তাহমিদ চৌধুরী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
তাহমিদ চৌধুরী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ২৯ জুন, ২০২০

একবিংশ শতাব্দীর ব্যাংকিং ব্যবস্থা



একবিংশ শতাব্দীর ব্যাংকিং ব্যবস্থা
- তাহমিদ চৌধুরী 
তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বিংশ শতাব্দীর শেষ দশক ও একবিংশ শতাব্দীর শুরুর দশককে সুবর্ণ সময় বলা যায়। যে সময়টাতে দেশগুলো অর্থনৈতিক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে। অর্থনৈতিকভাবে মুক্তিলাভের জন্য একটি দেশের ব্যাংকিং খাত অনেকাংশে নির্ভর যোগ্য।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য এই দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক , সরকারি বেসরকারি ব্যাংক অসামান্য অবদান রেখে যাচ্ছে।দেশের কৃষি শিল্প ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প সহ সকল অর্থনৈতিক খাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ অন্যান্য ব্যাংকের অবদান অনস্বীকার্য। প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যাংকিং সুবিধা পৌঁছানো যাচ্ছে দেশের সরকারও ব্যাংকিং খাতের নীতিনির্ধারকদের সদিচ্ছার কারণেই।

কৃষিতে দেশের বেহাল অবস্থা থেকে আজ আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ । কৃষকরা 10 টাকায় ব্যাংক হিসাব খোলার সুযোগ পাচ্ছে , সঠিক খাত দেখিয়ে সরকার থেকে ভর্তুকিতে ঋণ পাচ্ছে। গ্রামের মানুষের সঞ্চয় প্রবণতা অনেকাংশে বেড়েছে । শিল্পক্ষেত্রের ঋণের সুবিধা সহ আমদানি-রপ্তানিতে দেশের ব্যাংকিং খাত অবিরাম সেবা দিয়ে যাচ্ছে। ডিজিটালাইজেশনের এই যুগে গ্রাহক সেবার মান বেড়েছে বহুগুণে । গ্রাহকরা এখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে টাকা উত্তোলন ও জমা রাখতে হয় না,  হাতের কাছেই আছে এটিএম সেবা। 

ব্যাংকিং খাত যে শুধু ব্যবসা করা যাচ্ছে তা নয়,  শিক্ষাক্ষেত্রে কোটি কোটি টাকার শিক্ষাবৃত্তি দিচ্ছে বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংক, দারিদ্রতা দূরীকরণে ব্যাংকের অবদান, শহরের পাশাপাশি গ্রামে প্রচুর পরিমাণে শাখা স্থাপন করা হচ্ছে যাতে করে গ্রামের মানুষের দোরগোড়ায় ব্যাংকিং সুবিধা থাকে। অনেকগুলো ব্যাংক মোবাইল ব্যাংকিং সুবিধা চালু করেছে যাতে করে মানুষ ঘরে বসে ব্যাংকিং সেবা পাচ্ছে। বিশ্বায়নের এই যুগে ঘরে বসে বিভিন্ন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কার্ড ব্যবহারের সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে। 

এসবের পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতে একবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে যেভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে তা আর কোন একক খাত এককভাবে করতে পারেনি। একটি উন্নয়নশীল দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে অবশ্যই বড় ব্যাপার। 

তবে সবকিছু ছাপিয়ে ব্যাংকিং খাত এখন কিছুটা চাপের মুখে আছে। সরকারের কিছু অদূরদর্শী নীতি' ব্যাংকিং খাতের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যাংক বিগত বছর ধরে চলমান ৮ শতাংশ থেকে ১২ শতাংশ হার সুদে ৩ বছর থেকে ১৫ বছর মেয়াদি বিভিন্ন সঞ্চয় প্রকল্প যেমন দেড়গুণ বেনিফিট, ডাবল বেনিফিট, ত্রিপল বেনিফিট, মিলিনিয়র প্লাস, কোটিপতি প্লাস ইত্যাদি নানা প্রলুব্ধকারী স্কিমের সুদের হার এখনও কমাতে পারছেনা। সেখানে ৯ শতাংশ হার সুদে ঋণ বিনিয়োগ গোটা ব্যাংক খাতকে অস্বস্তিতে ফেলে দেয়া হয়েছে। অনেক ব্যাংকের মাসিক গড় আয় কমে গেছে। অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি) আশঙ্কা করছে যে, প্রতিটি ব্যাংকের বাৎসরিক আয় গড়ে ১৫০ কোটি টাকার মত করে কমে যাবে”। এ হিসাবে দেশের এ বছরে পুরো ব্যাংক খাতের আয় প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকার মতো কমে যাবে। 

