?
কোথাও এরকম নয়'তো আপনিই ওদের খুন করেছেন।
আপনি'ই নেক্রোফিলিয়াতে আক্রান্ত"।
আমার কথাটা শুনে আরিফ সাহেব রেগে গিয়ে চিল্লায়া উঠলেন,
–কি সব আজেবাজে কথা বলছেন।
নেক্রোফিলিয়া কি? আর আমি কেনোই বা আমার স্ত্রী মেয়েকে খুন করতে যাবো? রাতে আমি হাসপাতালে থাকিনি কারণ সামিয়ার অসুখটা ততোটা বড় ছিলোনা। সামান্য ব্যাথা ছিলো বুকে।
আর তাছাড়া আমার গার্লফ্রেন্ড নিশির সাথে ওই রাতেই আমার কক্সবাজার আসার প্ল্যান ছিলো। কক্সবাজার আসার পথে আমার মোবাইলটা চুরি হয়ে যায়।
এজন্য আমার নাম্বারটা সুইচ অফ ছিলো।
এখানে এতকিছু হয়ে গেছে আমি'তো এসব জানতাম'ই না। তাছাড়া হাসপাতালে তো আমার স্ত্রী আর মেয়ের সাথে রাজু ছিলো। এই রাজুই হয়তো আমার স্ত্রী আর মেয়েকে খুন করেছে"।
–উহহু! রাজু কিছু করেনি এটা নিশ্চিত।
খুনটা আপনিই করেছেন। আর আপনার স্ত্রী'কে খুন করার জন্য আপনার কাছে অনেকগুলো কারণ আছে। আপনি চাচ্ছিলেন নিশি মানে আপনার প্রেমিকাকে বিয়ে করতে।
এবং তাকে বলেও ছিলেন 'খুব তাড়াতাড়ি সব ঝামেলা দূর করে তাকে বিয়ে করবেন'। আপনি সেটাই করলেন। এমনিতে চাইলেই মায়া হককে ডিভোর্স দিয়ে আপনার প্রেমিকা'কে বিয়ে করতে পারতেন। কিন্তু এরকম হলে মায়া হকের দুইটা ফ্ল্যাট, সাথে কয়েক কোটি টাকার জমি আপনার হাতছাড়া হয়ে যেতো।
আর লাশ দেখলে তো আপনার মাথা ঠিক থাকেনা। তাই খুন করার পর লাশের সাথে এই নোংরামি করলেন।
কিন্তু এটা বুঝতে পারছিনা আপনার মেয়েকে খুন করলেন কেনো"?
আমার কথাগুলো শুনে আরিফ সাহেব কিছু বলছেন না। রাগে ফুসফুস করছেন। মনে হচ্ছে এখন ই কাউকে খুন করে দিবেন।
আমি আবার বললাম,
– রাগ না দেখিয়ে যেটা সত্যি স্বীকার করে নিন আরিফ সাহেব"।
আরিফ সাহেব প্রচন্ড জোরে চিল্লায়া উঠলেন,
–কি স্বীকার করবো আমিইই?
কি বলবো? আমি বলছিনা আমি খুন করিনি আমার স্ত্রী আর মেয়েকে।
আমি ওই রাতেই কক্সবাজার যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেই। এবং সকাল হওয়ার আগেই কক্সবাজার পৌছে যাই।
আমি সারারাত রাস্তায় ছিলাম।
আপনি চাইলে আমি হাজারটা প্রমাণ দিতে পারবো। আর কি বললেন, লাশের সাথে কি? কি'রকম নোংরামি? আমার মেয়ের লাশের সাথে কে কি করেছে?
বলুন আমাকে"?
.

আরিফ সাহেব চিল্লাচ্ছেন। উনার চেহারা দেখে স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে এই বিষয়ে উনার কোনো ধারণাই নেই। এটার মানে হচ্ছে আরিফ সাহেব খুনটা করেন নি।
কিন্তু আরিফ সাহেব খুনটা না করলে আর কে করবে?
এসব ভাবছি ঠিক এমন সময় আমার ফোনটা বেঁজে উঠলো। ডাক্তার শামীমের কল। ধরলাম। ডাক্তার শামীম বললেন,
–মেহরাব স্যার, এইমাত্র নার্স শারমিনের বাসা থেকে আমার কাছে কল এসেছে। কেউ শারমিনকে খুন করে ফেলেছে স্যার। নার্স শারমিন সেই মেয়ে, যে রাজুকে ছুরি হাতে দেখে সবার আগে চিৎকার করেছিলো।
আমার ভীষণ ভয় লাগছে স্যার।
আপনি প্লিজ ওদের বাসায় আসুন।
আমরাও ওইখানে যাচ্ছি"।
.
ডাক্তার শামীমের কথা শুনে হতভম্ব হয়ে চুপ করে বসে রইলাম।
কি হচ্ছে এসব?
এটা নিশ্চিত যে নার্সের খুনের সাথে এই কেসের গভীর সম্পর্ক। একিই সূত্রে গাঁথা। কিন্তু শারমিনকে খুন করবে কেনো? কে এই সিরিয়াল কিলার?
খুনি যেইহোক আরিফ সাহেব না এটা নিশ্চিত। হতে পারে উসমান বা করিমের মধ্যে কেউ।
সাত পাঁচ ভাবছি ঠিক এমন সময় আমার কাছে আরো একটা কল আসলো।
কন্সটেবল আসিফের কল।
আসিফকে বলেছিলাম উসমান এবং করিম সম্পর্কে খোঁজ নিতে।
কলটা ধরলাম। আসিফ বললো,
–মেহরাব স্যার, আমি ওদের সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে নিয়েছি।
করিম যে মায়া হকের বাসায় কাজ করতো, ও এখন ঢাকায় অন্য একটা বাসায় কাজ করে। কিন্তু স্যার অবাক করা বিষয় হচ্ছে করিমের গ্রাম থেকে খোঁজ নিয়ে জানলাম মাঝেমধ্যেই তাদের গ্রামের কবরস্থান থেকে লাশ চুরি হয়ে যায়।
আর উসমান সাহেব, যিনি মায়া হকের ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন, উনি এখন একলা অন্য একটা ছোট বাসায় ভাড়া থাকেন। উনার স্ত্রী উনার সাথে থাকেন না। কিন্তু উসমান সাহেবকেও মাঝেমধ্যে অনেক লোক রাতে কবরস্থানের দিকে যেতে দেখেন। কেনো কবরস্থানে যান এটা কেউ জানেনা"।
কন্সটেবল আসিফের কথা শুনে আমার বুকের ভিতর ধড়াম করে একটা আওয়াজ হলো। তাহলে কি উসমান বা করিমের মধ্যে কেউ এই ভয়ংকর খুনগুলো করেছে"?
.
.
.
~ মেহরাব নয়ন

মেহরাব নয়নের রহস্য গল্প -" ইন্দ্রিয় লালসা-২"



ইন্দ্রিয় লালসা-- পার্ট- ২
.
অনেকগুলো প্রশ্ন এখন মাথার ভিতর নাড়াচাড়া করছে।
"২জন নারীকেই খুন করলো কেনো?
"একিই রুমে রাজু থাকা সত্বেও রাজুকে খুন করলোনা কেনো"?
"আরিফ সাহেব এসে মেয়ের এই অবস্থা দেখেও হসপিটালে থাকলেন না কেনো"?
" আরিফ সাহেব কি খুনটা করেছেন?
না'কি রাজুর কোনো শত্রু? না'কি অন্যকেউ?
সবচাইতে বড় যে প্রশ্ন,
"কেউ খুন করে লাশের সাথে শারীরিক সম্পর্কে করবে কেনো"?
উত্তর'গুলো আমাকে খুঁজে বের করতেই হবে। আর আমি নিশ্চিত, প্রতিটা প্রশ্নের উত্তর ওই হসপিটালেই পড়ে আছে।
.

থানা থেকে বের হয়ে কন্সটেবল আসিফকে কল দিলাম। ধরলো।
আমি বললাম,
–আসিফ যেভাবেই হোক ফরেনসিক এবং পোস্টমর্টেম রিপোর্ট'টা আমি তাড়াতাড়ি চাই। আর তুমি মায়া হকের স্বামী আরিফ সাহেব সম্পর্কে একটু খোঁজ নাও। আমার মনে হচ্ছে উনার সাথে এই খুনটার ভীষণ গভীর সম্পর্ক।
–ঠিক আছে স্যার। আমি খোঁজ নিচ্ছি"।
আসিফের সাথে কথা শেষ করে রওনা দিলাম। উদ্দেশ্য ওসমানীনগর হসপিটাল।
.
.
হসপিটালে পৌছে ডাক্তার শামীমকে বললাম,
–আপনাদের তো পুরো হসপিটালে সিসিটিভি লাগানো আছে তাইনা? আমি কি ওইরাতের ফুটেজ'গুলো দেখতে পারি"?
–জ্বী স্যার অবশ্যই। আমার সাথে আসুন"।
.

ডাক্তার শামীমের পিছন পিছন একটা রুমে ঢুকলাম। সিসিটিভি রুম।
ফুটেজ'গুলো দেখা শুরু করলাম। আমার নজর শুরুতেই একটা জিনিসে আটকে গেলো।
সন্ধ্যায় যখন মায়া হক তার মেয়ে সামিয়াকে নিয়ে হসপিটালে আসেন, তখন উনার গলায় একটা চেইন ছিলো। হাতে চুড়ি ছিলো। সম্ভবত সোনার। কিন্তু যখন আমরা মায়া হকের লাশ পাই তখন উনার গলা এবং হাত খালি ছিলো। চেইন, চুড়ি, কিছুই ছিলোনা।
তাহলে এগুলো গেলো কোথায়?
খুন কি তাহলে এগুলোর জন্য হয়েছে?
.
চিন্তিত চেহারা নিয়ে ফুটেজ দেখতে থাকলাম।
রাত ৯টায় আরিফ সাহেব আসলেন।
কিছু সময় পর আবার কেভিন থেকে বের হয়ে গেলেন।
.
রাত ১০টায় রাজু কেভিন থেকে বের হলো। তার মায়ের সাথে চিল্লাচিল্লি করে। রাজু কেভিনে ফিরে আসলো রাত ১২টায়।
.
কিন্তু মায়া হকের কেভিনে রাজু বের হওয়ার পর রাত সাড়ে ১০টায় এবং সাড়ে ১১টায় আরো দুইজন মানুষ আসলেন। উনারা কারা?
.
আমি ফুটেজ দেখতে থাকলাম।
হুট করেই রাত সাড়ে ১২টায় সবগুলো ক্যামেরা অফ হয়ে গেলো।
কি অদ্ভুত। কি আশ্চর্য।
ডাক্তার শামীমকে বললাম,
– এটা কি হলো? হুট করে সবগুলো সিসিটিভি অফ হলো কিভাবে"?
ডাক্তার শামীম আমতা আমতা করে বললেন,
– না মানে স্যার, আসলে ক্যামেরা'গুলোতে কিছু একটা প্রবলেম হয়েছিলো হয়তো। রাত অনেক হওয়ায় আমরা তখন আর কিছু করতে পারিনি।
আজকে সকালেই এগুলো ঠিক করিয়ে নেই"।
–আপনার কাছে বিষয়টা অবাক লাগছেনা? মানে যেই রাতে খুন হলো ওইরাতেই সিসি ক্যামেরা নষ্ট হয়ে গেলো"?
.