ব্যাংক একটি দেশের অর্থনৈতিক উপকরণসমুহকে সমন্বিত করে, আর্থিক সহায়তা দিয়ে, পরিচর্যা করে, উপদেশ দিয়ে, বুদ্ধি পরামর্শ দিয়ে উদ্যোক্তার ভবিষ্যত স্বপ্নের কাঠামোগত উন্নয়ন সাধন করে। আবার বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে মূল্য পরিশোধের নিশ্চয়তা কিংবা অভয় দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পরিচিতি দান করে। দেশের ব্যবসা খাতসমূহকে সমৃদ্ধ করে। বলা চলে দেশের শিল্প ব্যবসায় খাত আর দেশের ব্যাংক খাত ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২০

করোনা সংকটকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভূমিকা



"বাংলাদেশ ব্যাংক"  বাংলাদেশ সরকার ও দেশে পরিচালিত সকল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অভিভাবকের ভূমিকা পালন করে থাকে। বিশ্ব তথা দেশের এমন সংকটাপন্ন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের আশু পদক্ষেপ নেওয়া সময়ের দাবি ছিল। এমন উদ্ভুত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ঠিক সেই কাঙ্ক্ষিত অভিভাবকসুলভ আচরণই করেছে।

করোনা নিয়ন্ত্রণে দেশের সব মানুষই কিছু না কিছু অবদান রেখেছে। কেউ অবদান রেখেছে প্রত্যক্ষ সেবা দিয়ে কেউবা পরোক্ষভাবে। যেমন বলা যায় সাধারণ মানুষ অবদান রেখেছে সরকারের গৃহীত আইন ও লকডাউন নীতি অনুসরণ করে। ঠিক সামনের সারিতে থেকে সরকারের হয়ে কাজ করেছে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকটি।

করোনার প্রাক্কালে 31 শে মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষণা করেছে আগামী 30 সেপ্টেম্বর 2020 পর্যন্ত কোন ধরনের ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা লাগবে না এবং এই সময়ে ঋণগ্রহীতারা ঋণখেলাপিরর আওতা বহির্ভূত হবেন। যেসব ব্যবসায়ীরা আমদানি-রপ্তানির সাথে জড়িত বিশেষ করে কাঁচামাল ও জীবনরক্ষাকারী ওষুধ আমদানি রপ্তানির সাথে জড়িত তাদের এলসি ব্যবহারের মেয়াদ বৃদ্ধি সহ কিছু শর্ত শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক যাতে করে করোনা পরিস্থিতিতে এমন ব্যবসায়ীরা খারাপ অবস্থার শিকার না হোন। এছাড়াও রিপু ইন্টারেস্ট রেট 6 শতাংশ থেকে  কমিয়ে 5 দশমিক 75 শতাংশ নামিয়ে এনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকটি। 

এগুলো ছাড়াও সরকারি ট্রেজারি পুনঃক্রয় ,প্রমোশন অফ পেমেন্ট সার্ভিস,  তারল্য নীতি পরিবর্তন সহ বেশকিছু জনগুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। 27 এপ্রিল কৃষি ঋণের ক্ষেত্রে পূর্বের তুলনায় কম সুদে ঋণের ব্যবস্থা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক যেখানে ব্যাংকটি ভর্তুকি দিবে পাঁচ শতাংশ। কৃষি ক্ষেত্রে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে যেন করোনা পরিস্থিতিতে অন্তত কৃষিখাতে উন্নতির ছোঁয়া পাওয়া যায়। 12 মে 2020 বাংলাদেশ ব্যাংক বৈদেশিক আয়ের  ক্ষেত্রে নতুন একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যেখানে প্রবাসীদের প্রেরিত অর্থের বিনিময়ে তাদেরকে 2% সুদ দেওয়া হবে। এমন সিদ্ধান্তের ফলাফল 25 জুন দেশের মানুষ দেখেছে যে দিন দেশের ইতিহাসে প্রথম 35.09 বিলিয়ন রিজার্ভ জমা হয় এবং পৃথিবীর 39 তম শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ হিসেবে পরিচিত হয় বাংলাদেশ।
 