ডাক্তার শামীম আমার কথার কোনো উত্তর দিলেন না। মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইলেন। আমার মাথায় তখন ৩টা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।
এক, মায়া হকের অলংকার গুলো কোথায়"?
দুই, রাজু কেভিন থেকে বের হওয়ার পর যে দুইজন মানুষ মায়া হকের কেভিনে ঢুকলো তারা কারা"?
তিন, সিসিটিভি হুট করেই অফ হয়ে যাওয়ার কারণ কি"?
প্রশ্নগুলো মাথায় ঘুরঘুর করছে ঠিক এমন সময় আমার মোবাইলের রিংটা বেঁজে উঠলো। আমার স্ত্রী মিহির কল।
কলটা ধরার সাথে সাথে মিহি চিল্লায়া উঠলো-
–মেহরাব কি প্রয়োজন ছিলো আমাকে বিয়ে করার? তোমার কাজের সাথেই বিয়ে করে সংসার করতে। সারাবছর তো কাজ নিয়ে বিজি থাকো, অন্তত আজকে আরশিতার জন্মদিনে ফ্রি থাকা যেতোনা? তুমি থাকো তোমার কাজ নিয়ে। আর কখনো বাসায় আসবেনা বলে দিলাম"।
–মিহি শুনোওও, মিহি~~
মিহি রাগ করে ফোনটা কেটে দিলো। আসলে আমার ই দোষ। থানা আর হসপিটাল দৌড়াদৌড়ি করতে করতে ভুলেই গিয়েছিলাম আজকে আমার একমাত্র মেয়ে আরশিতার জন্মদিন।
ডাক্তার শামীমকে বললাম,
–সিসিটিভি ফুটেজ দেখে এখন অনেকগুলো প্রশ্ন বের হলো। যেই প্রশ্নগুলো স্পষ্ট বলে দিচ্ছে রাজু খুনি না। আমি কি এই ফুটেজটা নিয়ে যেতে পারি"?
–অবশ্যই স্যার, আপনার আরো কোনো হেল্প লাগলে আমাকে বলবেন।
আমরা আপনাকে সব ধরনের হেল্প করবো"।
–জ্বী ধন্যবাদ"।
ফুটেজগুলো নিয়ে আরশিতার জন্য গিফট কিনে বাসায় চলে আসলাম।
আজকের দিনটা আমার মেয়ে আরশিতার জন্য।
.
.
পরেরদিন সকালে টেবিলে বসে নাস্তা করছি ঠিক এমন সময় আমার কাছে একটা কল আসলো। কন্সটেবল আসিফের কল। ধরলাম।
আসিফ বললো,
–মেহরাব স্যার, রিপোর্ট'গুলো মাত্রই হাতে পেলাম। খুন করার অস্ত্রে রাজুর আঙুলের ছাপ ছাড়া অন্য কারো ছাপ পাওয়া যায়নি। এবং খুন করার আগে মায়া হকের সাথে কেউ কোনো জোর করেনি এটাও নিশ্চিত। খুন করার পরেই নোংরামি করা হয়েছে।
আরেকটা ইম্পর্ট্যান্ট কথা স্যার, মায়া হকের গলা, হাত, গাল, এসব কয়েকটা জায়গায় রাজুর ছাপ পাওয়া গেছে। অন্য কারোর না"।
কন্সটেবল আসিফের কথা শুনে কিছু সময় ভ্যাবাচেকা হয়ে চুপ করে বসে রইলাম। নিঃশব্দ।
এটা কিভাবে সম্ভব?
তাহলে কি রাজুই খুনি?
কন্সটেবল আসিফকে বললাম,
–ফাইলটা আমার টেবিলে রাখো, আমি আসছি"।
.

নাস্তা শেষ করে ফুটেজগুলো নিয়ে তাড়াতাড়ি থানায় আসলাম।
রাজুকে দেখলাম দেয়ালের সাথে হেলান দিয়ে বসে আছে। সম্ভবত রাতে ঘুমায়নি। রাজুর সাথে কোনো কথা বললাম না। টেবিলে রাখা পোস্টমর্টেম এবং ফরেনসিক রিপোর্টটা নিজেই একবার চেক করলাম।
সবগুলো প্রমাণ আগে থেকেই রাজুর বিরুদ্ধে ছিলো। এখন আবার এই রিপোর্টগুলো। তাহলে কি রাজু'ই এরকম ভয়ানক'ভাবে খুন করেছে?
ভাবতে পারছিনা।
মাথায় হাত দিয়ে এসব সাত পাঁচ ভাবছি ঠিক এমন সময় আমার মোবাইলের রিংটা বেঁজে উঠলো। দেখলাম আমার বেস্টফ্রেন্ড মুন্নার কল।
সরি, ডাক্তার মুন্না। মুন্না জার্মানির একটা হসপিটালে জব করে।
মাথায় হাজারটা টেনশন নিয়ে মুন্নার কলটা ধরতে ইচ্ছা করলোনা।
রিং হতে হতে ফোনটা কেটে গেলো।
মিনিট খানেক পর আবারো মুন্নার কল।
এবার ধরলাম।
–হ্যা মুন্না বল"।
–কি ব্যাপার মেহরাব? কল ধরেই হাই হ্যালো ছাড়া এমন কন্ঠ। কিছু হইছে"?
–আরে তেমন কিছুনা। বল তুই"।
–মেহরাব আমি তোকে ছোট থেকেই চিনি। ঢং না করে বল কি হইছে"?
–আরে দোস্ত একটা ভয়ংকর কেস।
একটা মহিলার লাশের সাথে শারীরিক সম্পর্ক করা হয়েছে। সবগুলো প্রমাণ বলছে মহিলার ছেলেটাই দোষী। কিন্তু আমার কাছে সেটা মনে হচ্ছেনা। এটা নিয়েই টেনশন করছি"।
আমার কথাটা শুনে মুন্না কিছু সময় চুপ করে রইলো। খানিকক্ষণ পর তোতলাতে তোতলাতে বললো,
–কি বললি তুই"?
–বললাম একটা মহিলাকে খুন করে লাশের সাথে শারীরিক সম্পর্ক করা হয়েছে। এবং সেই অপরাধের সব প্রমাণ তার ছেলের বিরুদ্ধে। আমার কথা শুনতে পাচ্ছিস না"?
মুন্না আবারো চুপচাপ। নিঃশব্দ।
ওপাশ থেকে আমি কোনো আওয়াজ পাচ্ছিনা। এবার খানিকটা বিরক্ত হয়ে বললাম, 
–কথা বলতে না পারলে ফোন রাখ"।
মুন্না ভয়ার্ত কন্ঠে ছোট করে বললো,
– নেক্রোফিলিয়া"।
– পাগলের মতো কি'সব ভাষা ইউজ করছিস? নেক্রোফিলিয়া কি"?
– এটা একটা মানসিক রোগ মেহরাব।
এই টাইপের ভয়ংকর মানুষগুলো লাশের সাথে শারীরিক সম্পর্ক করে।
শুধু তাইনা, যাদের সাথে শারীরিক সম্পর্ক করে তাদের শরীর থেকে কিছু একটা নিয়ে নিজের কাছে স্মৃতি হিসাবে রেখে দেয়"।
মুন্নার কথাটা শুনে বুকটা ধড়ফড় করতে শুরু করলো। লাশের সাথে শারীরিক সম্পর্ক? এই ধরনের ও মানসিক রোগ হয়? কাঁপা কন্ঠে বললাম,
– শরীর থেকে কিছু একটা নিয়ে নিজের কাছে রেখে দেয় এটার মানে কি"?
– মানে শরীরের যেকোনো অঙ্গ। হতে পারে হাত অথবা হাতের আঙুল, কান, পা, এসব কিছুই। আবার এটাও হতে পারে লাশের পড়নের কাপড়, হাতের চুড়ি, আংটি, চেইন"।
মুন্নার কথাগুলো শুনে আমার সব প্রশ্নের উত্তর যেনো খোলাসা হওয়া শুরু করলো। মায়া হকের শরীরে চুড়ি এবং চেইন থাকলেও সেটা আমরা পাইনি।
ভাবছিলাম হয়তো কেউ চুরি করেছে।
কিন্তু এখন আমার কাছে সব পরিষ্কার।
আমি বললাম,
–থ্যাংক ইউ দোস্ত। এখন তুই ফোনটা রাখ, আমি তোকে পরে কল দিচ্ছি"।
–ওকে"।
.
.
মুন্নার সাথে কথা শেষ করে নেক্রোফিলিয়া সম্পর্কে আরেকটু ঘাটাঘাটি করলাম। যেটা দেখলাম তা দেখে আমার হৃদপিণ্ডের কম্পনটা আরো বেড়ে গেলো।
'নেক্রোফিলিয়া', যেটাকে বলা হয় পৃথিবীর সবচাইতে ভয়ংনর মানসিক রোগ। পৃথিবীর সবচাইতে কুখ্যাত সিরিয়াল কিলার কে জানেন?
আমেরিকার "টম বান্ডি"।
যে কি'না এই নেক্রোফিলিয়া'তেই আক্রান্ত ছিলো। শুধুমাত্র তার নিজের বয়ান অনুযায়ী ৩০জন মানুষকে সে খুন করে শারীরিক সম্পর্ক করেছে।
কিন্তু আসল সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি।
আমার বুকটা ধুক ধুক করছে।
বাংলাদেশে এমন পৈশাচিক রোগ?
বাংলাদেশে এমন সিরিয়াল কিলার?
কে?
আরিফ সাহেব?
না'কি ওই দুইজন মানুষের মধ্যে কেউ, যারা দেখা করতে এসেছিলো মায়া হকের সাথে।
না'কি রাজু নিজেই"?
উত্তরটা আমাকে জানতেই হবে।


~ মেহরাব নয়ন

মেহরাব নয়নের রহস্য গল্প- "ইন্দ্রিয় লালস-০১"


-হ্যালো মেহরাব স্যার বলছেন"?
–জ্বী, কে বলছেন আপনি"?
–স্যার আমি ওসমানীনগর হসপিটাল থেকে ডাক্তার শামীম বলছি। এখানে দুইটা খুন হয়েছে স্যার। সেটাও আবার একটা ছেলে তার নিজের মা বোনকে খুন করেছে। শুধু তাইনা স্যার, আমরা যখন লাশগুলো দেখি তখন লাশের গায়ে সুতো পরিমাণ ও কোনো কাপড় ছিলোনা। আমাদের মনে হচ্ছে লাশের সাথে শারীরিক সম্পর্ক করা হয়েছে"।
.
ডাক্তার শামীমের শেষ কথাটা শুনে বুকটা ধুক করে উঠলো। লাশের সাথে শারীরিক সম্পর্ক? ভাবা যায়??
প্রচন্ড শকড নিয়ে বললাম,
–পাগল হয়ে গেছেন আপনি? কি বলছেন এসব? একে তো বলছেন ছেলে খুন করেছে তার নিজের মা বোনকে। তার উপর আবার বলছেন লাশের সাথে যৌন সম্পর্ক করা হয়েছে।
কি বলছেন বুঝতে পারছেন"?
–স্যার আমি এমনি এমনি কিছু বলছিনা। আপনি প্লিজ তাড়াতাড়ি আসুন। এখানে আসলে সব বুঝতে পারবেন"।
কথাটা বলে ডাক্তার শামীম কলটা কেটে দিলেন। আমি মোবাইলের দিকে বড়বড় চোখে কিছু সময় তাকিয়ে রইলাম।
এটা কিভাবে সম্ভব?
ছেলে তার নিজের মা বোনকে খুন করেছে এটা বিশ্বাসযোগ্য। এমন অনেক হচ্ছে।
কিন্তু লাশের সাথে শারীরিক সম্পর্ক?
ভাবতেই আমার শরীরটা শিউরে উঠছে।
.
কন্সটেবল আসিফকে নিয়ে হসপিটাল পৌছালাম। হসপিটালের প্রত্যেকটা মানুষ এই ঘটনা নিয়ে কানাকানি করছে।
কেউ বলছে 'এটা কোনো জ্বীনের কাজ'। আবার কেউ কেউ বলছে নিজের ছেলেই প্রথমে রেপ করেছে, তারপর খুন। আমাকে দেখামাত্র একজন ডাক্তার এসে বললেন,
"স্যার আমি ডাক্তার শামীম। আমিই আপনাকে কল করেছিলাম। চলুন আপনাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাই"।
.