অর্থনীতির বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের পাশাপাশি দেশের সবগুলো ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বিশেষ সুবিধার ব্যবস্থা করেছে ব্যাংকটি । এমন উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যারা ব্যাংকে কাজ করেছে তাদের জন্য স্পেশাল ইন্সেন্টিভ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। 

সর্বোপরি বলা যায় একজন অভিভাবক যেভাবে তার পরিবারকে আগলে রাখে , বাংলাদেশ ব্যাংকও সংকটাপন্ন পরিস্থিতিতে সরকার ও দেশের মানুষের জন্য অভিভাবকের ভূমিকাই পালন করেছে


©tahmidchowdhury94@gmail.com

বুধবার, ২৪ জুন, ২০২০

তাহমিদ চৌধুরী সংগৃহীত টীকা

১. লাইন প্রথা কি
 উত্তরঃ লাইন প্রথা হল মূলত আসাম রাষ্ট্রের স্বদেশীয় সম্প্রদায়কে অভিবাসী মুসলমান বাংলাভাষী জনগোষ্ঠী থেকে পৃথক করে রাখার বিশেষ ব্যবস্থা। আদিবাসী ও বাঙালি অভিবাসীদের মধ্যে নানা কারণে যেন দ্বন্দ্ব সৃষ্টি না হয় , সেই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই লাইন প্রথার প্রবর্তন হয়।

২. স্বায়ত্তশাসন বলতে কি বুঝায়..
-উত্তরঃ স্বায়ত্তশাসন হলো যে প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারের অর্থ সহায়তায় পরিচালিত হয় কিন্তু প্রশাসন নিজেদের নিয়মে পরিচালিত হয়। বাংলাদেশের বাংলাদেশে কিছু প্রতিষ্ঠান  স্বায়ত্তশাসনের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। 
যেমন- বাংলাদেশ ব্যাংক, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, বিচার বিভাগ, দুদক ইত্যাদি 

৩. উদারতাবাদ ও রক্ষণশীলতা পার্থক্য..
-উত্তরঃ উদারতাবাদ হলো রাষ্ট্রীয় কতৃত্ববাদ এর বিরুদ্ধে ব্যক্তি স্বাধীনতা নীতি প্রতিষ্ঠা করা। যেখানে রক্ষণশীলতা হল দ্রুত পরিবর্তনের বিরোধী ,যেটা ব্যক্তিস্বাধীনতার ঊর্ধ্বে  উঠে সমাজের ঐতিহ্যকে ধরে রাখার প্রতি গুরুত্ব প্রদান করে। 

৪ .প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে পার্থক্য কি..
-উত্তরঃ মুখ্যমন্ত্রী হল একটি দেশের কোন রাজ্যের সরকার প্রধান  অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী হলেন সকল রাজ্য তথা দেশের ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচিত সরকার প্রধান। 

৫. আধিপত্যবাদ কি..?
উত্তরঃ আধিপত্যবাদ হলো নিজেদের শক্তি-সামর্থ্য কে পুঁজি করে সমাজের বা কোন ভূখণ্ডের সংখ্যালঘু অথবা অবহেলিত  জনগোষ্ঠীর উপর নিজেদের প্রতিষ্ঠিত ধর্ম ,সংস্কৃতি, ঐতিহ্য চাপিয়ে দেওয়া। ধর্ম সংস্কৃতি ছাড়াও আধিপত্যবাদের বিস্তৃতি রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রেও সুদুরপ্রসারী।

- তাহমীদ চৌধুরী
- চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
- tahmidchowdhury94@gmail.com