ডাক্তার শামীমের পিছন পিছন হেঁটে একটা কেভিনে ঢুকলাম।
দুইটা লাশ। একটা বেডে, অন্যটা ফ্লোরে পড়ে আছে। গলা কেটে খুন করা হয়েছে দুজন'কেই।
রুমের এক কোণায় বসে মাথা নিচু করে কান্না করছে একটা ছেলে।
আমি বললাম,
–ছেলেটা কে"?
ডাক্তার শামীম খানিকটা রেগে বললেন,
–মেহরাব স্যার, এই ছেলেটা এখন কান্নার অভিনয় করছে। আপনি একদম ওর কান্নায় গলবেন না। এই ছেলেটাই খুনি। ছেলেটার নাম রাজু।
যে দুইজন মারা গেছেন একজনের নাম মায়া হক। ছেলেটার মা।
অন্যজন সামিয়া। ছেলেটার বোন"।
–তো ছেলেটাই যে খুন করেছে এটার প্রমাণ কি? আর লাশের সাথে শারীরিক সম্পর্ক করা হয়েছে এটাই বা কিভাবে বুঝলেন"?
–স্যার গতকাল রাতে এই ছেলেটার সাথে তার মায়ের কিছু একটা নিয়ে অনেক ঝগড়া হয়। অনেক চিল্লাচিল্লি করছিলেন ওর মা। হসপিটালের অনেকেই শুনেছে তাদের এই চিল্লাচিল্লি।
তারপর শেষরাতে কি হয়েছে এটা তো স্যার আমরা জানিনা। কিন্তু আজকে সকালে একজন নার্স ওদের কেভিনে আসা মাত্রই চিৎকার করে উঠে।
আমরা সবাই চিৎকার শুনে কেভিনে আসি। এসে দেখি এই ছেলেটা তার মায়ের লাশের কাছে দাঁড়িয়ে আছে।
হাতে একটা রক্তাক্ত ছুরি।
ওর মায়ের গলা তখন রক্তে লাল।
শরীরে কোনো কাপড় নেই।
আমি তাড়াতাড়ি লাশটার কাছে যাই।
দেখেই বুঝা যাচ্ছিলো শারীরিক সম্পর্ক করা হয়েছে। ফ্লোরে আরেকটা লাশ পড়া ছিলো। সামিয়ার লাশ। ছেলেটার বোন।
কিন্তু সামিয়ার শরীরে কাপড় ছিলো।
এই রুমে ওরা ৩জন ই ছিলো স্যার।
মা, মেয়ে এবং ছেলে।
মা মেয়ে খুন হয়েছে।
শুধুমাত্র বেঁচে আছে এই ছেলে।
আমরা সবাই নিজের চোখে দেখেছি রক্তাক্ত ছুরি হাতে এই ছেলেকে লাশের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে।
এখন আপনিই বলুন স্যার, খুনটা রাজু ছাড়া আর কে করবে? আর বাকি রইলো মায়া হক মানে ছেলটার মায়ের লাশের সাথে শারীরিক সম্পর্কের কথা, এটা তো স্যার আমরা পরিক্ষা করলেই নিশ্চিত হয়ে যাবো। যদি আপনি পারমিশন দেন"।
.

আমি ডাক্তার শামীমকে কিছু বললাম না। লাশগুলোর দিকে ভয়ার্ত চোখে তাকিয়ে আছি।
এখানে সবচাইতে ইম্পর্ট্যান্ট বিষয়টা হচ্ছে, মায়া হকের লাশে কোনো কাপড় ছিলোনা। আবার সামিয়া নামের মেয়েটার শরীরে কাপড় আছে।
অথচ দুজনকে একিই'ভাবে গলা কেটে খুন করা হয়েছে। কি অদ্ভুত।
এটার মানে হচ্ছে মায়া হকের লাশের সাথে কিছু একটা করা হয়েছে, যেটা সামিয়া নামের মেয়েটার সাথে করা হয়নি।
আচ্ছা প্রথমে রেপ করে তারপর খুন নয়তো? না'কি খুনের পর লাশের সাথে শারীরিক সম্পর্ক?
কিছু ভাবতে পারছিনা। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পেলেই সবকিছু ক্লিয়ার হয়ে যাবে।
লাশগুলোর দিকে তাকিয়ে এসব কথা ভাবছি ঠিক এমন সময়  ফ্লোরে বসে থাকা রাজু কাঁদতে কাঁদতে বললো,
"স্যার আমি মারিনি আমার মা বোনকে। আমি কিচ্ছু করিনি স্যার"।
এই প্রথম আমি ছেলেটার দিকে ভালোভাবে তাকালাম।
কোথাও যেনো দেখেছি ছেলেটাকে।
মস্তিষ্কে একটু চাপ দিয়ে চিন্তা করতেই মনে পড়লো, ওইদিন রাস্তায় একজন বৃদ্ধ মহিলাকে নিজ হাতে খাইয়ে দিচ্ছিলো ছেলেটা।
স্বাভাবিক ভাবেই ঘটনাটা আমার নজরে পড়লো। আজকের যুগে রাস্তার মানুষদের জন্য এইটুকুন ই বা কে করে?
কোনো বড় মনের মানুষ ছাড়া এই ধরনের কাজ অন্য কেউ করবেনা।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এই ছেলেটাই এখন এতো জঘন্য পাপ করবে?
কিছু গন্ডগোল লাগছে।
কিছু একটা কাহিনী আছে আমি নিশ্চিত।
কিন্তু আপাতত সব প্রমাণ যেহেতু রাজুর বিরুদ্ধে, তাই বাধ্য হয়েই রাজুকে ধরে থানায় নিয়ে আসতে হবে।
কন্সটেবল আসিফকে বললাম,
–লাশগুলো পোস্টমর্টেম করার ব্যাবস্থা করো। সাথে খুনের অস্ত্র এবং লাশের উপর কার আঙুলের ছাপ পাওয়া যায় এটাও ফরেনসিক ল্যাব থেকে টেস্ট করাও। খুনি যেইহোক, শাস্তি তাকে পেতেই হবে"।
–ঠিক আছে স্যার"।
.

আমি রাজুকে ধরে থানায় নিয়ে আসলাম। পুরোটা রাস্তা ছেলেটা কাঁদতে কাঁদতে বলছিলো,
"স্যার আমি খুন করিনি। আমি খুনি না"।
কেনো জানিনা আমার মনটাও বলছিলো এখানে কাহিনীটা অন্য কিছু।
কিন্তু একটা রুমে ৩টা মানুষ।
দু'জন খুন। একজন বেঁচে আছে।
তাও আবার সেই একজনকে রক্তাক্ত ছুরি হাতে লাশের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছেন অনেকে।
হিসাবটা মিলাতে পারছিনা।
সবচাইতে ইম্পর্ট্যান্ট যে কথাটা, শরীরের চাহিদা মিটানোর জন্য মানুষের অনেক উপায় থাকতে কেউ লাশের সাথে শারীরিক সম্পর্ক করতে যাবে কেনো?
এটা কেমন মানসিকতা? এ কেমন নোংরামি?
.
রুলস অনুযায়ী আসামীর সবকিছু জমা রেখে তারপর জ্বেলে নেওয়া হয়।
রাজুর সবকিছু জমা রাখলাম।
কিন্তু রাজু কান্না করতে করতে বললো,
–স্যার আমার মানিব্যাগটা আমাকে নিতে দিন। আমার মায়ের ছবি আছে এই মানিব্যাগে"।
কথাটা শুনে আমি ড্যাবড্যাব করে রাজুর দিকে তাকিয়ে রইলাম। একটা ছেলে তার মা'কে কতোটা ভালোবাসলে তার ছবি সবসময় সাথে রাখে?
এই ছেলেই কি'না তার মা বোনকে জঘন্যভাবে খুন করে নোংরামি করবে? অসম্ভব!
আমি বললাম,
–সত্যি করে বলো'তো ঠিক কি হয়েছিলো ওই রাতে"?
রাজু চোখটা মুছতে মুছতে বললো,
–সন্ধ্যায় হুট করেই আমার বোন সামিয়ার বুকে ব্যাথা শুরু হয় স্যার। ব্যাথায় কাতরাচ্ছিলো সামিয়া।
আমরা তাড়াতাড়ি সামিয়াকে হসপিটালে নিয়ে যাই।
তখন সন্ধ্যা ৭টা।
ডাক্তার শামীম সামিয়াকে একটা ইনজেকশন দেন, এবং বলেন দুইদিন হসপিটালেই থাকার জন্য। সামিয়ার কিছু টেস্ট করানো লাগবে। আমরাও থেকে যাই। রাত ৯টায় সামিয়ার বাবা আরিফ সাহেব আসেন~~~~
রাজু কথা শেষ করবার আগেই আমি রাজুকে থামালাম। বললাম,
–সামিয়ার বাবা মানে"?
–মেহরাব স্যার, আমার যখন ৪বছর বয়স তখন আমার আব্বু মারা যান। আম্মু দ্বিতীয় বিয়ে করেন। সামিয়া আমার নিজের বোন না।
আরিফ সাহেব এসে সামিয়াকে দেখে আবার চলে যান। আমার প্রচন্ড রাগ হয় এই মানুষটাকে দেখলে।
এই মানুষটার চরিত্র ভীষণ খারাপ স্যার। বেশিরভাগ রাত তো উনি বাসায় ই আসেন না। মেয়েদের নিয়ে ফূর্তি করেন। আম্মুকে বলতেন ব্যাবসার কাজে বাইরে যাচ্ছেন। কিন্তু আমি তো জানতাম উনি কি করেন। আম্মুকে এসব বললে উল্টো আমার সাথেই রাগারাগি করতেন। আমার কথা বিশ্বাস করতেন না।
উনি সামিয়াকে দেখে চলে যাওয়ার পর আমি আম্মুকে বললাম,
"এই লম্পট মানুষটা এখানে যদি আসার'ই কথা ছিলো তাহলে আমাকে নিয়ে আসলে কেনো"?
আম্মু এটা শুনে আমার উপর রেগে যান। চিল্লাচিল্লি করেন।
আর এই চিল্লাচিল্লি হসপিটালের সবাই শুনেছিলো"।
–তো আরিফ সাহেব এসে নিজের অসুস্থ মেয়েকে একবার দেখেই চলে গেলেন?
হসপিটালে থাকলেন না"?
রাজু চিল্লায়া উঠলো,
–উনি কোনো মানুষদের কাতারেই পড়েন না স্যার। আমি চাচ্ছিনা এই মানুষটা নিয়ে কথা বলতে।
আমার তো মনে'হয় এই মানুষটা খুনিও। আমার বাবাকেও হয়তো এই মানুষটা খুন করেছে"।
আমি প্রচন্ড অবাক কন্ঠে বললাম,
–মানে? পাগলের মতো কি বলছো এসব"?
–মেহরাব স্যার আমি উল্টাপাল্টা কিছু বলছিনা। আমার বাবার বন্ধু ছিলেন এই আরিফ সাহেব।
একদিন একসাথে তারা গাড়ি করে কোথাও যাচ্ছিলেন।
এক্সিডেন্ট হলো। আমার বাবা মারা গেলেন। অথচ এই আরিফ সাহেব বেঁচে গেলেন। ওইসব পুরনো কথা বাদ দিন স্যার। এই আরিফ সাহেবকে নিয়ে আর কিছু বলতে চাইনা"।
রাজুর কথা শুনে স্পষ্ট বুঝতে পারলাম সে কতোটা ঘৃণা করে আরিফ সাহেবকে। আমি বললাম,
–বুঝলাম, আরিফ সাহেবের উপর তীব্র রাগ আছে তোমার। বাদ দিলাম এসব।
ওইরাতে তারপর কি হলো"?
–আমি আম্মুর সাথে রাগারাগি করে হসপিটালের নিচে চলে আসি। রাস্তায় প্রায় ঘন্টাখানেক হাঁটাহাঁটি করি।
আমার যখন ভীষণ রাগ হয় তখন রাস্তায় একলা একলা হাঁটলে আমার রাগ কমে যায়। 
আমার রাগ কমে যাওয়ার পর আবার কেভিনে ফিরে আসি।
তখন রাত ১২টা।
আমি দেখলাম আম্মু এবং সামিয়া দু'জনেই একটা সিটে ঘুমিয়ে পড়েছে।
আমিও অন্য একটা সিটে গিয়ে শুয়ে পড়ি। আমার চোখটা লেগে আসে স্যার। ঘুমিয়ে যাই। ঘুম যখন ভাঙে তখন দেখি আমার হাতে একটা রক্তাক্ত ছুরি। রুমটা এলেমেলো হয়ে আছে।
সিটের মধ্যে দেখি আম্মুর লাশ। ফ্লোরে সামিয়ার লাশ।
আমি তাড়াতাড়ি উঠে আম্মুর কাছে যাই। আমি তখনো কিছু বুঝে উঠতে পারছিলাম না। কিছু বুঝে উঠার আগেই দরজা দিয়ে একজন নার্স ঢুকে চিৎকার করে আওয়াজ করলো। ব্যাস। তারপর তো আপনি সব জানেন।
আমি খুন করিনি মেহরাব স্যার।
বিশ্বাস করুন আমি কিছু করিনি।
আমি'তো আমার আম্মুকে পৃথিবীর সবচাইতে বেশি ভালোবাসতাম"।
.

কথাগুলো শেষ করে রাজু আবারো কান্না শুরু করলো। আমি বুঝতে পারছিলাম এখানে রাজু কিছু করেনি। রাজু ঘুমে থাকার সময় কেউ এসে খুনটা করেছে।
কিন্তু এতোকিছু হলো রুমের ভিতর, আর রাজু কিছুই টের পেলোনা?
অবাক কন্ঠে আমি বললাম,
–তুমি বলছো তোমার আম্মু এবং সামিয়া একিই বেডে ঘুমিয়ে ছিলো। কিন্তু আমরা সামিয়ার লাশটা ফ্লোরে পাই।
এটার মানে হচ্ছে খুনির সাথে সামিয়ার হাতাহাতি হয়েছিলো, যার জন্য সামিয়াকে ফ্লোরের মধ্যে খুন করা হয়েছে। কিন্তু অবাক করা বিষয় হচ্ছে কেউ তোমাদের কেভিনে এসে তোমার আম্মুকে খুন করলো, নোংরামি করলো, সামিয়ার সাথে হাতাহাতি হলো, তারপর সামিয়াকেও খুন করলো। অথচ তুমি কিচ্ছু টের পেলেনা? এটা কিভাবে সম্ভব"?
রাজু ঢোঁক গিলে ভীত কন্ঠে বললো,
–আমি চোখ খুলার পর এটাই ভাবছিলাম স্যার। আমার মনে হচ্ছিলো আমি স্বপ্ন দেখছি। এতকিছু হলো অথচ আমি টের ই পাইনি। কিন্তু আমার ঘুম খুবই পাতলা স্যার। কোনো কিছুর হালকা শব্দ পেলেই আমার ঘুমটা ভেঙে যায়। কিন্তু ওইরাতে এমন হয়নি।
এটা কিভাবে হলো আমি জানিনা"।
রাজুর সাথে আর কোনো কথা বাড়ালাম না। কিন্তু আমি নিশ্চিত, এই ভয়ানক খুনটার পিছনে অনেক রহস্য লুকিয়ে আছে। যেটা আমাকে জানতেই হবে।
অনেকগুলো প্রশ্ন এখন মাথার ভিতর নাড়াচাড়া করছে,
"২জন নারীকেই খুন করলো কেনো?
"একিই রুমে রাজু থাকা সত্বেও রাজু কে খুন করলোনা কেনো"?
"আরিফ সাহেব এসে মেয়ের এই অবস্থা দেখেও হসপিটালে থাকলেন না কেনো"?
" আরিফ সাহেব কি খুনটা করেছেন?
না'কি রাজুর কোনো শত্রু"? না'কি অন্যকেউ?
সবচাইতে বড় যে প্রশ্ন,
"কেউ খুন করে লাশের সাথে শারীরিক সম্পর্কে করবে কেনো"?
উত্তর'গুলো আমাকে খুঁজে বের করতেই হবে। আর আমি নিশ্চিত, প্রতিটা প্রশ্নের উত্তর ওই হসপিটালেই পড়ে আছে।
.

~ মেহরাব নয়ন

সত্য ঘটনার পুলিশ ডায়েরী- মধু যখন বিশ

মধু যখন বিশ - সত্য ঘটনার পুলিশ ডায়েরী


বিগত ২০১২ সালে  মামলার বাদী শায়লা (ছদ্মনাম) এর  সহিত ৫ লক্ষ টাকা দেন মোহরে শাকিল (ছদ্মনাম)  বিবাহ হয় । বিবাহের পর নিজেদের বাড়ী না থাকায়  বিভিন্ন ভাড়া করা বাসায় একত্রে বসবাস করে।বসবাসকালীন প্রথমদিকে তাহাদের মধ্যে নিয়মিত শারীরিক সম্পর্ক হইত !  পরের দিকে এটায় কিছুটা ভাটা পড়িয়া যায়।  

 শায়লা একটি মেডিসিন কোম্পানিতে জব করে। সে সুবাদে টাকা পয়সা নিয়ে শাকিল  বিভিন্ন সময় শায়লাকে প্যাদানি দিলে একদিন প্রতিবাদী হয়ে যায়।  

 যৌতুকের দাবীতে শায়লাকে  মারধর করায় শায়লা এপ্রিল/১৭ মাসে   আদালতে শাকিল এর বিরুদ্ধে  সি আর কেস  দায়ের করেন। 

উক্ত  মামলায় আসামী শাকিল  সেপ্টেম্বর ২০১৭ মাসে    আদালতে হাজির  হইয়া জানায় যে, সে
শায়লা কে ২১.৪.২০১৬  তারিখ তালাক প্রদান করিয়াছে আর এর প্রমান হিসাবে 
শাকিল আদালতে তালাক নামা দাখিল করেন ।


অথচ মে/২০১৭ মাসে শাকিল আদালতে শায়লার বিরুদ্ধে একটি চুরি কেস দিয়েছিলেন।  উক্ত কেস এর আবেদনে  শাকিল শায়লা কে নিজের স্ত্রী হিসাবে উল্লেখ করেন।  
এবং কেসের আবেদনে শাকিল উল্লেখ করেন যে ' শায়লার সাথে সংসার করিতেছেন ও স্বামী হিসাবে সব দায়িত্ব পালন করিতেছেন।  

শাকিল মুলত  তালাক প্রদান করার বিষয় টি গোপন রাখেন এবং অন্য মানুষ দ্বারা শায়লার পক্ষে তালাকের নোটিশ রিসিভ করান।  
তালাকের পরেও শায়লাকে  না জানাইয়া
তাহার কাছ থেকে মধু পান করিতে থাকে   ।


 যাহা আইনানুগভাবে স্ত্রী না হওয়া সত্ত্বেও স্ত্রী বুঝাইয়া 
শারীরিক সম্পর্ক করার অপরাধ।যাহা আইনানুযায়ী রেইপ।  

- সাইয়েদ আসাদ 
- বাংলাদেশ পুলিশ

সত্য ঘটনা অবলম্বনে রচিত- পুলিশ কেস



#সত্য_ঘটনার (সামান্য করল্লা জুস মিশ্রিত)

পুলিশ এক্সট্রা ডায়েরী

#পাপিয়ার বয়স ৪৪ বছর তাহার স্বামী #বক্কার  একজন নিরীহ #চাকরিজীবি! তাহাদের সংসারে ০২ ছেলে ০১ মেয়ে। বড় ছেলে ** ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে, ২য় ছেলে ফোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে এবং মেয়ে *** উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭ম শ্রেনীতে লেখাপড়া করে। 
বক্কার চাকুরীর সুবাদে অন্য জেলায় থাকে..ছেলেরা থাকে দুরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে! 
পাপিয়া মেয়ে নিয়া ** বাজারে মার্কেট এর পিছনে  সংলগ্ন বাসায় বসবাস করে। পুলিশ ডায়েরী এখানে 
বিগত ৭/৮ বছর পূর্বে বক্কর তাহার জমি ০৯ লক্ষ টাকায় বিক্রি করিয়া এবং নিজের জমানো ৪/৫ লক্ষ টাকাসহ মোট ১৪,০০০০/-  (চৌদ্দ লক্ষ টাকা) মূলধন দিয়া *** বাজারে  ০১ টি কাপড়ের দোকান চালু করেন।নিজেই দোকানে ব্যবসা করিতেন!
 ২০১৬ সালে বক্কর একটি প্রাইভেট চাকরী পাওয়ায় এবং তাহার  স্ত্রী পাপিয়া  দোকানটি পরিচালনা করার আগ্রহ প্রকাশ করায় বক্কার তাহার বউ পাপিয়াকে  দোকানটি পরিচালনার জন্য দিয়া চাকুরী করতে চলিয়া যায়। 


*** বাজারে মার্কেট সংলগ্ন পাপিয়ার দোকানের কাছেই #মজনু বয়স ২৮ এর   একটি মোবাইল #হিংকিমিংকি দোকান আছে। মজনুর বউ ও ২ বাচ্চা আছে!তাহার গ্রামে বাড়ীতে থাকে!

পাপিয়া অবসরে দেখার জন্য  মাঝে মধ্যে জনি ভাই মিয়া খালিপা সানি লিওন অভিনীত পারিবারিক সিনেমা ডুকাতো মজনুর কাছ থেকে!

মজনু পাপিয়াকে ডাকিত ভাবি
তাই পাপিয়ার উপ্রে তাহার ছিল দাবী!


সেই সুবাদে  পাপিয়া ও মজনুর মধ্যে মধ্যে ঘনিষ্ট সম্পর্ক হয় তাহারা #সামাজিক দুরত্ব না মানিয়া! 
#জনিভাই ও #মিয়াখালিপার কারেক্টারে অভিনয়ে  লিপ্ত হয়।(ছেহ ছেহ)

এসব  নিয়া এলাকায় বিগত কয়েক মাস ধরিয়া বিভিন্ন ধরনের কথাবার্তা  হয়!

পাপিয়া মজনুকে বলে -- 
চিন্তা নাই ঠাকুর পো...
যত পার মার ঠা*
হোচট খেলে  বক্কার হবে ছেলের বাপ!


মজনু দেখল ঠিকিইত্ত্ব - 
খামু আমি - বিল দেবে বক্কার

বিষয়টি জেনে বক্কার ও তাহার ছেলেমেয়েরা খুবই মর্মাহত ও লজ্জিত হয়!
পাপিয়া ও মজনুর  গতিবিধি  ছেলেমেয়েরা অনুধাবন করিতে থাকেন।
গত ইং ২২/০৫/২০২০ তারিখে  দেবর মজনুকে নিয়ে পাপিয়া  ঘুরিতে  কাপ্তাই যায়। যাহা পাপিয়ার  বড় ছেলে দেখিয়া ফেলে।
  বড় ছেলে তার মাকে জিজ্ঞাসা করে -মজনুজে  কেনো সাথে এনেছে?
  উত্তরে পাপিয়া  বলে যে “সে তোমার মামা লাগে, সে আমার সাথে দোকানের মালামাল আনার জন্য চট্টগ্রাম যাইতেছে। সে যে আমার সাথে চট্টগ্রাম যাইতেছে, সেটা তোর বাবাকে বলিস না”। #ওরে মজারে..

চট্টগ্রাম যাইয়া পাপিয়া ও মজনু ব্যবসায়িক কাজে৩দিন  হোটেলে কাটায়! 

৪নাম্বার দিনে তাহারা রাঙামাটিতে যায়।
সেখানেও তাদের গুরুত্বপূর্ণ কাজ থাকায় বাড়িতে না যাইয়া হোটেলে যাত্রী যাপন করে!  

সেখান থেকে কাজ শেষ করিয়া তাহারা  বক্কারের  খালী বাড়ীর তালা ভাঙ্গিয়া সেখানে রাত্রিযাপন করে। পুলিশ ডায়েরী এখানে 
(কাজ শেষ না হইলে কি আর করা)
পরদিন ২৪/০৫/২০২০ ইং তারিখ সকাল ১১.৩০ ঘটিকায় বাড়ীতে থাকা বক্কারের  জায়গা জমির কাগজপত্র, ০১ ভরি স্বর্ণালংকার, ২০ হাজার টাকার প্রাইজবন্ড, কয়েকটি বিদেশী কম্বল সহ কিছু মূল্যবান ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী নিয়ে পাপিয়া ও মজনু গুরুত্বপূর্ণ কাজে অজ্ঞাত স্থানে চলিয়া যায়। 
বক্কার এত কাহিনী যখন টের পাইলো - তৎক্ষনাৎ থানায় অবগত করিলে পুলিশ কেস করে!  

#ছিদ্রসন্ধানী
পাপিয়া ও মজনু অবশ্য এরেস্ট হইছে!  কি আর বলব দাদা,মজনুরা রোগা শরীরের হইলেও চেচিস ভালই থাকে!


আর পাপিয়ার যত বয়স বাড়ে ততই বলে - " - আমি আর পারছিনা"
(কি করতে বলছে আর কি পারছেনা তা আমি সরল মানুষ কিছুই বুঝিনাই🤔)

***(ছেলেমেয়েদের কথা চিন্তা করে লোকেশন আর নাম ১৮/২০ করা হইছে) 
প্লিজ #শেয়ার করুন - #সচেতন হউন!